উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজের জুনিয়র ডাক্তার সৌভিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবস্থা সংকটজনক। ২২২ ঘণ্টা ধরে অনশন করার পর তাঁর শারীরিক অবস্থা এতটাই খারাপ হয়ে পড়ে যে, তাঁকে অবিলম্বে আইসিইউতে ভর্তি করানো হয়। সৌভিকের হৃৎস্পন্দন ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং অনশন মঞ্চে থাকার সময়ই তাঁর তীব্র পেটের যন্ত্রণা শুরু হয়। এরপরই মেডিক্যাল টিমের পরামর্শে তাঁকে হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
গত ৬ অক্টোবর থেকে সৌভিকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। ১৪ অক্টোবর, সোমবার, মেডিক্যাল টিম তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে জানায়, তাঁর রক্তচাপ ক্রমশ নিচে নেমে যাচ্ছে। তার পরেও সৌভিক তাঁর অনশন চালিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু শারীরিক পরিস্থিতি অত্যন্ত খারাপ হওয়ার কারণে শেষমেশ তাঁকে হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের মতে, তাঁর রক্তচাপ ও হৃৎস্পন্দন নিয়মিত পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে।
জুনিয়র ডাক্তার সৌভিক আইসিইউতে ভর্তি

এর আগে, আরেক অনশনরত জুনিয়র ডাক্তার, অলোক বর্মা, ৭ দিন ধরে অনশন করার পর অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় তাঁকেও সিসিইউতে ভর্তি করানো হয়েছিল। অলোক এবং সৌভিক, উভয়েই ধর্মতলার মঞ্চে ৫ অক্টোবর থেকে ‘আমরণ অনশনে’ বসেছিলেন। অনশনের দাবিগুলি ছিল চিকিৎসা পরিষেবার উন্নতি এবং অন্যান্য ন্যায্য দাবি নিয়ে, যা নিয়ে জুনিয়র ডাক্তারদের দীর্ঘদিনের অসন্তোষ ছিল।
সৌভিকের অসুস্থতা এবং অলোকের সিসিইউতে ভর্তি হওয়ার পরও আন্দোলনের আগুন ঠান্ডা হয়নি। সোমবার, আরও এক জুনিয়র ডাক্তার, ইএনটি বিভাগের পিজিটি (পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ট্রেনি) সন্দীপ মণ্ডলও অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশন শুরু করেছেন। যদিও সন্দীপের শারীরিক অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল বলে জানা গেছে।
এই ধারাবাহিক অনশনের ফলে চিকিৎসকদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে, কারণ তাদের শারীরিক ও মানসিক চাপের মাত্রা বাড়ছে। শারীরিক অসুস্থতার সত্ত্বেও জুনিয়র ডাক্তাররা তাঁদের দাবির জন্য আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে সৌভিকের মতো ডাক্তারদের অবস্থা আরও খারাপ হলে, প্রশাসনের সামনে চাপ বাড়বে।
অনশনরত ডাক্তারদের দাবি এবং শারীরিক অসুস্থতার জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে এই আন্দোলন আরও কতদিন চলবে, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।