জানালেন বায়ুসেনা প্রধান!
ভারতের বায়ুসেনা প্রধান অমরপ্রীত সিংহ জানালেন, চলতি বছরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক পদক্ষেপ ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ পাকিস্তানের অন্তত পাঁচটি যুদ্ধবিমান ধ্বংস করেছে ভারত। এর মধ্যে রয়েছে আমেরিকার তৈরি শক্তিশালী এফ-১৬ যুদ্ধবিমানও। শুধু তাই নয়, ভারতীয় বাহিনী পাকিস্তানের ভূখণ্ডে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার ভিতরে ঢুকে সুনির্দিষ্ট আঘাত হেনেছে।
শুক্রবার বায়ুসেনা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে অমরপ্রীত বলেন, “সিঁদুর অভিযান আমাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে। পাকিস্তানের এফ-১৬ ও জেএফ-১৭ শ্রেণির পাঁচটি যুদ্ধবিমান আমরা ধ্বংস করেছি। পাশাপাশি ওদের রাডার, কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার, রানওয়ে ও হ্যাঙ্গারগুলিও ধ্বংস হয়েছে।”
তিনি জানান, এই সংঘর্ষের মোড় ঘোরাতে বড় ভূমিকা নিয়েছে দূরপাল্লার ভূমি থেকে আকাশে মারার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা (SAM)। তার সাহায্যে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে গভীরভাবে প্রবেশ করে লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত আঘাত হানতে পেরেছে ভারত। যদিও ব্যবহৃত অস্ত্রের নাম স্পষ্টভাবে জানাননি বায়ুসেনা প্রধান, তবে মনে করা হচ্ছে রাশিয়ার তৈরি এস-৪০০ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাই ব্যবহার করা হয়েছিল।
অমরপ্রীত আরও জানান, সিঁদুর অভিযানে ভারতের লক্ষ্য ছিল একদম পরিষ্কার ও পরিকল্পিত। দ্রুততার সঙ্গে পরিকল্পনা কার্যকর করে এক রাতের মধ্যেই পাকিস্তানের শক্তি ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। “আমাদের নিশানা ছিল নিখুঁত, আর হতাহতের সংখ্যা ছিল ন্যূনতম। এই অভিযানেই দেখা গিয়েছে বায়ুসেনা, নৌসেনা ও স্থলসেনার মধ্যে সমন্বয়ের অসাধারণ উদাহরণ,” বলেন তিনি।
এই অভিযান শুরু হয় ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পর। ভারত তখন পাকিস্তানকে হামলার জন্য দায়ী করে এবং প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নেয়। ৬ মে মধ্যরাতে পাকিস্তানের মাটিতে প্রবেশ করে ভারতীয় সেনা শুরু করে ‘অপারেশন সিঁদুর’। এতে পাকিস্তানের একাধিক জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করা হয়। এর পর টানা চার দিন দুই দেশের মধ্যে সংঘর্ষ চলে এবং অবশেষে ১০ মে সংঘর্ষবিরতির সিদ্ধান্ত হয়। তবে দুই দেশের সম্পর্ক এখনও তলানিতে, এমনকি সিন্ধু চুক্তিও ভারত স্থগিত রেখেছে।
পাকিস্তানের তরফ থেকে যদিও বারবার দাবি করা হয়েছে যে ভারতীয় বাহিনীর বিমান ধ্বংস করা হয়েছে, তবে ভারতের পক্ষ থেকে এতদিন পর্যন্ত নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। কেবল সেনাপ্রধান জেনারেল অনিল চৌহান এক সাক্ষাৎকারে যুদ্ধবিমান ধ্বংসের কথা স্বীকার করেছিলেন, কিন্তু সংখ্যা জানাননি। এ বার প্রথমবারের মতো বায়ুসেনা প্রধান স্পষ্ট করে দিলেন, পাকিস্তানের অন্তত পাঁচটি যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছে।
‘অপারেশন সিঁদুর’ কেবল একটি সামরিক অভিযান নয়, এটি ভারতের কৌশলগত দক্ষতা ও প্রতিরক্ষা ক্ষমতার প্রদর্শন। পাকিস্তানের মাটির এত গভীরে গিয়ে নিশানা করা ভারতের সক্ষমতার এক ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত। পাশাপাশি, এটি প্রমাণ করেছে যে ভারতীয় সেনার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার শক্তি কেবল সীমান্তেই সীমাবদ্ধ নয়, প্রয়োজনে বহু দূরেও কার্যকর হতে পারে।
অমরপ্রীত সিংহের বক্তব্যে স্পষ্ট, পাকিস্তানের জঙ্গি তৎপরতার জবাব দিতে ভারত ভবিষ্যতেও একই দৃঢ়তা দেখাবে। আর ‘সিঁদুর’ অভিযানের সাফল্য সেই ভবিষ্যতের পথই অনেকটা স্পষ্ট করে দিয়েছে—যেখানে আকাশে ভারতের প্রাধান্য আরও অটুট এবং সুনিশ্চিত।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?