সিঁড়ি ভাঙলেই হাঁটুতে ব্যথা!
অনেকেই লক্ষ্য করেন, সাধারণভাবে হাঁটাচলা করলে হাঁটুতে তেমন ব্যথা হয় না, কিন্তু সিঁড়ি ভাঙতে গেলেই তীব্র যন্ত্রণা শুরু হয়। বিশেষ করে আর্থ্রাইটিস বা হাঁটুর সমস্যায় ভোগা মানুষদের ক্ষেত্রে এই সমস্যাটা আরও বেশি দেখা যায়। এর পেছনে রয়েছে হাঁটুর উপর চাপের ভিন্নতা এবং জয়েন্টের ভেতরের কিছু নির্দিষ্ট কাঠামোর ভূমিকা।
হাঁটুর জয়েন্টকে একটা “কবজার মতো” ভাবা যায়, যেখানে উরুর হাড় (ফিমার), পায়ের নিচের হাড় (টিবিয়া) এবং মাঝের কার্টিলেজ একসঙ্গে কাজ করে। হাঁটার সময় এই অংশগুলোর উপর চাপ তুলনামূলকভাবে কম ও সমানভাবে বণ্টিত থাকে, তাই ব্যথা কম হয়। কিন্তু সিঁড়ি ওঠা-নামার সময় হাঁটুর উপর চাপ অনেক বেড়ে যায়—কারণ তখন শরীরের পুরো ওজন এক পায়ে বেশি কেন্দ্রীভূত হয় এবং হাঁটুর ভাঁজ বেশি গভীর হয়।
এই অবস্থায় সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ে হাঁটুর সামনের ছোট হাড়, অর্থাৎ প্যাটেলা বা মালাইচাকি-র উপর। চিকিৎসা বিজ্ঞানে এই ধরনের সমস্যাকে বলা হয় Patellofemoral Pain Syndrome। এই অবস্থায় প্যাটেলা ঠিকভাবে তার জায়গায় না চললে বা কার্টিলেজে ক্ষয় থাকলে হাড়ের মধ্যে ঘর্ষণ বাড়ে, আর তখনই তীব্র ব্যথা শুরু হয়—বিশেষ করে সিঁড়ি ভাঙার সময়।
এছাড়া বয়সজনিত কার্টিলেজ ক্ষয়, অতিরিক্ত ওজন, ফ্ল্যাট ফুট বা দীর্ঘদিনের চাপের কারণে হাঁটুর গঠন দুর্বল হয়ে গেলে এই সমস্যা আরও বেড়ে যায়। এমনকি তরুণ খেলোয়াড় বা কমবয়সীদের মধ্যেও এটি দেখা যেতে পারে, যদি তারা অতিরিক্ত জিম বা ভুলভাবে ব্যায়াম করে।
সংক্ষেপে বলা যায়, হাঁটার সময় হাঁটু “সহজ ও সমান চাপ” পায়, কিন্তু সিঁড়ি ভাঙার সময় “অতিরিক্ত ও অসম চাপ”—এই পার্থক্যই ব্যথার মূল কারণ।
স্ট্রোকের পর কেমন আছেন রাহুল রায়? পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে গুজবে মুখ খুললেন অভিনেতা