শুধু রান বা উইকেট নয়!
ভারতীয় ক্রিকেটে নতুন এক সংস্কৃতির সূচনা করলেন ভিভিএস লক্ষ্মণ। শুধু রান করা বা বেশি উইকেট নেওয়াই আর সাফল্যের একমাত্র মাপকাঠি নয়, দলের জন্য ইতিবাচক মানসিকতা, শৃঙ্খলা এবং প্রতিটি মুহূর্তে সেরাটা দেওয়ার মানসিকতাকেও সমান গুরুত্ব দিতে চাইছে ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট। সেই ভাবনা থেকেই চালু হয়েছে নতুন সম্মান— ‘বেস্ট অ্যাটিটিউড অ্যাওয়ার্ড’।
বর্তমানে জ়িম্বাবোয়ে সফরে অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন লক্ষ্মণ। তাঁর উদ্যোগেই এই বিশেষ পুরস্কার চালু হয়েছে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের পর ভারত টানা সাতটি ম্যাচে জয়হীন ছিল। অবশেষে প্রথম জয়ের পর থেকেই নতুন এই পুরস্কারের মাধ্যমে ক্রিকেটারদের আলাদা ভাবে উৎসাহিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এই সম্মান পাওয়ার জন্য শতরান করা বা পাঁচ উইকেট নেওয়া জরুরি নয়। বরং মাঠে ও মাঠের বাইরে একজন ক্রিকেটারের আচরণ, পরিশ্রম, শৃঙ্খলা, দলগত মানসিকতা এবং প্রতিটি মুহূর্তে ইতিবাচক মনোভাবই হবে বিচার্যের মূল ভিত্তি।
সিরিজ়ের প্রথম ম্যাচের পর এই নতুন পুরস্কারের প্রথম প্রাপক হন তিলক বর্মা। সেই ম্যাচে তিনি একটি ক্যাচ নিয়েছিলেন, একটি চার মেরেছিলেন এবং জয়সূচক রানও তাঁর ব্যাট থেকেই আসে। পরিসংখ্যানের বিচারে ইনিংসটি খুব বড় না হলেও, দলের জন্য তাঁর দায়বদ্ধতা এবং প্রতিটি মুহূর্তে ইতিবাচক ভূমিকার জন্যই তাঁকে বেছে নেওয়া হয়।
এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে লক্ষ্মণ বলেন, একজন ক্রিকেটারের দক্ষতা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই গুরুত্বপূর্ণ তার মানসিকতা ও চরিত্র। তাঁর কথায়, “ইতিবাচক মনোভাব একজন ক্রিকেটারের দক্ষতার মতোই মূল্যবান। তাই শুধু ব্যাটিং, বোলিং বা ফিল্ডিংয়ের পরিসংখ্যান নয়, আমরা সেই মানসিকতাকেও সম্মান জানাতে চাই যা দলের সংস্কৃতিকে আরও শক্তিশালী করে।”
পুরস্কারপ্রাপকের নাম বাছাইয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ভারতীয় দলের সাপোর্ট স্টাফদের। এ ক্ষেত্রে স্ট্রেংথ অ্যান্ড কন্ডিশনিং কোচ হর্ষ এবং পারফরম্যান্স কোচ জয় বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন।
তিলকের হাতে পদক তুলে দেওয়ার সময় হর্ষ জানান, অনুশীলন থেকে ম্যাচ— সব ক্ষেত্রেই তিলকের নিবেদন নজর কেড়েছে। তাঁর মতে, “তিলক শুধু ম্যাচেই নয়, প্রস্তুতির সময়ও অসাধারণ মনোযোগ এবং নিষ্ঠা দেখিয়েছে। অনেক সময় প্রয়োজনের থেকেও বেশি দায়বদ্ধতার সঙ্গে নিজের কাজ করেছে।”
পুরস্কার গ্রহণের পর তিলক বলেন, “আমি সব সময় নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করি। মাঠের বাইরে যে প্রস্তুতি নিই, সেটাই মাঠের পারফরম্যান্সে সাহায্য করে।”
ভারতীয় দলের এই নতুন উদ্যোগ শুধু ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স নয়, দলগত সংস্কৃতি এবং পেশাদার মনোভাবকেও আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলেই মনে করছেন ক্রিকেট মহল।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?