হুথিদের সঙ্গে আমেরিকার গোপন বৈঠক? সৌদি আরবকে ঘিরে বাড়ছে নতুন কূটনৈতিক জল্পনা

সৌদি আরবকে ঘিরে বাড়ছে নতুন কূটনৈতিক জল্পনা! ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর সঙ্গে আমেরিকার গোপন বৈঠকের খবর প্রকাশ্যে আসতেই পশ্চিম এশিয়ার কূটনীতিতে নতুন জল্পনা তৈরি হয়েছে। রয়টার্সের ১৬ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে দাবি করা…

September 19, 2026
1 min read

সৌদি আরবকে ঘিরে বাড়ছে নতুন কূটনৈতিক জল্পনা!

ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর সঙ্গে আমেরিকার গোপন বৈঠকের খবর প্রকাশ্যে আসতেই পশ্চিম এশিয়ার কূটনীতিতে নতুন জল্পনা তৈরি হয়েছে। রয়টার্সের ১৬ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ওমানের রাজধানী মাস্কাটে মার্কিন দূতাবাসে ইয়েমেনের হুথি প্রতিনিধিদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আধিকারিকদের আলোচনা হয়েছে। ওমান এই বৈঠকে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

বৈঠকে অংশ নেওয়া মার্কিন আধিকারিকদের নাম প্রকাশ করা হয়নি। তাঁদের দূতাবাসের কর্মী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্য দিকে, হুথিদের হয়ে আলোচনায় ছিলেন মহম্মদ আবদুলসালাম এবং আবদেলমালিক আল-আজিরি। দু’জনই সংগঠনটির গুরুত্বপূর্ণ নেতা। আবদুলসালামের উপর আমেরিকার নিষেধাজ্ঞাও রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই আলোচনার সম্ভাব্য ফলাফল নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে নানা দাবি উঠেছে। ‘দ্য টাইমস অফ ইজ়রায়েল’ এবং ‘আল-জাজ়িরা’-র প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, লোহিত সাগরে মার্কিন বা ইজ়রায়েলি জাহাজে হামলা না করার বিষয়ে হুথিদের সঙ্গে কোনও বোঝাপড়া হতে পারে। তবে সৌদি আরবের জাহাজ এই ছাড়ের আওতায় থাকবে না—এমন দাবিও সামনে এসেছে। যদিও এই শর্তগুলি নিয়ে ওয়াশিংটনের তরফে কোনও পূর্ণাঙ্গ আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও উল্লেখ করা হয়নি।

হুথিদের সঙ্গে যোগাযোগের কথা অবশ্য প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স। তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি আনসার আল্লাহর সঙ্গে কথা বলছে। তবে এই আলোচনা কোনও চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছেছে কি না, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনও ইঙ্গিত দেননি।

হুথি-সৌদি সংঘাতের ইতিহাসও দীর্ঘ। উত্তর ইয়েমেনে গড়ে ওঠা আনসার আল্লাহ প্রথম দিকে ইয়েমেন সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করলেও পরে সৌদি আরবের সঙ্গে তাদের সংঘাত তীব্র হয়। ২০১৪ সালে হুথিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। ২০১৫ সালে সৌদি আরব হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে।

পরবর্তী সময়ে ইরান হুথিদের সমর্থন করে বলে সৌদি আরব ও অন্যান্য পক্ষের অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘ সংঘাতের পর ২০২২ সালে রিয়াধ ও হুথিদের মধ্যে সংঘর্ষবিরতি হয়। তবে ইয়েমেনে সংঘাত পুরোপুরি থেমে যায়নি এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলির মধ্যে টানাপড়েনও অব্যাহত রয়েছে।

এই সংঘাতের প্রেক্ষাপটে আমেরিকা দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা অংশীদার। ওয়াশিংটনের সঙ্গে রিয়াধের প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক সম্পর্কও দীর্ঘ দিনের। অতীতে হুথিদের বিরুদ্ধে আমেরিকা সামরিক পদক্ষেপও নিয়েছে। অন্য দিকে, হুথিরা লোহিত সাগরে বিভিন্ন জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে বলে একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের জন্য লোহিত সাগরের বাণিজ্যপথ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। ইয়েমেনের মোকা বন্দর নিয়ে হুথিদের সাম্প্রতিক নিয়ন্ত্রণের দাবিও এই উদ্বেগ বাড়িয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। সৌদি যুবরাজ তথা প্রধানমন্ত্রী মহম্মদ বিন সলমন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা বলে সামরিক সহায়তা চেয়েছিলেন বলেও সূত্রের উল্লেখ রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

এই অবস্থায় আমেরিকা যদি হুথিদের সঙ্গে কোনও দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতায় পৌঁছয়, তার প্রভাব সৌদি আরব-সহ গোটা পশ্চিম এশিয়ার নিরাপত্তা সমীকরণে পড়তে পারে। ইয়েমেনের প্রাক্তন মার্কিন উপরাষ্ট্রদূত নাবিল খুরি ‘দ্য গার্ডিয়ান’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন, নতুন সংঘাতে জড়াতে না চাওয়ার কারণেই ওয়াশিংটন হুথিদের সঙ্গে বোঝাপড়ার পথ খুঁজছে। এটি তাঁর ব্যাখ্যা, সরকারি ভাবে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত নয়।

আর এই পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে ভারতও। সৌদি আরব ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহকারী দেশ হওয়ায় পশ্চিম এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতির পরিবর্তন নয়াদিল্লির জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যপথের উপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *