সুনীতা উইলিয়ামসের
মহাকাশে ভারতীয় বংশোদ্ভূত নভোচর সুনীতা উইলিয়ামসের শারীরিক অবস্থার ওপর জল্পনা ক্রমেই বাড়ছে। কিছুদিন আগে প্রকাশিত তাঁর শীর্ণ চেহারার ছবি দেখে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তবে সুনীতা নিজেই জানিয়েছেন, তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ এবং স্বাভাবিক রয়েছেন।
চলতি বছরের জুন মাসে ফ্লরিডা থেকে বোয়িং স্টারলাইনারে চেপে মহাকাশে আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিলেন সুনীতা। সেই সময় তাঁর ওজন ছিল ৬৩ কেজি। কিন্তু মহাকাশে কাটানো প্রায় ১৫০ দিনের পর, সম্প্রতি প্রকাশিত ছবিতে তাঁকে অত্যন্ত রুগ্ন এবং কঙ্কালসার দেখা যায়। এতে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ ছড়ায়।
মহাকাশ থেকে সুনীতার বার্তা
ছবিগুলি প্রকাশ্যে আসার পরই সুনীতা মহাকাশ থেকে এক ভিডিও বার্তায় জানান যে তিনি ভালো আছেন এবং স্বাভাবিক অনুভব করছেন। তিনি বলেন, মহাকাশে দীর্ঘদিন থাকার কারণে শরীরের তরল পদার্থের সঞ্চালনে পরিবর্তন ঘটে, যা শরীরের গঠন ও চেহারায় প্রভাব ফেলে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মহাকাশে মাধ্যাকর্ষণহীন পরিবেশে তরল পদার্থ শরীরের বিভিন্ন অংশে সঠিকভাবে বণ্টিত না হয়ে মস্তিষ্কে জমা হয়। এই কারণেই তাঁর মাথা শরীরের তুলনায় বড় দেখাচ্ছে এবং চোখের নিচে কালি দেখা দিয়েছে।
গবেষণা কী বলছে?
নাসার গবেষণা বলছে, মহাকাশে দীর্ঘসময় থাকার ফলে শরীরের তরল পদার্থের সঞ্চালন প্রভাবিত হয়। এটি মাথায় চাপ তৈরি করে, রেটিনা ফুলে যেতে পারে এবং শরীরের অন্যান্য অংশের গঠনে পরিবর্তন আনে। সুনীতা জানান, মহাকাশে শরীরচর্চার কারণে তাঁর উরু এবং পশ্চাদ্দেশের আকার বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে তাঁর ওজন কমেনি।
২০২০ সালে নাসার মহাকাশচারী অ্যান্ড্রু মরগানের অংশগ্রহণে পরিচালিত ‘ফ্লুইড শিফ্টস’ গবেষণাতেও দেখা গেছে, মহাকাশে শরীরের তরল পদার্থের ঊর্ধ্বমুখী গতির কারণে মাথার আকার এবং চাপ বৃদ্ধি পায়, যা শারীরিক অস্বাভাবিকতা সৃষ্টি করে।
স্বাস্থ্য নিয়ে মিশ্র দাবি
নাসার মুখপাত্র জিমি রাসেল জানিয়েছেন, মহাকাশে থাকা নভোচারীদের নিয়মিত শারীরিক পরীক্ষা করা হয় এবং তাঁদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য চিকিৎসকও থাকেন। তবে, নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে নাসার এক অজ্ঞাত কর্মীর উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে যে, সুনীতার ওজন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং তাঁর অবস্থা ‘হাড় ও চামড়া ছাড়া কিছু নেই’।
সুনীতার মিশন
সুনীতা এবং তাঁর সহকর্মীরা আট দিনের নির্ধারিত মহাকাশ সফরে গিয়েছিলেন। কিন্তু বোয়িং স্টারলাইনার মহাকাশযানের প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে মিশনটি পাঁচ মাসে প্রসারিত হয়েছে। নাসার পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তাঁদের পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার জন্য স্পেসএক্সের ‘ক্রু ড্রাগন’ মহাকাশযান পাঠানো হবে।
শেষ কথা
সুনীতার শারীরিক অবস্থা নিয়ে পরস্পরবিরোধী দাবির মধ্যে, তাঁর সুস্থ থাকার বার্তা কিছুটা হলেও স্বস্তি দিয়েছে। তবে চূড়ান্ত সত্য কী, তা এখনও স্পষ্ট নয়। নাসা তাঁর স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। বিশ্ববাসীর আশা, সুনীতা সুস্থ থেকে পৃথিবীতে ফিরে আসবেন।