হ্রদ ছুঁয়ে থাকা পাহাড়ের মাঝে নির্জনতার ঠিকানা!
শহরের কোলাহল থেকে দূরে, প্রকৃতির শান্ত পরিবেশে কয়েকটা দিন কাটাতে চাইলে পড়শি রাজ্য ওড়িশার অংসুপা হতে পারে দারুণ এক গন্তব্য। পাহাড় আর হ্রদের অপূর্ব মেলবন্ধনে তৈরি এই জায়গা এখনও অনেক পর্যটকের কাছে অচেনা। অথচ তিন দিনের ছোট ছুটিতেই ঘুরে আসা যায় এই সুন্দর ঠিকানা থেকে।
জুন মাসের শেষ দিকে টানা তিন দিনের ছুটির সুযোগ থাকলে অংসুপা হতে পারে আদর্শ পরিকল্পনা। কলকাতা থেকে ওড়িশার কটকের দূরত্ব প্রায় ৪২০ কিলোমিটার। কটক থেকে আরও প্রায় ৫০ কিলোমিটার পথ পেরোলেই পৌঁছে যাওয়া যায় অংসুপায়। রাতের যাত্রা শুরু করলে পরের দিন ভোরেই প্রকৃতির এই নিরিবিলি কোলে হাজির হওয়া সম্ভব।
ওড়িশার বাঁকি ব্লকের উপর দিয়ে বয়ে চলেছে মহানদী। সেই নদীর বাঁ দিকেই রয়েছে অংসুপা হ্রদ—এক বিশাল জলাশয়, যার সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে চারপাশের পাহাড়। পাহাড়ের গায়ে হ্রদের জলের ছোঁয়া তৈরি করেছে এক মনোরম দৃশ্য। তবে শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নয়, এখানকার শান্ত ও নির্জন পরিবেশই পর্যটকদের সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করে।
কটক থেকে রাজ্য সড়ক ধরে গেলে পথে পড়বে আতাগড়। আতাগড় এবং বাঁকি ব্লকের মাঝেই অবস্থিত এই অংসুপা হ্রদ। হ্রদের নাম নিয়েও রয়েছে নানা মত। কারও মতে, ঘোড়ার খুরের মতো আকৃতির জন্য এর নাম হয়েছে অংসুপা। আবার কেউ মনে করেন, জলে ফুটে থাকা পদ্ম এবং সূর্যের আলোয় ঝিকিমিকি করা জলের সৌন্দর্য থেকেই এই নামের উৎপত্তি। কারণ যা-ই হোক, জায়গাটির প্রশান্তি যে কোনও ক্লান্ত মনকে সতেজ করে তুলবে।
হ্রদের পশ্চিম দিকে রয়েছে সারান্ডা পাহাড় এবং উত্তর-পূর্বে বিষ্ণুপুর পাহাড়। সারান্ডা পাহাড়ের গায়েই রয়েছে একটি পুরনো দুর্গের ধ্বংসাবশেষ। স্থানীয়দের বিশ্বাস, সারান্ডার রাজাই এই দুর্গ তৈরি করেছিলেন। ইতিহাস আর প্রকৃতির এই মেলবন্ধন অংসুপার আকর্ষণ আরও বাড়িয়েছে।
এখানে এসে হ্রদে নৌ-বিহারের আনন্দ নিতে পারেন। ভোরের আলো কিংবা সূর্যাস্তের সময় নৌকা ভ্রমণের অভিজ্ঞতা হয়ে উঠতে পারে বিশেষ। আশপাশের সবুজ পরিবেশে হাঁটাহাঁটিও বেশ উপভোগ্য। শীতকালে অংসুপা হয়ে ওঠে পরিযায়ী পাখিদের আস্তানা। সেই সময় হ্রদের জলে ফুটে থাকা পদ্মও সৌন্দর্য বাড়িয়ে দেয় কয়েক গুণ।
যাঁরা খুব বেশি দৌড়ঝাঁপের ভ্রমণ চান না, বরং অল্প সময়ে প্রকৃতির কাছাকাছি থাকতে চান, তাঁদের জন্য অংসুপা একেবারে উপযুক্ত। ফেরার পথে কটক শহর ঘুরে নিতে পারেন। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু মিউজিয়াম, কটক চণ্ডী মন্দির-সহ শহরের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান দেখা যায়।
কোথায় থাকবেন?
অংসুপার কাছেই রয়েছে ওড়িশা সরকারের অতিথি নিবাস। গাছপালায় ঘেরা এই থাকার জায়গাটি শান্ত পরিবেশে কয়েকটা দিন কাটানোর জন্য উপযুক্ত।
কী ভাবে যাবেন?
কলকাতা থেকে সড়কপথে কটক হয়ে অংসুপা যাওয়া যায়। ট্রেনেও কটক পৌঁছে সেখান থেকে গাড়ি ভাড়া করে যাওয়া সম্ভব। চাইলে ভোরের বন্দে ভারত ধরে কটক পৌঁছে বাকি পথ গাড়িতে পাড়ি দিতে পারেন। গাড়িতে গেলে ফেরার পথে কটক শহর ঘুরে নেওয়ার সুযোগও থাকবে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?