শিবমের ঝোড়ো ইনিংসও ব্যর্থ!
লড়াই করেছিলেন শিবম দুবে। শেষ পর্যন্ত হাল ছাড়েননি। কিন্তু একার লড়াইয়ে ম্যাচ জেতানো যায় না—বিশাখাপত্তনমে সেটাই ফের প্রমাণ হল। চতুর্থ টি-টোয়েন্টিতে নিউ জ়িল্যান্ডের কাছে ৫০ রানে হেরে সিরিজ়ে চুনকামের সুযোগ হাতছাড়া করল ভারত। সেই সঙ্গে বিশ্বকাপের প্রথম একাদশে জায়গা পাওয়ার স্বপ্ন থেকেও আরও এক ধাপ দূরে সরে গেলেন সঞ্জু স্যামসন।
এই ম্যাচে ভারতের জয়ের আশা বেঁচে ছিল যত ক্ষণ শিবম ক্রিজ়ে ছিলেন। তাঁর রান আউট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কার্যত শেষ হয়ে যায় লড়াই। ২৩ বলে ৬৫ রানের ঝোড়ো ইনিংসে তিনটি চার ও সাতটি ছক্কা মারলেও দলকে জয়ের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে পারলেন না তিনি।
প্রথম তিন ম্যাচে সিরিজ় জয়ের পর ভারত যে খানিকটা হালকা মনোভাবেই নামতে পারে, তা দল নির্বাচনের দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছিল। এক জন কম ব্যাটার খেলানো হল। শ্রেয়স আয়ারকে বিশ্রাম দেওয়া হল, চোটের জন্য ঈশান কিশন না থাকায় দলে ঢোকানো হল অতিরিক্ত বোলার। কিন্তু বোলিং গভীরতা বাড়িয়েও লাভ হল না। ব্যাট হাতে রিঙ্কু সিংহ ও শিবম ছাড়া কার্যত সবাই ব্যর্থ।
টস জিতে আবারও প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নেন সূর্যকুমার যাদব। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল নিউ জ়িল্যান্ড। টিম সেইফার্ট প্রথম বল থেকেই হাত খুলে খেলেন। ডেভন কনওয়ে ধীরে শুরু করলেও পরে গিয়ার বদলান। পাওয়ার প্লে-তেই ৭১ রান তোলে কিউয়িরা। স্পিনে গতি না কমানোয় রবি বিশ্নোই সমস্যায় পড়েন। হর্ষিত রানাও এ দিন দামী প্রমাণিত হন।
মাঝের ওভারে কুলদীপ যাদব কিছুটা নিয়ন্ত্রণ ফেরান। কনওয়ে, রাচিন রবীন্দ্র ও গ্লেন ফিলিপ্সের উইকেট তুলে ম্যাচে ভারসাম্য ফেরান তিনি। কিন্তু শেষদিকে ড্যারিল মিচেলের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ২১৫ রান তোলে নিউ জ়িল্যান্ড।
লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে প্রথম বলেই অভিষেক শর্মাকে হারায় ভারত। সূর্যও দ্রুত ফেরেন। এই পরিস্থিতিতে সঞ্জুর সামনে সুযোগ ছিল নিজেকে প্রমাণ করার। কিন্তু আত্মবিশ্বাসের অভাব স্পষ্ট ছিল তাঁর ব্যাটিংয়ে। ১৫ বলে ২৪ রান করে ফেরেন তিনি। বিশ্বকাপের ভাবনায় আরও এক ধাক্কা খেল তাঁর সম্ভাবনা।
রিঙ্কু কিছুটা লড়াই দেখালেও দ্রুত উইকেট পড়তে থাকে। সেখান থেকেই শিবমের পাল্টা আক্রমণ। ইশ সোধির এক ওভারে ২৯ রান নিয়ে মাত্র ১৫ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করেন তিনি—ভারতের হয়ে তৃতীয় দ্রুততম। শেষ ছ’ওভারে দরকার ছিল ৮২ রান। আশা জেগেছিল। কিন্তু শিবমের রান আউটেই সব শেষ।
লড়াই ছিল, লড়াকু ইনিংসও ছিল। তবু ফলাফল একটাই—হতাশ ভারত, আর বিশ্বকাপের স্বপ্ন থেকে আরও কিছুটা দূরে সরে যাওয়া কয়েকজন ক্রিকেটার।
‘স্পিরিট’-এ প্রভাসের ১৬০ কোটি! নায়িকাদের পারিশ্রমিকের ফারাক ঘিরে নতুন চর্চা