সিরিয়ায় বিদ্রোহী কুর্দদের সঙ্গে চুক্তি!
সিরিয়ার দীর্ঘদিনের সংঘাতের মাঝে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় নিল দেশটির অন্তর্বর্তী সরকার। বিদ্রোহী কুর্দদের সঙ্গে বোঝাপড়া করে তারা একটি ঐতিহাসিক চুক্তিতে উপনীত হয়েছে। সোমবার সিরিয়ার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শরা এবং সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (এসডিএফ) কমান্ডার মাজলুম আবদি একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেন। এই চুক্তির ফলে সিরিয়ার উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে।
কী রয়েছে চুক্তিতে?
চুক্তির শর্ত অনুসারে—
✔ উত্তর-পূর্ব সিরিয়ার নিয়ন্ত্রণ এখন থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের হাতে যাবে, যা এতদিন বিদ্রোহী কুর্দদের দখলে ছিল।
✔ কুর্দ জনগোষ্ঠীর সাংবিধানিক অধিকার সংরক্ষিত থাকবে। অর্থাৎ, কুর্দরা তাদের ভাষায় শিক্ষা গ্রহণ করতে পারবে এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারবে।
✔ বিদ্রোহীদের স্বায়ত্তশাসনের দাবি কমে এসেছে, এবং তারা সরকারের শর্ত মেনে নিয়েছে।
এই সমঝোতা কেন গুরুত্বপূর্ণ?
বিগত কয়েক দশক ধরে কুর্দরা রাজনৈতিক ও সামাজিক দিক থেকে কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল। সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের শাসনে তারা বারবার দমন-পীড়নের শিকার হয়। ২০১১ সালে সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরু হলে কুর্দ গোষ্ঠী বিদ্রোহ ঘোষণা করে এবং স্বাধীন স্বায়ত্তশাসনের দাবি তোলে।
এই বিদ্রোহী গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যুক্ত ছিল এবং আমেরিকার সমর্থনও পেয়েছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসতে বাধ্য হয়েছে।
আইএস বন্দিরা কী সেনাবাহিনীতে যোগ দেবে?
এই চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল আইএস-এর সঙ্গে যুক্ত সন্দেহভাজন প্রায় ৯,০০০ বন্দির ভবিষ্যৎ। এতদিন তারা কুর্দ বাহিনীর হেফাজতে ছিল, কিন্তু এখন তাদের সিরিয়ার সরকারের হাতে তুলে দেওয়া হবে।
অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, এই বন্দিদের সেনাবাহিনীতে নিয়োগ করা হতে পারে। এতে সিরিয়ার সামরিক বাহিনীর শক্তি বাড়বে এবং সম্ভবত আসাদপন্থী সংখ্যালঘু আলাওয়াইট গোষ্ঠীকে ক্ষমতা থেকে সরানোর কাজে ব্যবহৃত হতে পারে। তবে এই বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক মহল নজর রাখছে।
সিরিয়ায় চলমান সংঘর্ষ ও চুক্তির প্রভাব
সিরিয়ায় বর্তমানে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘাত চলছে। গত ডিসেম্বরে বিদ্রোহী গোষ্ঠী হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস) এবং ‘জইশ আল-ইজ্জা’ দামাস্কাস দখল করে বাশার আল-আসাদের সরকারকে উৎখাত করে।
গত সপ্তাহ থেকে সিরিয়ায় সহিংসতা চরমে পৌঁছেছে। ব্রিটিশ পর্যবেক্ষক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ৭৪৫ জন নিরীহ সাধারণ মানুষ মারা গেছেন, যার মধ্যে ১২৫ জন সরকারি আধিকারিক এবং আসাদের অন্তত ১৪৮ জন অনুগামী ছিলেন।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
সিরিয়ার অন্তর্বর্তী সরকার দাবি করেছে যে, আসাদের সমর্থকদের বিরুদ্ধে অভিযান শেষ হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপে পড়ে এই চুক্তি করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই সমঝোতা যদি সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়, তাহলে সিরিয়ায় কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরে আসতে পারে। তবে রাজনৈতিক ও সামরিক ভারসাম্য কতটা বজায় থাকে, তা নির্ভর করবে ভবিষ্যতের পরিস্থিতির ওপর।
ভারতের বদলার জয়: ২৫ বছর পর নিউ জিল্যান্ডকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি রোহিতদের হাতে