‘হামজা আলি’ হতে রণবীর সিংয়ের ভয়ংকর ট্রান্সফরমেশন!
বক্স অফিসে দারুণ সাফল্য পেয়েছে ‘ধুরন্ধর দ্য রিভেঞ্জ’। ছবির দুই পর্বেই কেন্দ্রীয় চরিত্রে দেখা গেছে রণবীর সিং-কে। প্রথম পর্বে গুপ্তচর হামজ়া আলি মাজ়ারি হিসেবে তাঁর তীব্র, রাফ লুক দর্শকদের নজর কেড়েছে। পরবর্তী অংশে আবার জসকিরাত সিংহ রাঙ্গির চরিত্রেও নতুনভাবে ধরা দিয়েছেন তিনি।
তবে পর্দার এই রূপান্তরের পেছনে ছিল কঠোর শারীরিক প্রস্তুতি, নিয়ন্ত্রিত ডায়েট এবং টানা পরিশ্রম।
⚡ চরিত্র বদলের জন্য শরীরকেও বদলাতে হয়েছে
এই ছবির জন্য রণবীরকে বারবার শরীরের ওজন নিয়ে পরীক্ষার মধ্যে যেতে হয়েছে—কখনও বাড়াতে হয়েছে, আবার কখনও কমাতে হয়েছে। তবে সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং ছিল হামজ়া আলি চরিত্রটি।
রণবীরের ফিটনেস ট্রেনার মুস্তফা আহমেদ জানিয়েছেন, চরিত্রটির মধ্যে “একটা পশুসুলভ শক্তি ও ভর” দেখানো জরুরি ছিল। সেই কারণেই খুব অল্প সময়ের মধ্যে ওজন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
🍗 ৬ সপ্তাহের কঠিন ডায়েট প্ল্যান
মুস্তফার কথায়, শুরুতে রণবীরের ওজন ছিল প্রায় ৭৬–৭৭ কেজি। মাত্র ছ’ সপ্তাহের মধ্যে সেটি বাড়িয়ে ৮৭–৮৮ কেজি করা হয়।
এই পরিবর্তনের জন্য তার দৈনিক ক্যালোরি ইনটেক ৩০০০–৩৬০০ থেকে বাড়িয়ে ৩৬০০–৪০০০ ক্যালোরি করা হয়।
এর মধ্যে প্রায় ৬০০–৭০০ ক্যালোরি ছিল শুধুমাত্র প্রোটিন থেকে। দিনে মোটামুটি ২৪০ গ্রাম প্রোটিন গ্রহণ করতেন তিনি, যার বড় অংশ আসত মুরগি ও লাল মাংস থেকে।
🏋️ খাওয়ার ফাঁকেও চলত কঠোর ট্রেনিং
শুধু খাবার নয়, সমানভাবে কঠিন ছিল তার ওয়ার্কআউট রুটিনও। শুটিংয়ের বিরতিতেও তিনি ওয়েট ট্রেনিং চালিয়ে যেতেন।
মুস্তফা জানান, রণবীর এমন একজন অভিনেতা, যাকে নির্দেশ দিলেই তিনি পুরোপুরি মেশিনের মতো কাজ শুরু করে দেন। শারীরিক পরিবর্তনের প্রতি তাঁর মানসিক ফোকাস ছিল অসাধারণ।
🎬 দিনে ১৮ ঘণ্টার কঠিন শিডিউল
ছবির শুটিং চলত প্রায় ১২ ঘণ্টা ধরে। তার বাইরে আরও ৫–৬ ঘণ্টা অ্যাকশন সিকোয়েন্সের রিহার্সাল করতেন রণবীর।
সব মিলিয়ে প্রায় ১৮ ঘণ্টার মতো ব্যস্ত রুটিনের মধ্যেই চলত তাঁর ট্রান্সফরমেশন প্রক্রিয়া। এই চাপের মধ্যেও তিনি চরিত্রের প্রতি সম্পূর্ণ নিবেদিত ছিলেন।
🔄 আবার আগের ফিটনেসে ফেরা সহজ নয়, তবু দক্ষ অভিনেতা তিনি
প্রশিক্ষকের মতে, রণবীর শুধু ওজন বাড়াতেই নয়, আবার দ্রুত আগের ফিটনেসে ফিরে আসতেও সমান দক্ষ। শরীরকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষেত্রে তাঁর বোঝাপড়া খুবই উন্নত।
⭐ পর্দার আড়ালের কঠিন পরিশ্রমই তৈরি করেছে এই চরিত্র
হামজ়া আলি ও জসকিরাত সিংহ রাঙ্গির মতো ভিন্ন দুই চরিত্রে বিশ্বাসযোগ্যতা আনার জন্য রণবীরের এই শারীরিক রূপান্তরই মূল শক্তি হিসেবে কাজ করেছে।
দর্শকের চোখে যা এক চমক, তার পেছনে ছিল কঠোর ডায়েট, শৃঙ্খলা আর অসাধারণ সহনশীলতার এক দীর্ঘ লড়াই।