১৯ বছর পর নন্দীগ্রাম মামলা ঘিরে উত্তেজনা: সিবিআইয়ের হাতে গ্রেফতার সাক্ষী বৃদ্ধা, রাজনৈতিক চাপানউতোরে সরগরম এলাকা

১৯ বছর পর নন্দীগ্রাম মামলা ঘিরে উত্তেজনা! নন্দীগ্রামের ক্ষত আজও যে পুরোপুরি শুকোয়নি, তা আবার স্পষ্ট হল ২০০৭ সালের মামলাকে কেন্দ্র করে। প্রায় ১৯ বছর আগের নন্দীগ্রাম ঘটনার অন্যতম সাক্ষী,…

January 22, 2026
1 min read

১৯ বছর পর নন্দীগ্রাম মামলা ঘিরে উত্তেজনা!

নন্দীগ্রামের ক্ষত আজও যে পুরোপুরি শুকোয়নি, তা আবার স্পষ্ট হল ২০০৭ সালের মামলাকে কেন্দ্র করে। প্রায় ১৯ বছর আগের নন্দীগ্রাম ঘটনার অন্যতম সাক্ষী, বৃদ্ধা ইন্দুবালা দাসকে সিবিআই গ্রেফতার করেছে— এই অভিযোগ ঘিরে নতুন করে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজ্য রাজনীতি। শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস সরাসরি এই গ্রেফতারের প্রতিবাদে সরব হয়েছে এবং ঘটনাকে “অমানবিক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলে দাবি করেছে।

বুধবার নন্দীগ্রামের রেয়াপাড়া তৃণমূল দফতরে সাংবাদিক বৈঠক করে দলের তমলুক সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সুজিত রায় বলেন, ইন্দুবালা দাস বয়সে প্রবীণ ও গুরুতর অসুস্থ। তাঁর বক্তব্য, “শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি সাক্ষ্য দিতে যেতে পারছেন না। সেই কারণেই প্রায় দু’দশক পুরনো একটি মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে।” তৃণমূলের দাবি, একজন অসুস্থ বৃদ্ধাকে এই ভাবে হেফাজতে নেওয়া মানবিকতার চরম লঙ্ঘন।

এই মামলার প্রেক্ষাপটও ফের আলোচনায় উঠে এসেছে। ২০০৭ সালের ১৪ মার্চ নন্দীগ্রামে পুলিশের গুলিতে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল। সেই ঘটনার ঠিক পরের দিন গোকুলনগর এলাকায় একটি গণধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। তৎকালীন শাসকদল সিপিএমের কর্মীরাই এই ঘটনায় জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। ইন্দুবালা দাস সেই মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী বলে পরিচিত।

সুজিত রায় আরও দাবি করেন, “যাঁদের বিরুদ্ধে সেই সময় অভিযোগ ছিল, তাঁরা তখন সিপিএমের লোক ছিলেন। আজ তারাই বিজেপির পতাকা গায়ে জড়িয়ে বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।” তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, এই গ্রেফতারকে কেন্দ্রীয় এজেন্সির মাধ্যমে বিরোধী রাজনীতিকে দমন করার চেষ্টা বলেই দেখছে তৃণমূল।

সাংবাদিক বৈঠকে তৃণমূল নেতারা ইন্দুবালা দাসের একটি ছবিও দেখান, যাতে তাঁকে শারীরিক ভাবে দুর্বল অবস্থায় দেখা যাচ্ছে। সেই ছবি দেখিয়ে দলের পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়— একজন অসুস্থ বৃদ্ধাকে গ্রেফতার করা আদৌ কতটা ন্যায়সঙ্গত?

এই ঘটনার জেরে নন্দীগ্রাম ও আশপাশের এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। তৃণমূলের অন্দরেই আশঙ্কা, ভোটের আগে নন্দীগ্রামের মতো সংবেদনশীল এলাকায় সিবিআই, এনআইএ-সহ কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির সক্রিয়তা আরও বাড়তে পারে। সেই আশঙ্কাকেই সামনে রেখে দলীয় কর্মীদের প্রস্তুত থাকার বার্তা দেওয়া হয়েছে।

তৃণমূল কংগ্রেস ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছে, ইন্দুবালা দাস মুক্তি না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। দলের পক্ষ থেকে আইনগত লড়াইয়ের পাশাপাশি রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ চালানোর কথাও জানানো হয়েছে।

নন্দীগ্রাম এক সময় রাজ্য রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। প্রায় দুই দশক পর সেই নন্দীগ্রামের নাম আবার উঠে এল জাতীয় আলোচনায়— এবার এক বৃদ্ধা সাক্ষীর গ্রেফতারকে ঘিরে। এই ঘটনার শেষ কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে রাজ্য রাজনীতি।

‘স্পিরিট’-এ প্রভাসের ১৬০ কোটি! নায়িকাদের পারিশ্রমিকের ফারাক ঘিরে নতুন চর্চা

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *