শুধু সরকারের নয়, গোটা ব্যবস্থার প্রতি অনাস্থা! ‘আরশোলা’!
দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া তথাকথিত ‘আরশোলা’ আন্দোলন এখন আর শুধুমাত্র সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ নয়। এই আন্দোলন শিক্ষা, কর্মসংস্থান, পরীক্ষা ব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক কাঠামো— সব মিলিয়ে গোটা ব্যবস্থার প্রতি তরুণ প্রজন্মের গভীর অনাস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছে। বিচারপতির একটি বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া প্রতিবাদ দ্রুতই লক্ষ লক্ষ ছাত্র-যুবকের আন্দোলনে পরিণত হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে সরকার, বিরোধী দল এবং বিভিন্ন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের উপরও।
চাকরির অভাবেই ক্ষোভের বিস্ফোরণ
দেশে উচ্চশিক্ষিত বেকারের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। সরকারি কলেজে সীমিত আসন, বেসরকারি শিক্ষার বিপুল খরচ এবং পড়াশোনা শেষ করেও চাকরি না পাওয়ার অনিশ্চয়তা— সব মিলিয়ে ছাত্র-যুবকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষোভ জমছিল।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ২৫-২৯ বছর বয়সি স্নাতকদের মধ্যে বেকারত্বের হার প্রায় ২০ শতাংশ। ১৫-২৫ বছর বয়সি ডিগ্রিধারীদের ক্ষেত্রে সেই হার আরও বেশি। ফলে সরকারি চাকরির প্রতি নির্ভরতা বেড়েছে বহুগুণ।
পরীক্ষা ব্যবস্থার কেন্দ্রীকরণ নিয়ে প্রশ্ন
প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, জাতীয় স্তরে পরীক্ষাগুলি কেন্দ্রীভূত হওয়ায় কোনও অনিয়ম বা প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটলে তার প্রভাব একসঙ্গে লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থীর উপর পড়ছে। আগে রাজ্যভিত্তিক পরীক্ষায় সমস্যা সীমিত থাকলেও এখন একটি পরীক্ষার দুর্নীতি সারা দেশের ছাত্রছাত্রীদের ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
একই সঙ্গে বড় পরীক্ষাগুলিকে ঘিরে কোচিং শিল্প, প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং সংঘবদ্ধ জালিয়াতি চক্র আরও সক্রিয় হয়েছে বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
শুধু সরকার নয়, বিরোধীরাও চাপে
এই আন্দোলনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল, এর নেতৃত্ব প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলির হাতে নয়। ফলে সরকার যেমন সমালোচনার মুখে পড়েছে, তেমনই বিরোধী দলগুলিও আন্দোলনের নেতৃত্ব নিজেদের হাতে আনতে পারেনি। তরুণদের বড় অংশের ক্ষোভ রাজনৈতিক ব্যবস্থার সামগ্রিক ব্যর্থতার দিকেই ইঙ্গিত করছে।
প্রতিবাদের ভাষাও বদলেছে
দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনকারীদের হাতে দেখা গিয়েছে ব্যতিক্রমী পোস্টার ও স্লোগান। অনেকেই নিজেদের ‘আরশোলা’ পরিচয়ে তুলে ধরে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সামাজিক মাধ্যমেও এই আন্দোলন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, যা তরুণদের অংশগ্রহণ আরও বাড়িয়ে দেয়।
বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কিছু শিক্ষাবিদের মতে এই আন্দোলনের মূল কারণ দুটি—
- পরীক্ষা ব্যবস্থার অতিরিক্ত কেন্দ্রীকরণ।
- শিক্ষা ও পরীক্ষাকে ক্রমশ বাজারনির্ভর বা পণ্যভিত্তিক ব্যবস্থায় পরিণত করা।
তাঁদের মতে, একটি পরীক্ষার উপর কোটি কোটি শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নির্ভরশীল হওয়ায় সামান্য অনিয়মও বিশাল আকারের জনরোষ সৃষ্টি করছে।
সরকারের পদক্ষেপ, কিন্তু সংশয় রয়ে গেছে
সরকার প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো অপরাধে দ্রুত বিচার, বিশেষ আদালত গঠন এবং কঠোর শাস্তির আশ্বাস দিয়েছে। তবে প্রতিবেদন অনুযায়ী, অনেক বিশেষজ্ঞের মত, শুধু শাস্তি বাড়ালেই সমস্যার সমাধান হবে না। যদি পরীক্ষা ও সুযোগের কেন্দ্রীভূত কাঠামো অপরিবর্তিত থাকে, তাহলে ভবিষ্যতেও একই ধরনের সংকট ফিরে আসতে পারে।
সব মিলিয়ে, এই আন্দোলন শুধু একটি পরীক্ষা বা একটি ঘটনার প্রতিবাদ নয়; বরং কর্মসংস্থান, শিক্ষা, সুযোগের অভাব এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থার প্রতি তরুণ প্রজন্মের ক্রমবর্ধমান হতাশার বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই উঠে এসেছে
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।