জামিনে ছাড়া পেয়ে বললেন নুসরত ফারিয়া!
এক রাতের জেল হেফাজতের পর মঙ্গলবার সকালে জামিনে মুক্তি পেলেন বাংলাদেশি জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরত ফারিয়া। খুনের চেষ্টার অভিযোগে রবিবার তাঁকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। ঢাকার একটি মামলার ভিত্তিতে সোমবার তাঁকে পাঠানো হয় বিচারবিভাগীয় হেফাজতে। আর পরের দিনই আদালত থেকে জামিন পেলেন অভিনেত্রী। জামিন পেয়ে প্রথমবার মুখ খুললেন তিনি— জানালেন শারীরিক অসুস্থতার কথা, কৃতজ্ঞতা জানালেন পাশে থাকা সকলকে।
ফেসবুকে নিজের অফিসিয়াল পেজে নুসরত লিখেছেন,
“সকলকে অনেক অনেক ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা, যাঁরা আমার পাশে ছিলেন। শারীরিক অসুস্থতার জন্য আজ কথা বলতে পারিনি। সুস্থ হয়ে খুব দ্রুত ফিরে আসব আপনাদের মাঝে।”
এই পোস্টেই স্পষ্ট— ঘটনার ধাক্কা সামলেও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েননি ফারিয়া, বরং ধৈর্য রেখেই পরিস্থিতির মোকাবিলা করছেন।
কী ছিল অভিযোগ? কীভাবে জামিন পেলেন ফারিয়া?
গত বছর ১৯ জুলাই ঢাকার ভাটারা এলাকায় এক ব্যক্তি— এনামুল হক— গুলিবিদ্ধ হন। চলতি মাসের ৩ মে, প্রায় দশ মাস পরে এনামুল ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন। মামলার অভিযোগপত্রে অভিনেত্রী নুসরত ফারিয়ার নাম জড়ায়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই ১৯ মে তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
তবে শুনানির সময় নুসরতের আইনজীবী আদালতে জানান, ঘটনার সময় নুসরত বাংলাদেশেই ছিলেন না। তাঁর পক্ষে প্রয়োজনীয় প্রমাণ ও নথি আদালতে জমা দেওয়া হয়। আদালত তা বিবেচনা করে জামিন মঞ্জুর করে।
শিল্পীমহলের প্রতিক্রিয়া
নুসরতের গ্রেফতারের ঘটনা শিল্পীমহলেও নিন্দার ঝড় তোলে। অভিনেত্রী আজমেরি হক বাঁধন ফেসবুকে লেখেন,
“কী লজ্জার! একটি ফ্যাসিস্ট শাসনের চাপে এই মেয়েটির কিছুই করার ছিল না। আমরা এমন এক দেশে বাস করি, যেখানে ন্যায্য অধিকার শব্দটাই অচেনা হয়ে গেছে।”
তিনি আরও বলেন, “এটা শুধু নুসরতের সঙ্গে নয়, আমাদের সবার সঙ্গেই অন্যায়।”
নুসরত রাজনৈতিকভাবে সচেতন ও সোচ্চার। বিগত বছরগুলিতে গণআন্দোলনের সময় তাঁকে বারবার দেখা গেছে রাজপথে। অনেকেই মনে করছেন, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগও হয়তো সেই প্রতিবাদেরই প্রতিশোধ।
এখন কী করছেন নুসরত?
জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর আপাতত বিশ্রামে রয়েছেন নুসরত। শারীরিকভাবে দুর্বল হলেও মানসিকভাবে দৃঢ় তিনি। তাঁর ভক্তরা আশায় রয়েছেন— খুব শিগগিরই ফারিয়া আবার পর্দায় ফিরবেন।
দেশপ্রেমের নজির: ৫০ লক্ষের প্রস্তাব ফিরিয়ে রাহুল বৈদ্যের তুরস্কে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত