১২ দিন পর অটারী-ওয়াঘায় ফিরল ‘বিটিং রিট্রিট’, বন্ধই রইল করমর্দন ও ফটক

১২ দিন পর অটারী-ওয়াঘায় ফিরল ‘বিটিং রিট্রিট’! কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসবাদী হামলার পর বদলে গিয়েছিল বহু বছরের ঐতিহ্য। ১২ দিন বন্ধ থাকার পর আবার চালু হল অটারী-ওয়াঘা সীমান্তের বিখ্যাত ‘বিটিং…

May 21, 2025
1 min read

১২ দিন পর অটারী-ওয়াঘায় ফিরল ‘বিটিং রিট্রিট’!

কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসবাদী হামলার পর বদলে গিয়েছিল বহু বছরের ঐতিহ্য। ১২ দিন বন্ধ থাকার পর আবার চালু হল অটারী-ওয়াঘা সীমান্তের বিখ্যাত ‘বিটিং রিট্রিট’ অনুষ্ঠান। কিন্তু এবার সেই পরিচিত দৃশ্যপট কিছুটা আলাদা।

২ মে পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদী ঘাঁটিতে ভারতীয় সেনার ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর থেকেই ভারতের সীমান্তে বাড়তে থাকে উত্তেজনার পারদ। এর জেরে ৬ মে থেকে বন্ধ হয়ে যায় বিখ্যাত পতাকা নামানোর অনুষ্ঠান। সেই আবহেই ২১ মে থেকে আবার শুরু হল অনুষ্ঠান, তবে করমর্দন বা সৌজন্যমূলক হাসি বিনিময়—এবার তার কিছুই ছিল না।

এদিন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হলেও তা ছিল সম্পূর্ণভাবে সীমিত দর্শকসংখ্যার জন্য। সাধারণ মানুষ সেখানে প্রবেশাধিকার পাননি। কেবলমাত্র সরকারি আধিকারিক, সাংবাদিক এবং বিশেষ অনুমতি পাওয়া অতিথিদের জন্য সীমাবদ্ধ ছিল অনুষ্ঠানটি। বিএসএফ জানিয়েছে, বুধবার থেকে সর্বসাধারণের জন্য ফের খুলে দেওয়া হবে অনুষ্ঠানস্থল।

যদিও অনুষ্ঠান শুরু হলেও, দুই দেশের বাহিনীর মধ্যে কোনও করমর্দন হয়নি, হয়নি সৌজন্য বিনিময়, এমনকি সীমান্তের ফটকও খোলা হয়নি। সাধারণত বিটিং রিট্রিটের সময় দুই পক্ষের সেনারা সীমান্তের গেট খুলে করমর্দন করেন, মাঝে মাঝেই সামান্য বাক্যালাপও হয়ে থাকে। কিন্তু মঙ্গলবার সেই ঐতিহ্য থেকে সরে এসেছে ভারত।

কেন এই পরিবর্তন?
বিএসএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই সিদ্ধান্ত একেবারে সুপরিকল্পিত। কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে গত ২২ এপ্রিল ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় ভারতের বেশ কয়েকজন জওয়ান শহিদ হন। তার প্রতিক্রিয়ায় সীমান্তে সতর্কতা আরও জোরদার করা হয়। এরই প্রেক্ষিতে বন্ধ হয় ‘বিটিং রিট্রিট’ অনুষ্ঠান এবং পাকিস্তান রেঞ্জার্সদের সঙ্গে সৌজন্যমূলক সব রীতি।

উল্লেখ্য, ১৯৫৯ সাল থেকে নিয়মিতভাবে অটারী-ওয়াঘা সীমান্তে বিটিং রিট্রিট অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি বা কোভিডের মতো ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি ছাড়া এত দীর্ঘ সময় এই অনুষ্ঠান বন্ধ থাকার নজির বিরল। ২০২০ সালে কোভিড মহামারির সময় কিছুদিনের জন্য বন্ধ ছিল অনুষ্ঠানটি।

এদিনের ‘বিটিং রিট্রিট’-এ দুই দেশের বাহিনী যথারীতি পতাকা নামানো, কুচকাওয়াজ এবং আনুষ্ঠানিক কৌশল প্রদর্শন করে। কিন্তু ওই আড়ম্বরের আড়ালে যে স্নায়ুযুদ্ধ চলছে—তার স্পষ্ট প্রতিফলন মিলল করমর্দন ও ফটক বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তে।

দেশের মধ্যে তৈরি হওয়া এই নতুন মনোভাব প্রতিপক্ষের প্রতি ভারতের কড়া বার্তা বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক মহল। তবে আগামী দিনগুলোতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পুরনো ঐতিহ্য ফিরে আসবে কিনা, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।

দেশপ্রেমের নজির: ৫০ লক্ষের প্রস্তাব ফিরিয়ে রাহুল বৈদ্যের তুরস্কে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *