সব হারিয়েও কি ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন মমতা?
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন একটাই—মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন? রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, পরিস্থিতি অনেকটাই মনে করিয়ে দিচ্ছে ১৯৭৭ সালের পরাজয়ের পর ইন্দিরা গান্ধীর সময়কে। তবে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি সব সময় এক রকম হয় না, আর সেই কারণেই মমতার সামনে পথটা আরও কঠিন বলেই মনে করা হচ্ছে।
নির্বাচনে হারের পর মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেসে ভাঙনের ছবি স্পষ্ট হয়েছে। বহু সাংসদ, বিধায়ক ও দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ নেতারা দল ছেড়েছেন বা দূরত্ব তৈরি করেছেন। স্থানীয় স্তরেও একের পর এক জনপ্রতিনিধি দলবদল করছেন। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে দলের প্রতীক নিয়েও আইনি ও সাংগঠনিক লড়াইয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতির সঙ্গে অনেকেই ইন্দিরা গান্ধীর রাজনৈতিক জীবনের তুলনা টানছেন। ১৯৭৭ সালে পরাজয়ের পর কংগ্রেস ভেঙেছিল, ইন্দিরাকেও দল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু মাত্র তিন বছরের মধ্যে তিনি আবার দেশের ক্ষমতায় ফিরেছিলেন। তবে সেই প্রত্যাবর্তনের অন্যতম কারণ ছিল তাঁর আত্মসমালোচনার মনোভাব এবং নতুন রাজনৈতিক বার্তা।
মমতার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জের জায়গা আলাদা। তাঁর ব্যক্তিগত দুর্নীতির কোনও প্রমাণ সামনে না এলেও তৃণমূল সরকারের আমলে দুর্নীতির একাধিক অভিযোগ জনমানসে বড় প্রভাব ফেলেছে। শিক্ষক নিয়োগ থেকে কাটমানি, বিভিন্ন নেতার বিপুল সম্পত্তি—এসব ইস্যু বিরোধীদের হাতে বড় অস্ত্র হয়ে উঠেছে। ফলে শুধুমাত্র সহানুভূতির ঢেউয়ে ভর করে রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তন সহজ হবে না।
সমালোচকদের মতে, দলের ভেতরে নেতৃত্বের ধরন নিয়েও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে আলোচনার অভাব, নির্দিষ্ট কয়েক জনের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এবং কর্মীদের মতামত যথেষ্ট গুরুত্ব না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নির্বাচনী পরাজয়ের পরও আত্মসমালোচনার বদলে ভোট প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলায় কর্মীদের একাংশের মধ্যেও হতাশা তৈরি হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের মতে, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার ফলে তৃণমূলের সাংগঠনিক কাঠামো অনেকটাই ক্ষমতাকেন্দ্রিক হয়ে উঠেছিল। সরকার থাকায় যে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাব ছিল, ক্ষমতা হারানোর সঙ্গে সঙ্গে তার বড় অংশ ভেঙে পড়েছে। ফলে বহু নেতা নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে অন্য পথে হাঁটছেন।
তবে রাজনৈতিক ইতিহাস বলছে, কোনও নেতার ভবিষ্যৎ শুধুমাত্র বর্তমান পরিস্থিতি দিয়ে বিচার করা যায় না। বাংলার রাজনীতিতে মমতা এখনও অন্যতম পরিচিত মুখ এবং তাঁর ব্যক্তিগত জনভিত্তিও পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। আগামী কয়েক বছরে তিনি যদি নতুন রাজনৈতিক বার্তা, বিশ্বাসযোগ্য সংগঠন এবং জনমুখী আন্দোলন গড়ে তুলতে পারেন, তা হলে প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
এখন নজর ২১ জুলাইয়ের কর্মসূচি এবং পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপের দিকে। সেই কর্মসূচিতে মানুষের সাড়া কতটা মেলে, দলকে কতটা ঐক্যবদ্ধ রাখা যায় এবং বিরোধী রাজনীতির নতুন রূপরেখা কতটা স্পষ্ট হয়, তার উপরই অনেকটা নির্ভর করবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের পরবর্তী অধ্যায়।
:::
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?