হরমুজ়ের দখল ঘিরে নতুন সমীকরণ?
পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। মার্কিন বাহিনী ইরানের দক্ষিণ উপকূলবর্তী কাশেম (Qeshm) দ্বীপের সামরিক পরিকাঠামোকে লক্ষ্য করে একাধিক হামলা চালাচ্ছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, কেন এই দ্বীপকে এতটা কৌশলগত গুরুত্ব দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র?
পারস্য উপসাগরের মুখে অবস্থিত কাশেম দ্বীপ ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূখণ্ড। বন্দর আব্বাস থেকে মাত্র ২২ কিলোমিটার দূরে প্রায় ১,৫০০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই দ্বীপের পাশ দিয়েই গিয়েছে হরমুজ় প্রণালী— বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত তেল পরিবহণ পথ। পশ্চিমা সূত্রের দাবি, এখানেই ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ঘাঁটি গড়ে তুলেছে।
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলির মূল্যায়ন অনুযায়ী, কাশেম দ্বীপের দুর্গম পাহাড়, গুহা এবং ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গকে কাজে লাগিয়ে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করেছে ইরান। এখান থেকেই ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র এবং দ্রুতগতির নৌযান পরিচালনা করা হয় বলে তাদের দাবি। হরমুজ় প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের উপর নজরদারি এবং সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের ক্ষেত্রেও এই ঘাঁটির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট-সহ একাধিক আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, কাশেমে থাকা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ড্রোন অবকাঠামো এবং ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারকে লক্ষ্য করেই হামলা চালাচ্ছে মার্কিন বাহিনী। এমনকি প্রয়োজন হলে গভীর বাঙ্কার ধ্বংসে সক্ষম ভারী ‘বাঙ্কার-বাস্টার’ বোমা ব্যবহারের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।
কাশেমের পাশাপাশি খার্গ দ্বীপও দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের নজরে রয়েছে। ইরানের অধিকাংশ অপরিশোধিত তেল রফতানি হয় এই দ্বীপের অয়েল টার্মিনাল হয়ে। ফলে খার্গ বা কাশেম— যে কোনও একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ ইরানের অর্থনীতি ও সামরিক সক্ষমতার উপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল মজুত রয়েছে ইরানের হাতে। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও দেশটি বিভিন্ন উপায়ে তেল রফতানি চালিয়ে যাচ্ছে বলে বহু প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে চিন ইরানি তেলের অন্যতম বড় ক্রেতা হিসেবে পরিচিত। সেই কারণেও উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের কৌশলগত অবস্থান আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তবে সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, কাশেম বা খার্গের মতো সুরক্ষিত দ্বীপ পুরোপুরি দখল করা অত্যন্ত কঠিন। এর জন্য কেবল বিমান হামলা নয়, বৃহৎ উভচর সামরিক অভিযানও প্রয়োজন হতে পারে। সেই ধরনের অভিযানে ব্যাপক ঝুঁকি এবং সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
ফলে প্রশ্ন এখনও থেকেই যাচ্ছে— যুক্তরাষ্ট্র কি শুধুই ইরানের সামরিক পরিকাঠামো দুর্বল করতে চাইছে, নাকি ভবিষ্যতে আরও বড় সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে? আপাতত এই জল্পনারই উত্তর খুঁজছে আন্তর্জাতিক মহল।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?