৭৯ বছর পর ফের ভাঙনের আশঙ্কা? স্কটল্যান্ড-ওয়েলস-নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের চাপে যুক্তরাজ্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন

স্কটল্যান্ড-ওয়েলস-নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের চাপে যুক্তরাজ্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের সঙ্গে ব্রিটেনের নাম জড়িয়ে রয়েছে ইতিহাসের পাতায়। প্রায় আট দশক পরে এ বার উল্টো ছবি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে…

September 16, 2026
1 min read

স্কটল্যান্ড-ওয়েলস-নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের চাপে যুক্তরাজ্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন

১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের সঙ্গে ব্রিটেনের নাম জড়িয়ে রয়েছে ইতিহাসের পাতায়। প্রায় আট দশক পরে এ বার উল্টো ছবি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে ব্রিটেনেই। স্কটল্যান্ড, ওয়েলস এবং নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের জাতীয়তাবাদী নেতৃত্ব নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকারের পক্ষে একজোট হয়েছে। যুক্তরাজ্যের সাংবিধানিক কাঠামোয় বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়েও তারা সরব।

তিন অঞ্চলের নেতারা সম্প্রতি একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছেন। সেখানে নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার এবং যুক্তরাজ্যের সাংবিধানিক ব্যবস্থায় পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে। স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার জন সুইনি, ওয়েলসের নেত্রী রুন আপ ইওরওয়ার্থ এবং নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার মিশেল ও’নিল কার্ডিফের বৈঠকে ওই সমঝোতায় সই করেন।

তবে তিন অঞ্চলই এখনই যুক্তরাজ্য ছেড়ে বেরিয়ে যাচ্ছে— এমন কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। স্কটল্যান্ড, ওয়েলস এবং নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের নিজস্ব পার্লামেন্ট ও সরকার থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ কিছু ক্ষমতা এখনও লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টারের হাতে। জাতীয়তাবাদী দলগুলির দাবি, স্থানীয় ভোটে নির্বাচিত সরকারগুলির হাতে আরও বেশি ক্ষমতা থাকা উচিত।

তিন অঞ্চলের রাজনৈতিক অবস্থানও এক নয়। স্কটল্যান্ডে স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টি বা এসএনপি দীর্ঘদিন ধরে স্বাধীনতার দাবি তুলে আসছে। ২০১৪ সালে স্বাধীনতা নিয়ে গণভোটে ৫৫.৩ শতাংশ ভোটার যুক্তরাজ্যের সঙ্গে থাকার পক্ষে এবং ৪৪.৭ শতাংশ স্বাধীনতার পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে ব্রেক্সিট এবং লন্ডনের সঙ্গে রাজনৈতিক মতপার্থক্য স্বাধীনতার প্রশ্নটিকে ফের সামনে এনেছে।

বিশেষ করে ২০১৬ সালের ব্রেক্সিট গণভোট গুরুত্বপূর্ণ। স্কটল্যান্ডে ৬২ শতাংশ ভোটার ইউরোপীয় ইউনিয়নে থাকার পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন। অথচ গোটা যুক্তরাজ্যের ফলাফলে ব্রেক্সিট কার্যকর হয়। স্বাধীনতাপন্থীদের অন্যতম যুক্তি, স্কটল্যান্ডের ভোটারদের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত সব সময় ওয়েস্টমিনস্টারের সংখ্যাগরিষ্ঠতার সঙ্গে মেলে না। এই পরিস্থিতিকে তাঁরা ‘গণতান্ত্রিক ঘাটতি’ বলে বর্ণনা করেন।

ওয়েলসের ছবিটা তুলনায় আলাদা। প্লেড কামরি স্বাধীনতার পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক শক্তি হলেও সেখানে বিচ্ছেদের সমর্থন স্কটল্যান্ডের তুলনায় কম। সাম্প্রতিক একটি সমীক্ষায় ৩২ শতাংশ মানুষ স্বাধীনতার পক্ষে মত দিয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। ফলে ওয়েলশ জাতীয়তাবাদীদের একাংশ আপাতত সম্পূর্ণ স্বাধীনতার পাশাপাশি ওয়েলসের হাতে আরও বেশি ক্ষমতার দাবিতেও জোর দিচ্ছেন।

নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের প্রশ্নটি আবার আরও আলাদা। সেখানে মূল বিতর্ক যুক্তরাজ্য থেকে স্বাধীন হওয়া নয়, আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে পুনরায় একীভূত হওয়া নিয়ে। ১৯৯৮ সালের গুড ফ্রাইডে চুক্তি অনুযায়ী, সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ চাইলে ভবিষ্যতে গণভোটের মাধ্যমে আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে এক হওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

তিন অঞ্চলের বর্তমান সমঝোতার পিছনে তাই একাধিক রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক প্রশ্ন রয়েছে। ব্রেক্সিটও সেই বিতর্ককে নতুন মাত্রা দিয়েছে। ২০১৬ সালে স্কটল্যান্ড ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডে যথাক্রমে ৬২ শতাংশ এবং ৫৫.৮ শতাংশ ভোটার ইইউ-তে থাকার পক্ষে ছিলেন।

স্বাধীনতাপন্থী দলগুলির একটি অংশ মনে করে, ভবিষ্যতে যুক্তরাজ্য থেকে আলাদা হলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে নতুন সম্পর্ক তৈরির সুযোগ পাওয়া যেতে পারে। তাঁদের মতে, তাতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং অর্থনীতির ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। অন্য দিকে, এই ধরনের সাংবিধানিক পরিবর্তনের বাস্তবায়ন কী ভাবে হবে, তার কোনও নির্দিষ্ট রূপরেখা এখনও তৈরি হয়নি।

ফলে স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের সাম্প্রতিক ঐক্য যুক্তরাজ্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করলেও, দেশটি ভেঙে যাওয়ার কোনও তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত হয়েছে— এমনটা বলা যায় না। বরং আগামী দিনে ওয়েস্টমিনস্টার এবং তিন অঞ্চলের সরকারের মধ্যে ক্ষমতার সম্পর্ক ও সাংবিধানিক পরিবর্তনের দাবিই এই বিতর্কের কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *