শুধু ইস্তফা নয়, প্রশ্নফাঁসের মূল চক্রীদের ফাঁসি চাই’!
হাতে মেয়ের হাসিমুখের বড় ফ্রেমবন্দি ছবি। চোখে জল, মুখে অসীম যন্ত্রণা আর ক্ষোভ। দিল্লিতে যখন নিট আন্দোলনের একাংশ শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগকে আংশিক সাফল্য হিসেবে দেখছে, তখন মহারাষ্ট্রের নাগপুরে এক মায়ের কণ্ঠে ধ্বনিত হল আরও কঠোর দাবি— “শুধু ইস্তফা নয়, প্রশ্নফাঁসের মূল চক্রীদের ফাঁসি চাই।”
এই মায়ের নাম নীলম চতুর্বেদী। মাত্র দু’মাস আগে তিনি হারিয়েছেন তাঁর মেয়ে আকাঙ্ক্ষাকে। এ বছরের নিট পরীক্ষার্থী ছিলেন আকাঙ্ক্ষা। পরীক্ষা দিয়েছিলেনও। পরিবারের দাবি, পরীক্ষাও খুব ভাল হয়েছিল। কিন্তু প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে পরীক্ষা বাতিল হওয়ার পর মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েন তিনি। গত ২০ মে আত্মহত্যা করেন।
সম্প্রতি দেশের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পরও নীলমের ক্ষোভ কমেনি। তিনি স্পষ্ট বলেন, “শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফায় আমি সন্তুষ্ট নই। যাঁরা প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িত, তাঁদের সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া উচিত। শুধু একজন মন্ত্রীর পদত্যাগে এত বড় অন্যায়ের বিচার সম্পূর্ণ হয় না।”
ছাত্রদের আন্দোলনের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে নীলমের বক্তব্য, সরকারের উচিত এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেককে আইনের আওতায় এনে কঠোরতম শাস্তি নিশ্চিত করা। তাঁর কথায়, হাজার হাজার পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে খেলা হয়েছে, বহু পরিবারের স্বপ্ন ভেঙে গিয়েছে।
আকাঙ্ক্ষার পরিবার মূলত মধ্যপ্রদেশের বাসিন্দা হলেও, নিট পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য তাঁরা নাগপুরে চলে এসেছিলেন। সেখানে একটি কোচিং সেন্টারে ভর্তি হয়ে দীর্ঘ দিন ধরে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন আকাঙ্ক্ষা। গত ৩ মে তিনি নিট পরীক্ষা দেন। বাড়ি ফিরে পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছিলেন, পরীক্ষা খুব ভাল হয়েছে এবং তিনি ভাল ফলের আশা করছেন।
কিন্তু প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে পরীক্ষা বাতিল হওয়ার খবর তাঁর জীবনে ভয়াবহ আঘাত হয়ে আসে। পরিবারের দাবি, সেই ধাক্কা সামলাতে পারেননি আকাঙ্ক্ষা। মৃত্যুর আগে একটি সুইসাইড নোটও লিখে যান তিনি। সেখানে বাবা-মায়ের স্বপ্নপূরণ করতে না পারার আক্ষেপ জানিয়ে লেখেন, দ্বিতীয় বার একই মানসিক শক্তি নিয়ে পরীক্ষায় বসার সাহস তাঁর আর নেই।
কাঁদতে কাঁদতে নীলম বলেন, “আমার স্বামীর দু’বার হার্ট অ্যাটাক হয়েছে। তিনি পক্ষাঘাতে আক্রান্ত। আমাদের মেয়েই ছিল পরিবারের ভরসা। ও থাকলে সব সামলে নিত। এখন আমাদের ভবিষ্যৎ কী হবে?”
উল্লেখ্য, নিট বিতর্ককে কেন্দ্র করে চলা আন্দোলনে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পাশাপাশি, পরীক্ষা-সংক্রান্ত ঘটনাবলির জেরে যেসব পড়ুয়ার মৃত্যু হয়েছে, তাঁদের পরিবারকে ১ কোটি টাকা আর্থিক সহায়তার দাবিও উঠেছিল। কেন্দ্র সেই আর্থিক সহায়তার প্রস্তাবে সম্মতি জানিয়েছে। তবে আকাঙ্ক্ষার মায়ের বক্তব্য, আর্থিক সাহায্য নয়, প্রকৃত বিচারই তাঁদের সবচেয়ে বড় দাবি।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?