৪২ বছরে অ্যাপোলো!
ভারতের স্বাস্থ্য পরিষেবার ইতিহাসে এক বড় মোড় ঘোরানো মুহূর্ত ছিল ১৯৮৩ সাল। সেই বছর চেন্নাইয়ে প্রতাপ সি রেড্ডি প্রতিষ্ঠা করেন অ্যাপোলো হাসপাতাল— দেশের প্রথম কর্পোরেট হাসপাতাল। চার দশক পার করে আজ অ্যাপোলো শুধু একটি হাসপাতালের নাম নয়, বরং বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ স্বাস্থ্যসেবা প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। ১৮৫টি দেশে ২০ কোটিরও বেশি মানুষের কাছে চিকিৎসা পৌঁছে দিয়ে তারা উদ্যাপন করছে প্রতিষ্ঠার ৪২তম বছর।
গত চার দশকে অ্যাপোলো হাসপাতালের অর্জন বিস্ময়কর। ইতিমধ্যেই তারা সম্পন্ন করেছে প্রায় ৫১ লক্ষ অস্ত্রোপচার। তার মধ্যে রয়েছে ২৭ হাজার অঙ্গ প্রতিস্থাপন। বিশ্বমানের চিকিৎসার সুযোগ করে দেওয়ার পাশাপাশি, অ্যাপোলো প্রমাণ করেছে ভারতও আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যসেবার দুনিয়ায় শীর্ষে পৌঁছতে পারে। হৃদ্রোগের চিকিৎসায় বিশেষ কৃতিত্বের দাবিদার এই সংস্থা ইতিমধ্যেই ৩ লক্ষেরও বেশি অ্যাঞ্জিয়োপ্লাস্টি এবং ৫ লক্ষেরও বেশি জটিল সার্জারি করেছে।
বর্তমানে অ্যাপোলো ৭৯টি হাসপাতাল, ১০,৪০০-রও বেশি শয্যা, ৬,৮০০ ফার্মেসি, ২,৯০০ ক্লিনিক এবং ৫০০ টেলিমেডিসিন সেন্টারের মাধ্যমে বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। শুধু চিকিৎসা নয়, কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও তাদের অবদান অসামান্য। স্বাস্থ্যক্ষেত্রে ১১ লক্ষেরও বেশি মানুষকে কাজের সুযোগ দিয়েছে অ্যাপোলো। একই সঙ্গে দক্ষ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে তারা।
প্রতিষ্ঠা দিবসের ভাষণে গ্রুপের চেয়ারম্যান প্রতাপ সি রেড্ডি বলেন, “অ্যাপোলোর জন্ম শুধু একটি হাসপাতালের সূচনা নয়, বরং এক নতুন স্বাস্থ্য আন্দোলনের শুরু। চার দশকে আমরা ২০ কোটিরও বেশি মানুষের জীবন স্পর্শ করেছি এবং চিকিৎসাকে নতুন সংজ্ঞা দিয়েছি। আমাদের লক্ষ্য সব সময়ই বিশ্বমানের চিকিৎসাকে সাধারণ মানুষের কাছে সহজলভ্য করা।”
অ্যাপোলোর এগজ়িকিউটিভ ভাইস চেয়ারপার্সন পৃথা রেড্ডি বলেন, “একটি দেশের শক্তি নিহিত থাকে তার জনগণের সুস্থতার উপর। চিকিৎসক, নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মীরাই এই অগ্রগতির প্রকৃত নায়ক। আমরা শুধু হাসপাতাল গড়িনি, তৈরি করেছি মানবসম্পদ।” ম্যানেজিং ডিরেক্টর সুনীতা রেড্ডিও যোগ করেন, “আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে রোগী। স্বাস্থ্যসেবা, গবেষণা বা ডিজিটাল হেলথ— সবেতেই আমরা আস্থা ও ভরসা তৈরি করতে চাই।”
ভারতের স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়াতে অ্যাপোলো নানা উদ্ভাবনী পদক্ষেপ নিয়েছে। এশিয়ার প্রথম প্রোটন ক্যানসার সেন্টার, ভারতের প্রথম এআই-ভিত্তিক প্রিসিশন অঙ্কোলজি সেন্টার এবং সাইবার নাইফ রোবোটিক রেডিওসার্জারি সিস্টেম চালু করে আধুনিক চিকিৎসাকে আরও উন্নত করেছে তারা।