হাডকো ফুটব্রিজে রহস্যময় ঝুলন্ত দেহ! সঞ্জয়ের মৃত্যু ঘিরে ধোঁয়াশা, তদন্তে পুলিশ

হাডকো ফুটব্রিজে রহস্যময় ঝুলন্ত দেহ! উত্তর কলকাতার মানিকতলার হাডকো ফুট ওভারব্রিজে বৃহস্পতিবার সকালে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনার সাক্ষী রইল শহর। ব্যস্ত সকাল, রোজকার অফিসযাত্রী আর হকারদের ভিড়ে হঠাৎই থমকে গেল সকলের…

April 24, 2025
1 min read

হাডকো ফুটব্রিজে রহস্যময় ঝুলন্ত দেহ!

উত্তর কলকাতার মানিকতলার হাডকো ফুট ওভারব্রিজে বৃহস্পতিবার সকালে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনার সাক্ষী রইল শহর। ব্যস্ত সকাল, রোজকার অফিসযাত্রী আর হকারদের ভিড়ে হঠাৎই থমকে গেল সকলের গতি—ওভারব্রিজের রেলিংয়ে চোখ আটকে গেল একটি ঝুলন্ত দেহে। মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা।

দেহটি ছিল এক যুবকের। পরে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মৃতের নাম সঞ্জয় মিত্র, বয়স ৩৫। তাঁর বাড়ি উল্টোডাঙা এলাকায়। স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন, এবং মানিকতলা থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। দেহটি উদ্ধার করে পাঠানো হয় আর.জি. কর হাসপাতালে, ময়নাতদন্তের জন্য।

এই ঘটনা ঘিরে হঠাৎই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। অনেকেই দাঁড়িয়ে পড়েছেন, ক্যামেরাবন্দি করছেন দৃশ্য। কিন্তু প্রশ্নটা সবার মনে একটাই—কী ভাবে মৃত্যু হল সঞ্জয়ের? এটা আত্মহত্যা, নাকি এর পেছনে রয়েছে কোনো খুনের ছক?

পুলিশ জানাচ্ছে, এখনই কোনও সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এক পুলিশ আধিকারিকের কথায়, “ঘটনাস্থল থেকে আপাতদৃষ্টিতে আত্মহত্যা বলেই মনে হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত কিছুই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।”

তদন্তকারীরা ইতিমধ্যেই মৃত সঞ্জয়ের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। খতিয়ে দেখা হচ্ছে, সম্প্রতি কোনো মানসিক চাপে ছিলেন কিনা সঞ্জয়, বা কারো সঙ্গে পারিবারিক বা আর্থিক কোনও সমস্যায় জড়িয়েছিলেন কি না। সেইসঙ্গে ফুটব্রিজের আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

স্থানীয়দের একাংশ জানিয়েছেন, সঞ্জয়কে আগে কখনও ও এলাকায় দেখা যায়নি। ফলে প্রশ্ন উঠছে, তিনি হঠাৎই সেই জায়গায় কীভাবে এলেন? কেউ কি তাঁকে ডেকে এনেছিল?

এমন ঘটনায় প্রভাব পড়েছে আশপাশের পরিবেশে। হাডকো মোড়, যেটা সাধারণত ভোর থেকেই জমজমাট থাকে, বৃহস্পতিবার সকালে কিছুটা থমথমে হয়ে ওঠে। ফুটব্রিজে চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয় পুলিশ।

পুলিশ কী বলছে?

পুলিশের এক উচ্চপদস্থ কর্তা জানান, “মৃতের দেহে আপাতদৃষ্টিতে বাইরে থেকে আঘাতের কোনও চিহ্ন পাওয়া যায়নি। কিন্তু ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে না পাওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। সবদিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে—ব্যক্তিগত জীবন, ফোন রেকর্ড, শেষ লোকেশন, এমনকি ওভারব্রিজের আশেপাশের দোকানের লোকজনকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।”

ঘটনা তদন্তের দায়িত্বে থাকা অফিসাররা জানান, এর মধ্যে কেউ যদি ওই যুবকের সঙ্গে শেষবার দেখা করে থাকেন, অথবা কিছু সন্দেহজনক কিছু দেখে থাকেন, তাঁদের এগিয়ে আসতে অনুরোধ করা হচ্ছে।

শেষ কথা

সঞ্জয় মিত্রর মৃত্যু আপাতদৃষ্টিতে আত্মহত্যার ঘটনা হলেও, এর পেছনে আরও গভীর কোনও রহস্য লুকিয়ে আছে কি না, তা সময়ই বলবে। তবে এমন ঘটনায় আরও একবার শহরের নিরাপত্তা এবং মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠে গেল। সঞ্জয়ের পরিবার ও আত্মীয়দের চোখে এখন শুধু একটাই প্রশ্ন—সত্যিই কি নিজের ইচ্ছায় জীবন শেষ করলেন সঞ্জয়, নাকি তিনি ছিলেন কোনো ষড়যন্ত্রের শিকার?

দেশ ছেড়ে কাতারে সংসার? সইফ-করিনার নতুন জীবন শুরু হতে চলেছে!

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *