মধুচন্দ্রিমা থেকে শুরু মৃত্যুপর্বে মোড়ানো এক নারকীয় কাহিনি!
ইনদওরের ধনী ব্যবসায়ী পরিবারে বিয়ে হয়েছিল সোনম রঘুবংশীর। বর রাজা রঘুবংশী ছিলেন এক পরিবহন সংস্থার অন্যতম মালিক। ১১ মে সাত পাকে বাঁধা পড়ার ঠিক আট দিনের মাথায় তাঁরা বেরিয়ে পড়েন মধুচন্দ্রিমায়, গন্তব্য মেঘালয়। কিন্তু সেই রোমাঞ্চঘেরা সফর যে এমন মর্মান্তিক পরিণতির দিকে এগিয়ে যাবে, তা কেউ কল্পনাও করেননি।
২৩ মে থেকে নিখোঁজ ছিলেন নবদম্পতি। ২ জুন সোহরার জঙ্গলে মেলে রাজার মৃতদেহ। দীর্ঘ তদন্তের পর ১৭ দিন পর উত্তরপ্রদেশের গাজ়িপুর থেকে গ্রেফতার হন স্ত্রী সোনম। ধরা পড়ে তাঁর কথিত প্রেমিক রাজ কুশওয়াহাও। পুলিশ জানিয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডে সোনম ও রাজ ছাড়াও জড়িত আরও তিন জন, সকলকেই গ্রেফতার করা হয়েছে।
তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। সোনমের বাবা দেবী সিংহ রঘুবংশীর সানমাইকার কারখানা থেকে বছরে প্রায় ১৫ কোটি টাকা মুনাফা হয়। সেই কারখানাতেই সুপারভাইজ়ার হিসেবে কাজ করতেন রাজ, বেতন মাত্র ২০ হাজার টাকা। কর্মক্ষেত্রেই সোনম ও রাজের পরিচয়, ধীরে ধীরে ঘনিষ্ঠতা, তারপর তৈরি হয় সম্পর্ক।
এই সম্পর্কই কি রাজাকে ঠেলে দেয় খুনে সঙ্গী হতে? পুলিশ বলছে, সোনম নাকি প্রেমিককে আশ্বাস দিয়েছিলেন, স্বামী মারা গেলে তাঁকেই বিয়ে করবেন। এমনকি স্বামীকে খুন করতে রাজি হয়ে গিয়েছিলেন ২০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত দিতে। সেই অর্থের লোভেই কি প্রেমিক রাজ যুক্ত হন হত্যার ছক কষায়?
তবে রাজের পরিবার এ সব অভিযোগ মানতে নারাজ। তাঁর মা জানিয়েছেন, ছেলে সদ্য দশম শ্রেণি পাশ করেছে, সোনমকে ‘দিদি’ বলেই চিনত, রাখিও বাঁধত। তাঁরা দৃঢ় বিশ্বাস করেন, তাঁদের ছেলে এমন কাজ করতে পারে না। রাজের বন্ধু রাহুল রাজপুতও জানায়, প্রেমের সম্পর্ক নয়, বরং আদর-আপনার সম্পর্ক ছিল ওদের মধ্যে।
রহস্যময় এই খুনের ঘটনার আরও এক দিক উঠে এসেছে—ভাড়াটে খুনির তত্ত্ব। পুলিশ অনুমান করছে, সোনমের পরিকল্পনায় রাজ না-হয়েও অন্যদের দিয়ে খুন করানো হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রেমিক রাজের গ্রেফতারেই জোরালো হয়েছে সন্দেহ।
মধুচন্দ্রিমার মতো রোমান্টিক সফর, কোটিপতির কন্যা, নিম্নবিত্ত প্রেমিক, আর ২০ লক্ষ টাকার লোভ—সব মিলিয়ে রূপকথার ছায়া যেন ভয়াবহ রূপকথায় পরিণত হয়েছে। সেই ছায়া এখনও ঘোরাফেরা করছে রাজা রঘুবংশীর অকালপ্রয়াণ ঘিরে তৈরি হওয়া রহস্যে।
পশ্চিমবঙ্গের পহেলগাঁও: পুরুলিয়ার টুরগা উপত্যকার সবুজ মোহে মুগ্ধ দেশ, আপনি যাবেন কবে?