সাসপেনশন ইস্যুতে সাত দিনের সময় নিল রাজ্য!
ভোটার তালিকায় গরমিলের অভিযোগে চার রাজ্য সরকারি আধিকারিকের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের সাসপেনশন ও এফআইআর দায়েরের নির্দেশ ঘিরে ফের এক দফা উত্তেজনা ছড়াল প্রশাসনিক মহলে। এই পরিস্থিতিতে বুধবার দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের সদর দফতরে মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ এক ঘণ্টার বৈঠক করেন কমিশনের আধিকারিকদের সঙ্গে এবং সিদ্ধান্ত জানিয়ে আসেন— এই বিষয়ে চূড়ান্ত পদক্ষেপ নিতে রাজ্য সরকার সাত দিন সময় চায়।
সূত্রের খবর, মুখ্যসচিব আনুষ্ঠানিকভাবে কমিশনের কাছে ২১ আগস্ট পর্যন্ত সময় চেয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে রাজ্য সরকার বিষয়টি খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত জানাবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে কমিশন ও রাজ্য— উভয় পক্ষ থেকেই এখনো পর্যন্ত এই বিষয়ে প্রকাশ্যে কিছু জানানো হয়নি।
দিল্লি থেকে ফিরে মুখ্যসচিবের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে। সেই আলোচনার ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ স্থির হবে বলে নবান্ন সূত্রে খবর। এছাড়াও, রাজ্যের প্রশাসনিক স্তরে এবং মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের সঙ্গেও পরামর্শ করা হতে পারে।
প্রসঙ্গত, ৫ আগস্ট প্রথমবার কমিশনের তরফে শাস্তিমূলক পদক্ষেপের বার্তা আসে। তার পরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যে জানিয়ে দেন— সরকার কোনও আধিকারিকের বিরুদ্ধে তড়িঘড়ি ব্যবস্থা নেবে না এবং তাঁদের সর্বোচ্চ সুরক্ষা দেবে। ৮ আগস্ট ফের কমিশনের তরফে কড়া চিঠি আসে, যেখানে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জবাব চাওয়া হয়। সেই অনুযায়ী সোমবারই রাজ্য তাদের অবস্থান কমিশনকে জানায় এবং তারপরেই মনোজ পন্থকে তলব করে কমিশন।
বুধবার বিকেল ৫টার মধ্যে হাজিরা দিতে বলা হলেও মুখ্যসচিব তার আগেই পৌঁছে যান নির্বাচন সদনে। সাড়ে ৪টা থেকে সাড়ে ৫টা পর্যন্ত তিনি সেখানে ছিলেন। বেরিয়ে আসার পর জানা যায়, তিনি সাত দিন সময় চেয়েছেন সাসপেনশন সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিতে।
তবে কমিশনের নির্দেশে সরাসরি চার আধিকারিককে বরখাস্ত না করে, রাজ্য আপাতত দুইজন— এক জন সহকারী নির্বাচনী আধিকারিক (এইআরও) এবং এক জন ডেটা এন্ট্রি অপারেটর—কে নির্বাচন সংক্রান্ত দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছে। এঁরা হলেন পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না কেন্দ্রের সুদীপ্ত দাস এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর পূর্বের সুরজিৎ হালদার।
মুখ্যসচিব কমিশনে পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করেন, সরকারি আধিকারিকরা বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। অনেক সময় নির্বাচন সংক্রান্ত দায়িত্বও নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সম্পন্ন করতে হয়। এতে অধস্তন কর্মীদের উপর দায়িত্ব অর্পণ করাই স্বাভাবিক। তাঁদের বিরুদ্ধে যদি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ছাড়াই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তা হলে সেটা অন্য সব সরকারি আধিকারিকদের মনোবলেও প্রভাব ফেলতে পারে।
কয়েক সপ্তাহ ধরে নতুন অভ্যাস শুরু করেছেন সোহা আলি খান, শরীর ভালো রাখতে খালি পেটে কী খান তিনি?