হিমালয়ের নদীগুলির বদলে যাচ্ছে পথ!
বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাব যে শুধু হিমবাহ গলিয়ে দিচ্ছে, তা নয়— এ বার তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে হিমালয় থেকে নেমে আসা নদীগুলির উপরেও। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য। গত চার দশকে হিমালয়ের বহু নদী আগের তুলনায় অনেক দ্রুত গতিপথ বদলাচ্ছে। এর ফলে ভবিষ্যতে বন্যা, ভূমিক্ষয় এবং পরিবেশগত অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা বিজ্ঞানীদের।
হিমালয়কে বলা হয় এশিয়ার ‘জলভান্ডার’। ভারত, বাংলাদেশ, নেপাল, চিন, পাকিস্তান-সহ একাধিক দেশের গুরুত্বপূর্ণ নদীর উৎস এই পর্বতমালা। প্রায় ২০০ কোটিরও বেশি মানুষের জীবন ও কৃষি নির্ভর করে এই নদীগুলির উপর। তাই নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে বড় পরিবর্তন গোটা অঞ্চলের জন্যই চিন্তার কারণ।
এই গবেষণাটি করেছেন বেজিংয়ের China University of Geosciences-এর অধ্যাপক Chengshan Wang এবং তাঁর সহকর্মীরা। তাঁদের গবেষণা সম্প্রতি Science পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষকেরা ১৯৮০ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত তোলা উপগ্রহচিত্র বিশ্লেষণ করেন। পাশাপাশি বিভিন্ন নদী অববাহিকা সরেজমিনেও পর্যবেক্ষণ করা হয়। তাতে দেখা যায়, হিমালয়ে উষ্ণতার বৃদ্ধি বিশ্ব গড়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হারে ঘটছে। এই অতিরিক্ত তাপের কারণে দ্রুত গলছে হিমবাহ এবং জমাট বরফে ঢাকা মাটি।
বিজ্ঞানীদের মতে, বরফ গলে নদীতে অতিরিক্ত জল নামছে। সেই জল নদীর স্রোতকে আরও শক্তিশালী করে তুলছে। আবার জমাট মাটি গলে যাওয়ায় নদীর পাড় দুর্বল হয়ে পড়ছে। ফলে নদীগুলি সহজেই পুরনো পথ ছেড়ে নতুন দিকে বয়ে যেতে শুরু করছে।
গবেষণায় মোট ১,৫৮২ কিলোমিটার নদীপথ বিশ্লেষণ করা হয়। পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, বহু নদীবাঁক এখন অত্যন্ত অস্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। কোথাও নদী ছোট রাস্তা ধরে নতুন পথ নিয়েছে, কোথাও আবার আচমকা পুরো গতিপথ বদলে ফেলেছে।
সব মিলিয়ে গত ৪০ বছরে হিমালয়ের নদীগুলির গতিপথ বদলের হার প্রায় ৩৩ শতাংশ বেড়েছে। যেসব এলাকায় নদীর প্রবাহে প্রাকৃতিক বাধা কম, সেখানে এই পরিবর্তনের হার প্রায় ৯৭ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এই প্রবণতা ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। কারণ, নদীর গতিপথ বদল মানেই শুধু ভৌগোলিক পরিবর্তন নয়— এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে কৃষিজমি ভেঙে যাওয়া, জনবসতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি।
২০১৫ সালের Paris Agreement-এ বিশ্ব উষ্ণায়ন নিয়ন্ত্রণে আনার লক্ষ্য স্থির হয়েছিল। কিন্তু এখনও পর্যন্ত সেই লক্ষ্য পূরণ হয়নি। বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, বর্তমান পরিস্থিতি চলতে থাকলে এই শতাব্দীর মধ্যেই বৈশ্বিক উষ্ণতা ২.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। আর তার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়বে হিমালয়ের মতো সংবেদনশীল অঞ্চলে।
স্ট্রোকের পর কেমন আছেন রাহুল রায়? পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে গুজবে মুখ খুললেন অভিনেতা