স্পেনের পর উরুগুয়েকেও রুখল কাবো ভার্দে!!
বিশ্বকাপে অভিষেকের পর থেকেই চমক দেখিয়ে চলেছে ছোট্ট আফ্রিকান দেশ কাবো ভার্দে। স্পেনকে আটকে দেওয়ার পর এ বার উরুগুয়ের বিরুদ্ধেও হার মানল না তারা। ২-২ গোলে ড্র করে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে যাওয়ার স্বপ্ন আরও জোরালো করেছে মাত্র পাঁচ লক্ষ জনসংখ্যার দেশটি।
কাবো ভার্দের পারফরম্যান্স যে কোনও অঘটন নয়, তা তারা পর পর দুই ম্যাচে প্রমাণ করে দিয়েছে। প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী স্পেনের বিরুদ্ধে রক্ষণ সামলে পয়েন্ট ছিনিয়ে নিয়েছিল তারা। এ বার উরুগুয়ের মতো অভিজ্ঞ লাতিন আমেরিকার দলের বিরুদ্ধেও পিছিয়ে না থেকে লড়াই করল। শেষ ম্যাচে সৌদি আরবকে হারাতে পারলেই ইতিহাস গড়ে পরের রাউন্ডে উঠে যাবে কাবো ভার্দে।
উরুগুয়ের বিরুদ্ধে ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল কাবো ভার্দে। ২১ মিনিটে কেভিন পিনা গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। তবে প্রথমার্ধের শেষ দিকে ম্যাচের ছবি বদলে যায়। কয়েক মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল করে এগিয়ে যায় উরুগুয়ে। ৪২ মিনিটে ম্যাক্সিমিলিয়ানো আরাউহো এবং পরে আগুস্তিন কানোবায়োর গোলে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় তারা।
কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে ফের ঘুরে দাঁড়ায় কাবো ভার্দে। ৬১ মিনিটে হেলিয়ো ভারেলার গোলে সমতা ফেরায় তারা। এরপর শুরু হয় তাদের পরিচিত রক্ষণাত্মক লড়াই। স্পেনের মতো উরুগুয়েও সেই জমাট রক্ষণ ভাঙার রাস্তা খুঁজে পায়নি। শেষ পর্যন্ত ২-২ ফলেই শেষ হয় ম্যাচ।
এই ড্রয়ের পর গ্রুপ এইচ-এ উরুগুয়ে এবং কাবো ভার্দে— দু’দলেরই সংগ্রহে রয়েছে ২ পয়েন্ট। তবে শেষ ম্যাচে উরুগুয়ের সামনে অপেক্ষা করছে কঠিন পরীক্ষা, কারণ তাদের খেলতে হবে স্পেনের বিরুদ্ধে। অন্য দিকে, কাবো ভার্দের প্রতিপক্ষ সৌদি আরব। সৌদির সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স দেখে তাদের হারানো অসম্ভব নয় বলেই মনে করছে কাবো ভার্দে শিবির।
দলের কোচ বুবিস্তা জানিয়েছেন, বিশ্বকাপে বড় দলের নাম দেখে ভয় পায় না তাঁর দল। তিনি বলেন, “আমরা প্রতিপক্ষ কত শক্তিশালী সেটা দেখি না। বিশ্বকাপে সবাই চাপের মধ্যে থাকে। আমরা নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলি এবং সেই সুযোগ কাজে লাগানোর চেষ্টা করি।”
আর্থিক সমস্যায় জর্জরিত কাবো ভার্দের কাছে ফুটবলই এখন আশার আলো। কোচের কথায়, “আমাদের জীবন সহজ নয়। অনেক সমস্যা রয়েছে। কিন্তু ফুটবলই আমাদের স্বপ্ন, আর আমরা সেই স্বপ্নের পিছনে ছুটছি।”
সালাহের মিশরের দাপট, শীর্ষে উঠে এল তারা
দিনের অন্য ম্যাচে নিউ জ়িল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে গ্রুপের শীর্ষে উঠে এসেছে মিশর। প্রথম ম্যাচে জয় না পেলেও দ্বিতীয় ম্যাচে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করেছে মহম্মদ সালাহের দল।
ম্যাচের শুরুতেই অবশ্য ধাক্কা খায় মিশর। ১৫ মিনিটে ফিন সুরমান গোল করে নিউ জ়িল্যান্ডকে এগিয়ে দেন। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে পাল্টে যায় পরিস্থিতি। ৫৮ মিনিটে মোস্তাফা জ়িকোর গোলে সমতা ফেরায় মিশর। এরপর ৬৭ মিনিটে নিজের স্বাক্ষর রাখেন মহম্মদ সালাহ। ৮২ মিনিটে ত্রেজেগুয়েতের গোলে জয় নিশ্চিত হয়।
এই জয়ের ফলে ইরান ও বেলজিয়ামকে পিছনে ফেলে গ্রুপের শীর্ষে উঠে এসেছে মিশর। তবে লড়াই এখনও শেষ হয়নি। শেষ ম্যাচে নিউ জ়িল্যান্ডের কাছেও সুযোগ রয়েছে। তারা বেলজিয়ামকে হারাতে পারলে নকআউটের দৌড়ে থাকবে। একই ভাবে ইরান ও বেলজিয়ামের কাছেও রয়েছে পরের রাউন্ডে যাওয়ার সম্ভাবনা।
অর্থাৎ, গ্রুপের শেষ ম্যাচগুলির আগে কোনও দলই নিশ্চিন্ত নয়। বিশ্বকাপের মঞ্চে ছোট দলগুলির এই লড়াইই এ বার তৈরি করেছে নতুন উত্তেজনা।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?