হাসির আড়ালে লুকোনো লড়াই: অবসাদ থেকে কীভাবে ফিরে এলেন কপিল শর্মা

অবসাদ থেকে কীভাবে ফিরে এলেন কপিল শর্মা! আজ তিনি দেশের অন্যতম জনপ্রিয় কৌতুকশিল্পী। টেলিভিশন থেকে ওটিটি— সব জায়গাতেই তাঁর উপস্থিতি মানেই দর্শকদের হাসির ঝড়। কিন্তু এই সাফল্যের পথ মোটেও সহজ…

February 11, 2026
1 min read

অবসাদ থেকে কীভাবে ফিরে এলেন কপিল শর্মা!

আজ তিনি দেশের অন্যতম জনপ্রিয় কৌতুকশিল্পী। টেলিভিশন থেকে ওটিটি— সব জায়গাতেই তাঁর উপস্থিতি মানেই দর্শকদের হাসির ঝড়। কিন্তু এই সাফল্যের পথ মোটেও সহজ ছিল না কপিল শর্মার জন্য। মাত্র ৩৬ বছর বয়সেই গভীর অবসাদে ডুবে গিয়েছিলেন তিনি— এমনটাই জানালেন নিজেই এক সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে।

কপিলের শুরুর স্বপ্ন কিন্তু ছিল অন্য। তিনি আসলে গায়ক হতে চেয়েছিলেন। পরে অভিনেতা হওয়ার পরিকল্পনাও করেন। এমনকি কমেডিতে আসার আগে কিছু ‘গম্ভীর’ চরিত্রেও অভিনয় করেছিলেন। কিন্তু ভাগ্যের খেলায় ‘ভুল করে’ কমেডির দুনিয়ায় পা রাখেন— আর সেখানেই বদলে যায় তাঁর জীবন।

তবে সাফল্যের সঙ্গে সঙ্গে আসে চাপ, বিতর্ক আর ব্যক্তিগত সংগ্রাম। একটি জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শো জিতে নিজের অনুষ্ঠান শুরু করেছিলেন কপিল, কিন্তু সেটি বেশিদিন টেকেনি। ধীরে ধীরে তিনি নেশার দিকে ঝুঁকে পড়েন, নাম জড়ায় নানা বিতর্কে। সেই সময়ই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন তিনি।

কপিল নিজেই জানিয়েছেন, “৩৬ বছর বয়সেই অবসাদ আমাকে ঘিরে ধরে। ভীষণ ক্লান্ত আর নিস্তেজ হয়ে পড়েছিলাম। লোকজন বলতে শুরু করে— ‘ও শেষ হয়ে গেছে’।”

কিন্তু সেখান থেকেই শুরু তাঁর ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প। বিয়ের পর ধীরে ধীরে জীবনে স্থিরতা আসে। নতুন করে শুরু করেন তাঁর জনপ্রিয় কমেডি শো, যা পরে ৩০০-রও বেশি পর্ব ছুঁয়েছে। বর্তমানে তিনি আন্তর্জাতিক ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্সেও নিয়মিত অনুষ্ঠান করছেন, যা ব্যাপক জনপ্রিয়।

কপিলের জীবনের আরেকটি বড় আবেগ জড়িয়ে আছে তাঁর বাবার সঙ্গে। তাঁর বাবা জিতেন্দ্র কুমার পঞ্জ ছিলেন পঞ্জাব পুলিশের হেড কনস্টেবল। ২০০৪ সালে ক্যানসারে তাঁর মৃত্যু হয়। ‘দ্য গ্রেট ইন্ডিয়ান লাফটার চ্যালেঞ্জ’ জেতার পর ১০ লক্ষ টাকার পুরস্কার হাতে নিয়ে বাবার কথা ভেবে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন কপিল।

তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, “আমার শো শুরু হওয়ার সময় রাতে বাড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতাম। আশেপাশের বাড়ি থেকে মানুষের হাসির শব্দ শুনে ভাবতাম— বাবা থাকলে কত খুশি হতেন।”

এই স্মৃতিই নাকি তাঁকে বারবার শক্তি দেয়। কপিলের মতে, জীবনে একটাই নিশ্চয়তা— অনিশ্চয়তা। তাই তিনি বিশ্বাস করেন, সৎ উদ্দেশ্যে কাজ করে গেলে সময়ের সঙ্গে সব ঠিক হয়ে যায়।

এদিকে বহুদিন ধরেই ইন্ডাস্ট্রিতে গুঞ্জন চলছে, তাঁর জীবন নিয়ে বায়োপিক তৈরি হতে পারে। এ বিষয়ে কপিল জানান, সম্ভাব্য প্রযোজকেরা তাঁরই বন্ধু। তবে তিনি মনে করেন, এখনও তিনি জীবনকে পুরোপুরি বোঝার পথেই আছেন।

সম্প্রতি তাঁকে ‘কিস কিসকো পেয়ার করুঁ ২’ ছবিতে দেখা গেলেও ছবিটি বক্স অফিসে খুব একটা সফল হয়নি। তবু ব্যক্তিগত জীবনের ঝড় পেরিয়ে আজ যে জায়গায় তিনি দাঁড়িয়ে— সেটাই তাঁর সবচেয়ে বড় জয়।

হাসির আড়ালে লুকিয়ে থাকা এই সংগ্রামের গল্পই যেন প্রমাণ করে— কখনও কখনও সবচেয়ে বেশি হাসানো মানুষগুলোরই লড়াইটা হয় সবচেয়ে নীরবে।

প্রোটিন শেক নয়, ‘ঘরোয়া খিচুড়ি’ই ভরসা: শরীরচর্চার পরে হৃতিক রোশন যা খান, জানলে চমক লাগবেই

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *