শুধু জ্বর-কাশি মানেই কোভিড নয়!
বর্ষাকালে ঠান্ডা লাগা, জ্বর বা সর্দি-কাশিতে ভোগা অনেকটাই স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ের চেহারাটা যেন কিছুটা আলাদা। ঘরে ঘরে গলা ব্যথা, অনবরত কাশি, এমনকি শ্বাস নিতে কষ্ট—এই উপসর্গগুলি দেখা দিলেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে, “করোনা নয় তো?” কিন্তু চিকিৎসকেরা বলছেন, এই মুহূর্তে শুধু এই উপসর্গগুলির উপস্থিতি মানেই কোভিড নয়। বরং নিউমোনিয়া, ডায়েরিয়া, টাইফয়েড, এমনকি পেটের সংক্রমণ অনেকটাই বেশি দেখা যাচ্ছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
ঋতু বদলের প্রভাবে বাড়ছে ভাইরাল সংক্রমণ
গ্রীষ্ম থেকে বর্ষা—এই ঋতু পরিবর্তনের সময় সাধারণ ভাইরাল সংক্রমণ ছড়ানো একেবারে নতুন নয়। বিশেষ করে শিশুরা, বয়স্করা এবং যাঁদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাঁদের মধ্যে সংক্রমণের প্রবণতা বেশি। বক্ষরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. দেবরাজ যশ বলেন, “তিন সপ্তাহ আগেও কোভিড কিছুটা মাথাচাড়া দিয়েছিল। তবে এখন সেই সংখ্যা অনেকটাই কম। বরং ভাইরাল, টাইফয়েড বা নিউমোনিয়া নিয়ে বেশি রোগী আসছেন।”
আতঙ্ক নয়, দরকার সঠিক সচেতনতা
চিকিৎসকদের মতে, শরীরে হালকা জ্বর, সর্দি, বা গলা ব্যথা হলেই অতি দ্রুত অ্যান্টিবায়োটিক বা কোভিড টেস্টের প্রয়োজন নেই। সাধারণ পরিচিত ওষুধেই ঘরোয়া ভাবে অনেক ক্ষেত্রে উপশম সম্ভব। তবে যদি শরীরের অবস্থা খারাপ হতে থাকে, জ্বর ১০২-১০৩ ছাড়িয়ে যায়, শ্বাসকষ্ট বাড়ে, পেটের সমস্যা ORS খেয়েও না কমে, অথবা প্রস্রাবে জ্বালা ও অসুবিধা দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই বাঞ্ছনীয়।
হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন কখন?
ক্রিটিক্যাল কেয়ার বিশেষজ্ঞ ডা. অনির্বাণ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “যদি দেখা যায় রোগীর কোমর্বিডিটি রয়েছে কিংবা সাধারণ চিকিৎসায় উপশম হচ্ছে না, তখনই হাসপাতালে ভর্তি হওয়া উচিত। কোভিড না হলেও নিউমোনিয়া বা ডায়েরিয়ার মতো সমস্যায় অনেক সময় জটিলতা দেখা দিচ্ছে।” অর্থাৎ, শুধু কোভিড হলে হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে—এই ধারণা এখন আর বাস্তব নয়।
কীভাবে নিজেকে ও পরিবারের সদস্যদের সুরক্ষিত রাখবেন?
চিকিৎসকদের একটাই পরামর্শ—ভবিষ্যৎ ভাবনা নয়, বর্তমান সচেতনতা জরুরি। রোগীর সংস্পর্শে বয়স্ক ও কোমর্বিড সদস্যদের না আনা, বাইরের জল বা অস্বাস্থ্যকর খাবার এড়িয়ে চলা, বাড়িতে তৈরি খাবার খাওয়া এবং যথাসম্ভব পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা—এই পদক্ষেপেই বড় বিপদ থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব।
উপসর্গ থাকলে কী করবেন?
গলা ব্যথা হলে গার্গল, কাশির জন্য গরম ভাপ, হালকা জ্বর হলে প্যারাসিটামল গ্রহণ এবং প্রচুর জলপান করাই প্রাথমিক প্রতিকার হিসেবে কার্যকর। তবে কয়েক দিনের বেশি এই উপসর্গ স্থায়ী হলে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া অত্যন্ত জরুরি।