৭০০ গ্রাম ওজনের জন্য সোনার লড়াই থেকে ছিটকে সুচিকা!
এক বছর আগে প্যারিস অলিম্পিক্সে মাত্র ১০০ গ্রাম ওজন বেশি থাকায় কুস্তির ফাইনালে নামতে পারেননি বিনেশ ফোগাট। এ বার এশিয়ান গেমসে অনেকটা একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হলেন ভারতের মিক্সড মার্শাল আর্টস প্রতিযোগী সুচিকা তরিয়াল। তবে তাঁর ক্ষেত্রে ব্যবধান ছিল ৭০০ গ্রাম। পয়েন্টের বিচারে ম্যাচে কোনও প্রতিযোগীকে এগিয়ে রাখা না গেলেও ওজনের নিয়মে হেরে সোনার লড়াই থেকে ছিটকে গেলেন হরিয়ানার এই ক্রীড়াবিদ।
মিক্সড মার্শাল আর্টসের সেমিফাইনালে সিঙ্গাপুরের হুই হুন তেওর মুখোমুখি হয়েছিলেন সুচিকা। প্রথম রাউন্ডে জয় পান তেও। দ্বিতীয় রাউন্ডে দুর্দান্ত ভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে সমতা ফেরান ভারতীয় প্রতিযোগী। ফলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত এক মিনিটের রাউন্ডে।
সেখানেও দুই প্রতিযোগীকে আলাদা করা যায়নি। প্রথমে ১০ জন বিচারক তেওকে জয়ী ঘোষণা করেন। সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপত্তি জানায় ভারতীয় দল। পরে বিচারকেরা জানান, পয়েন্টের ভিত্তিতে কোনও একজনকে জয়ী ঘোষণা করা সম্ভব নয়। ফলে ম্যাচটি টাই ঘোষণা করা হয়।
এর পরেই কার্যকর হয় এশিয়ান মিক্সড মার্শাল আর্টসের নিয়ম। আর সেখানেই সুচিকার স্বপ্ন ভেঙে যায়। ম্যাচের আগে মাপা ওজনে তেওয়ের তুলনায় সুচিকা ৭০০ গ্রাম বেশি ছিলেন। টাই ম্যাচের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী ওজনের ভিত্তিতে বিজয়ী নির্ধারণ করা হয়। সেই হিসাবে জয় পান তেও। সুচিকাকে ব্রোঞ্জ পদক নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়।
ঘটনার পর আবেগ সামলাতে পারেননি ভারতীয় প্রতিযোগী। রেফারির সিদ্ধান্ত ঘোষণার সময় প্রথমে তাঁর কাছে যেতে চাননি সুচিকা। পরে কোচের নির্দেশে এগিয়ে যান। রেফারি তেওয়ের হাত তুলে বিজয়ী ঘোষণা করার পর মাটিতে বসে পড়েন তিনি। প্রতিপক্ষের সঙ্গে হাতও মেলাননি। চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি সুচিকা। কোচেরা তাঁকে শান্ত করার চেষ্টা করেন।
ভারতের মিক্সড মার্শাল আর্টস ফেডারেশনের সভাপতি নিখিল কুন্ডে সংবাদসংস্থা পিটিআই-কে জানান, ভারতীয় দল আপত্তি জানানোর পর বিচারকেরা ম্যাচটি ড্র ঘোষণা করেন। তার পর ম্যাচের আগে মাপা ওজনের ভিত্তিতে বিজয়ী নির্ধারণ করা হয়। সুচিকার ওজন ৭০০ গ্রাম বেশি হওয়ায় তাঁকে ব্রোঞ্জে থামতে হয়েছে।
কী রয়েছে নিয়মে?
এশিয়ান মিক্সড মার্শাল আর্টসের নিয়ম অনুযায়ী, কোনও ম্যাচ টাই হলে প্রথমে দেখা হয় দুই প্রতিযোগীকে রেফারি কত বার সতর্ক করেছেন। সতর্কবার্তার সংখ্যাও সমান হলে সতর্ক করার কারণ ও রেফারির মন্তব্য খতিয়ে দেখা হয়। সেখানেও পার্থক্য না পাওয়া গেলে ম্যাচের আগের ওজন বিবেচনা করা হয়। সেই ওজনও সমান হলে ম্যাচের পরের ওজন দেখা হয়।
সুচিকার ক্ষেত্রে শেষ পর্যন্ত ম্যাচের আগের ওজনই পার্থক্য তৈরি করে। মাত্র ৭০০ গ্রাম ব্যবধান তাঁর পক্ষে সোনার লড়াইয়ে যাওয়ার রাস্তা বন্ধ করে দেয়। পয়েন্টে হারেননি তিনি, কিন্তু নিয়মের বিচারে সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিতে হল ভারতীয় ক্রীড়াবিদকে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।