সরকারি ভাতার সুবিধা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া!
নানা সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেয়েই অনেক মানুষ জীবনের চাকা ঘোরাচ্ছেন সহজে। লক্ষ্মীর ভান্ডার থেকে শুরু করে কৃষি সহায়তা, বার্ধক্যভাতা বা প্রতিবন্ধী ভাতা—এই ভরসার হাত ধরে অনেকেই পেয়েছেন একটা ন্যূনতম নিশ্চয়তা। কিন্তু সেই ছবির পাশে কিছু অভিযোগও থাকছে, যা সরকারকেই ভাবিয়ে তুলছে।
উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরের বাসিন্দা রত্না বিশ্বাস জানান, “লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা নিয়ম করে আসে। সংসারে স্বামীর একার রোজগারে যে দিন চলে না, এই টাকা কিছুটা হলেও সাহস জোগায়।” তাঁর মতো বহু গৃহবধূ বলছেন, এই প্রকল্প মহিলাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। কিছু কেনাকাটার স্বাধীনতা, জরুরি প্রয়োজন মেটানোর সামর্থ্য—এগুলো জীবনে আগে ছিল না।
কৃষকদের ক্ষেত্রেও সরকার-প্রদত্ত সাহায্যের জোর বেশ চোখে পড়ার মতো। কৃষক বন্ধু প্রকল্পে নিয়ম করে ভাতা পান দক্ষিণ ২৪ পরগনার কৃষক হরিদাস ঘোষ। বলছিলেন, “জমিতে ফসল নষ্ট হলেও কিছুটা ভরসা থাকে। এই টাকাটা অন্তত সময়মতো হাতে পাই, সেটা অনেক কিছু।”
তবে এই সুন্দর ছবির মাঝেও কিছু কালো দাগ রয়েছে। বারুইপুরের এক বৃদ্ধ, হরিপদ মণ্ডল, জানান, “বার্ধক্যভাতা পাই ঠিকই, কিন্তু মাঝেমধ্যে কয়েক মাস করে দেরি হয়। ব্যাংকে ঘুরে ক্লান্ত হয়ে যাই। আবার অনেক সময় টাকাই ঢোকে না।” ঠিক কী কারণে টাকা আসছে না, তা নিয়েও বহু ক্ষেত্রেই পরিষ্কার ব্যাখ্যা মেলে না। তাতেই বাড়ছে বিভ্রান্তি।
এছাড়া, একাংশ মানুষের অভিযোগ, প্রকল্পের নাম নথিভুক্ত থাকলেও টাকা পান না। উত্তর দিনাজপুরের করণদিঘির এক বিধবা মহিলা বলেন, “লক্ষ্মীর ভান্ডারের আবেদন করেছি অনেক আগেই। ‘পেন্ডিং’ দেখায়, কিন্তু টাকা আসেনি। কাউকে কিছু বললে শুধু ঘোরানো হয়।”
বেকার যুবকদের জন্য দেওয়া স্টাইপেন্ড বা যুবশ্রী প্রকল্প নিয়েও কিছু অভিযোগ উঠে এসেছে। কলেজ পড়ুয়া রিজিয়া খাতুন জানান, “যুবশ্রীর টাকা মাঝে মাঝে আসে, আবার কখনও কখনও অনিয়মিত হয়ে যায়। ফলে ঠিকভাবে নির্ভর করা যায় না।”
সরকারের তরফে যদিও বলা হয়েছে, প্রকল্পে স্বচ্ছতা আনার জন্য ডিজিটাল যাচাই চালু হয়েছে। কিন্তু অনেক সময়ে যাদের মোবাইল নম্বর বন্ধ বা আধার কার্ডে তথ্য ঠিক নেই, তাদের ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হয়। এই খুঁটিনাটি সমস্যাগুলির কারণেই একাংশ সুবিধাপ্রাপ্ত নাগরিক ক্ষুব্ধ।
যদিও সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষই বলছেন, এই প্রকল্পগুলির জন্যই আজ তাঁরা অনেকটা নিশ্চিন্ত। রেশন, বিদ্যুৎ, শিক্ষার সুযোগ, এমনকি স্বাস্থ্য পরিষেবায়ও এই ধরনের ভাতার গুরুত্ব অনেক।
নবান্ন সূত্রের খবর, প্রতিটি প্রকল্পের ওপর নিয়মিত নজরদারি চালানো হচ্ছে। কোথাও যদি অনিয়ম বা দেরির খবর আসে, প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছে। আগামী দিনে আরও স্বচ্ছ ও দ্রুত পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে নতুন সফটওয়্যারও আনা হতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, সরকারি ভাতা এখনও রাজ্যের বহু মানুষের কাছে আশার আলো। তবে সেই আলো যাতে নির্বিঘ্নে পৌঁছায় সকলের ঘরে, তার জন্য পরিকাঠামো ও মনোযোগ—দুটিই সমানভাবে জরুরি।
ত্বকে চাই উজ্জ্বল জেল্লা? গরমে রোজ খান এই ‘গোলাপজল মিশ্রিত পানীয়’