স্ত্রী খুনের অভিযোগে ১১ বছর পলাতক: ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ ভারতীয়ের মাথার দাম ৯ কোটিরও বেশি

স্ত্রী খুনের অভিযোগে ১১ বছর পলাতক! এক দশকেরও বেশি সময় ধরে অধরা। স্ত্রী খুনের অভিযোগে অভিযুক্ত এক ভারতীয় যুবকের খোঁজে এখনও তৎপর মার্কিন তদন্তকারী সংস্থা। সম্প্রতি Federal Bureau of Investigation…

March 13, 2026
1 min read

স্ত্রী খুনের অভিযোগে ১১ বছর পলাতক!

এক দশকেরও বেশি সময় ধরে অধরা। স্ত্রী খুনের অভিযোগে অভিযুক্ত এক ভারতীয় যুবকের খোঁজে এখনও তৎপর মার্কিন তদন্তকারী সংস্থা। সম্প্রতি Federal Bureau of Investigation (এফবিআই) ঘোষণা করেছে— অভিযুক্ত Bhadreshkumar Chetanbhai Patel-এর খোঁজ দিলে দেওয়া হবে ১০ লক্ষ ডলার পুরস্কার, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৯ কোটিরও বেশি।

এই পুরস্কারের ঘোষণা নতুন করে আলোচনায় এনেছে বহু বছর ধরে চলা এক রহস্যময় খুনের মামলা।

গুজরাত থেকে আমেরিকা

ভদ্রেশকুমারের জন্ম ১৯৯০ সালের ১৫ মে গুজরাতের ভিরামগামে। ২০১৩ সালের নভেম্বরে তিনি বিয়ে করেন Palak Patel-কে। বিয়ের প্রায় এক বছর পর, ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে দম্পতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আত্মীয়দের কাছে বেড়াতে যান। তখন ভদ্রেশকুমারের বয়স ছিল ২৪, আর পলকের ২১।

সেই সফরের পর আর দেশে ফেরেননি তাঁরা। আমেরিকাতেই কাজ শুরু করেন এবং নতুন জীবন গড়ে তোলার চেষ্টা করেন।

ডোনাটের দোকানেই ঘটেছিল ভয়াবহ ঘটনা

দু’জনেই কাজ করতেন মেরিল্যান্ডের হ্যানোভারে অবস্থিত একটি ডোনাটের দোকানে। ২০১৫ সালের ১২ এপ্রিল রাতে তাঁরা একই শিফটে কাজ করছিলেন।

তদন্তকারীদের অভিযোগ, সেই রাতেই দোকানের ভেতরে স্ত্রী পলককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে একাধিকবার আঘাত করেন ভদ্রেশকুমার। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তরুণীর। এরপরই পালিয়ে যান অভিযুক্ত।

পুলিশ পৌঁছনোর আগেই তিনি অদৃশ্য হয়ে যান, আর সেখান থেকেই শুরু হয় দীর্ঘ অনুসন্ধান।

পালানোর পর শেষ দেখা

দোকান থেকে বেরিয়ে ভদ্রেশকুমার প্রথমে তাঁদের অ্যাপার্টমেন্টে যান বলে তদন্তে জানা যায়। সেখান থেকে কিছু ব্যক্তিগত জিনিসপত্র এবং নগদ টাকা নিয়ে বেরিয়ে পড়েন।

তারপর একটি ট্যাক্সি করে তিনি পৌঁছন Newark Liberty International Airport-এর কাছে একটি হোটেলে। খুব ভোরে সেখানে ঘর নেন, কিন্তু তাঁর সঙ্গে কোনও লাগেজ ছিল না।

পরের দিন সকালে তিনি যান Newark Penn Station-এ। তদন্তকারীদের মতে, সেখানেই তাঁকে শেষবার দেখা গিয়েছিল। এরপর আর কোনও সিসিটিভি ফুটেজে তাঁর উপস্থিতি ধরা পড়েনি।

‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকায় নাম

২০১৭ সালের ১৮ এপ্রিল ভদ্রেশকুমারের নাম যুক্ত করা হয় এফবিআইয়ের ‘টপ ১০ মোস্ট ওয়ান্টেড ফিউজিটিভ’ তালিকায়। তদন্তকারীদের মতে, তিনি অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং পালানোর সময় তাঁর কাছে অস্ত্রও থাকতে পারে।

এফবিআইয়ের ধারণা, অভিযুক্তের ভারত, কানাডা বা আমেরিকায় পরিচিত কেউ থাকতে পারে, যাদের সাহায্যে এতদিন তিনি গা ঢাকা দিয়ে থাকতে সক্ষম হয়েছেন।

পুরস্কারের অঙ্ক বাড়াল এফবিআই

পলাতক থাকার ১১ বছর পর তাঁর মাথার দাম বাড়িয়ে ১০ লক্ষ ডলার ঘোষণা করেছে এফবিআই। সংস্থার এক আধিকারিক জানান, এই পুরস্কারের ঘোষণা মানুষের নজর আরও বেশি করে এই মামলার দিকে টানবে এবং পলক পটেলের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে।

জনগণের সাহায্য চায় তদন্তকারী সংস্থা

১৯৫০ সাল থেকে এফবিআইয়ের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকা তৈরি করা হয়েছে বিপজ্জনক পলাতকদের ধরতে সাধারণ মানুষের সাহায্য নেওয়ার জন্য। অতীতে এই তালিকার বহু অভিযুক্তকে নাগরিকদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে।

তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে, ভদ্রেশকুমারের অবস্থান সম্পর্কে কোনও তথ্য থাকলে সরাসরি এফবিআইকে জানাতে হবে। তবে সাধারণ মানুষকে নিজে থেকে অভিযুক্তকে ধরার চেষ্টা না করার অনুরোধও করা হয়েছে।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *