ক্রিকেটারদের টার্গেট করে সমাজমাধ্যমে ছড়ানো হচ্ছে ঘৃণা!
ক্রিকেট এখন শুধু মাঠের লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নেই। খেলার বাইরেও চলছে আর এক অদৃশ্য যুদ্ধ— সমাজমাধ্যমের যুদ্ধ। আর সেই যুদ্ধের নেপথ্যে রয়েছে সংগঠিত ট্রোল চক্র। সাম্প্রতিক এক রিপোর্টে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য— নির্দিষ্ট ক্রিকেটারকে গালিগালাজ, কুমন্তব্য বা ঘৃণাভাষণের নিশানা বানাতে টাকা দিয়ে ভাড়া করা হচ্ছে লোক।
সম্প্রতি আইপিএলের একটি ম্যাচে Virat Kohli-র সঙ্গে মাঠে উত্তপ্ত মুহূর্ত তৈরি হয়েছিল Travis Head-এর। সেই ঘটনার পর থেকেই সমাজমাধ্যমে ব্যাপক ট্রোলিংয়ের মুখে পড়েন হেড। শুধু সমালোচনাই নয়, তাঁর পরিবারকেও লক্ষ্য করে কুরুচিকর মন্তব্য করা হয় বলে অভিযোগ।
এই ঘটনা নতুন নয়। এর আগেও Shreyas Iyer-এর বোন শ্রেষ্ঠা আয়ার সমাজমাধ্যমে বিষাক্ত মন্তব্য নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। তবে এখন বিষয়টি আরও ভয়ঙ্কর রূপ নিয়েছে বলেই মনে করছেন অনেকে।
সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, কিছু সংগঠিত সংস্থা নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে এই ধরনের ‘অনলাইন প্রচার’ চালায়। ২৫ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত খরচ করে কোনও ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ভাবে কুমন্তব্য ছড়ানো যায়। শুধু নেতিবাচক পোস্ট নয়, এমন ভাষা ব্যবহার করা হয় যাতে সেই ক্রিকেটার এবং তাঁর পরিবার মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।
এক সূত্রের দাবি, এই কাজের জন্য আলাদা কৌশলও তৈরি করা হয়। কীভাবে কোনও বিষয়কে ‘ট্রেন্ডিং’ করা যাবে, কত ঘণ্টা ধরে সেটিকে আলোচনায় রাখা হবে— সবই নাকি নির্ধারণ করে দেয় ওই সংস্থাগুলি। সেই অনুযায়ী বাড়ে পারিশ্রমিকও।
সমাজমাধ্যমে জনপ্রিয়তা এখন ক্রিকেটারদের আয়ের বড় উৎস। ইনস্টাগ্রাম, এক্স বা অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে একটি পোস্ট থেকেই মোটা অঙ্কের অর্থ উপার্জন করেন তারকারা। সেই কারণেই অনেক ক্রিকেটার নিজেদের ডিজিটাল উপস্থিতি সামলানোর দায়িত্ব দেন পেশাদার সংস্থাকে। তারা আবার বিভিন্ন ‘ইনফ্লুয়েন্সার’ ও ফ্যান পেজের মাধ্যমে ক্রিকেটারের জনপ্রিয়তা বাড়ানোর চেষ্টা করে।
সমস্যা তৈরি হচ্ছে এখানেই। অভিযোগ, এই ফ্যান ক্লাবগুলির একাংশই সংগঠিত ভাবে ভুয়ো তথ্য ছড়ায়, প্রতিপক্ষ ক্রিকেটারদের ছোট করার চেষ্টা করে এবং ইচ্ছাকৃত ভাবে অনলাইন দ্বন্দ্ব তৈরি করে। এক জন ক্রিকেটারের প্রশংসা করতে গিয়ে অন্য জনকে অপমান করাই যেন এখন অনেকের ‘কনটেন্ট স্ট্র্যাটেজি’।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, এখন শুধু ক্রিকেটারেরাই নন, তাঁদের পরিবারের সদস্যেরাও এই আক্রমণের শিকার হচ্ছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনলাইন ঘৃণার এই সংস্কৃতি ভবিষ্যতে আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে, যদি এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়।
ক্রিকেট মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে, আবেগও থাকবে। কিন্তু সেই আবেগ যদি পরিকল্পিত বিদ্বেষে বদলে যায়, তা হলে খেলাটার সৌন্দর্যই নষ্ট হয়ে যাবে।
স্ট্রোকের পর কেমন আছেন রাহুল রায়? পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে গুজবে মুখ খুললেন অভিনেতা