হ্যারি কেনই ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় ভরসা!
বিশ্বকাপ এলেই ইংল্যান্ডকে ঘিরে শুরু হয় নতুন স্বপ্ন। ১৯৬৬ সালের পর আর বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হতে না পারলেও প্রতিবারের মতো এবারও শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে মাঠে নামছে ইংল্যান্ড। নতুন কোচ Thomas Tuchel-এর অধীনে গড়া দলকে নিয়ে আশাবাদী সমর্থকরা। আর সেই স্বপ্নের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন অধিনায়ক Harry Kane।
গত কয়েক বছরে ইংল্যান্ড ধারাবাহিকভাবে বড় টুর্নামেন্টে ভালো ফল করেছে। UEFA Euro 2020 এবং UEFA Euro 2024-এ রানার্স-আপ হওয়ায় দলের উপর প্রত্যাশা আরও বেড়েছে। তবে ইতিহাস বলছে, প্রত্যাশার ভারই অনেক সময় ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়ায়।
শক্তির জায়গা কোথায়?
১. বেঞ্চের গভীরতা
বর্তমান ইংল্যান্ড দলের অন্যতম বড় সম্পদ তাদের স্কোয়াডের গভীরতা। ২৬ সদস্যের দলে এমন অনেক ফুটবলার রয়েছেন, যাঁরা সহজেই প্রথম একাদশে জায়গা পাওয়ার যোগ্য। বিশ্বের সেরা লিগগুলিতে খেলার অভিজ্ঞতা দলটিকে আরও শক্তিশালী করেছে।
২. আক্রমণের গতি
Bukayo Saka, Marcus Rashford, Anthony Gordon-দের মতো দ্রুতগতির ফুটবলারদের উপস্থিতি ইংল্যান্ডকে বিপজ্জনক করে তোলে। অন্যদিকে কেন শুধু গোল করতেই নয়, আক্রমণ গড়ে তুলতেও সমান দক্ষ।
৩. শক্তিশালী ফাইনাল থার্ড
প্রতিপক্ষের বক্সে একাধিক খেলোয়াড় তুলে এনে চাপ সৃষ্টি করতে পারে ইংল্যান্ড। দূরপাল্লার শট, উইং প্লে এবং দ্রুত আক্রমণ— সব ক্ষেত্রেই তারা কার্যকর।
দুর্বলতা কোথায়?
রক্ষণাত্মক মানসিকতা
গোল করে এগিয়ে যাওয়ার পর অনেক সময়ই ইংল্যান্ড অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক হয়ে পড়ে। ফলে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রতিপক্ষকে ম্যাচে ফেরার সুযোগ দেয়।
ডিফেন্সের অনিশ্চয়তা
Ezri Konsa এবং Marc Guehi-র মতো মানসম্পন্ন ডিফেন্ডার থাকলেও দ্রুতগতির কাউন্টার অ্যাটাক সামলাতে মাঝে মাঝে সমস্যায় পড়ে ইংল্যান্ড।
প্রত্যাশার পাহাড়
এটাই সম্ভবত সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। প্রতিবার বিশ্বকাপের আগে ইংরেজ সংবাদমাধ্যম ও সমর্থকদের প্রত্যাশা আকাশছোঁয়া থাকে। নকআউট পর্বে সেই চাপই অনেক সময় পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলে।
নজরে থাকবেন যাঁরা
ইংল্যান্ডের সাফল্য অনেকটাই নির্ভর করবে চার তারকার উপর—
- Harry Kane – দলের প্রধান গোলমেশিন
- Jude Bellingham – মাঝমাঠের চালিকাশক্তি
- Bukayo Saka – সৃজনশীল আক্রমণের মূল ভরসা
- Ezri Konsa – রক্ষণের অন্যতম স্তম্ভ
কত দূর যেতে পারে ইংল্যান্ড?
গ্রুপ পর্বে ইংল্যান্ডের প্রতিপক্ষ Croatia, Ghana এবং Panama। কাগজে-কলমে তুলনামূলক সহজ গ্রুপ হওয়ায় শেষ ষোলো পর্যন্ত পৌঁছনোর সম্ভাবনা যথেষ্ট উজ্জ্বল।
তবে প্রকৃত পরীক্ষা শুরু হবে নকআউট পর্বে। Argentina, Brazil, France, Spain কিংবা Germany-র মতো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে নিজেদের প্রমাণ করতে হবে।
সব মিলিয়ে, প্রতিভা, অভিজ্ঞতা ও স্কোয়াডের গভীরতায় ইংল্যান্ড নিঃসন্দেহে শিরোপার অন্যতম দাবিদার। কিন্তু বিশ্বকাপ জিততে হলে হ্যারি কেনদের শুধু প্রতিপক্ষ নয়, নিজেদের ওপর থাকা প্রত্যাশার চাপকেও হারাতে হবে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?