সোনাক্ষী থেকে প্রকাশ রাজ!
দীর্ঘ আন্দোলন, অনশন এবং দেশজুড়ে প্রতিবাদের পর কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ঘিরে স্বস্তি ও উচ্ছ্বাস ছড়িয়েছে আন্দোলনকারীদের মধ্যে। সেই প্রতিক্রিয়া দেখা গেল বলিউডের একাংশের মধ্যেও। যদিও গোটা আন্দোলনের সময় ইন্ডাস্ট্রির বড় অংশ নীরব ছিল, প্রথম থেকেই কয়েক জন অভিনেতা-অভিনেত্রী প্রকাশ্যে ছাত্রদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার পর তাঁরা নিজেদের প্রতিক্রিয়াও জানিয়েছেন।
আন্দোলনের শুরু থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব ছিলেন অভিনেত্রী সোনাক্ষী সিন্হা। ছাত্রদের সমর্থনে একাধিক পোস্ট করেছিলেন তিনি। ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার খবর প্রকাশ্যে আসতেই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের প্রতিক্রিয়ার একটি ভিডিও শেয়ার করে সোনাক্ষী লেখেন, “ভাই, এটা কী করে ফেললে?” তাঁর এই পোস্ট দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সমাজমাধ্যমে।
এ দিকে, এত দিন নীরব থাকার পর অভিনেত্রী প্রিয়ঙ্কা চোপড়া শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের খবর শেয়ার করে হাততালির ও হৃদয়ের ইমোজি ব্যবহার করেন। তবে আন্দোলনের পুরো সময় জুড়ে চুপ থাকার কারণে তাঁর এই প্রতিক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেক নেটাগরিক।
প্রথম থেকেই আন্দোলনের সমর্থনে ছিলেন অদিতি রাও হায়দরী। ইস্তফার পর তিনি ছাত্রদের উদ্দেশে লেখেন, “তোমরা দারুণ লড়েছ। তোমাদের সাহস, অহিংস অবস্থান এবং বাকস্বাধীনতার প্রতি বিশ্বাসকে কুর্নিশ। ভয় নয়, তোমাদের কণ্ঠ আরও শক্তিশালী হোক।”
অভিনেত্রী আয়শা খান আন্দোলনের সময় মুম্বইয়ে প্রতিবাদ মিছিলে অংশ নিয়ে পুলিশের হাতে আটকও হয়েছিলেন। সেই সময় তিনি জানিয়েছিলেন, সত্যের পক্ষে দাঁড়াতে গিয়ে কেরিয়ার নষ্ট হলেও তাঁর আপত্তি নেই। শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার পরে আয়শার প্রতিক্রিয়া, “আজ একটা বড় শিক্ষা পেলাম— ইচ্ছা থাকলে সবই সম্ভব। এই সময়টা দেশের মানুষ কোনও দিন ভুলবে না।”
অভিনেতা প্রকাশ রাজ, যিনি আন্দোলনের শুরু থেকেই সোনম ওয়াংচুক এবং ছাত্রদের পাশে ছিলেন, ইস্তফার পরে সংবিধান হাতে একটি ছবি পোস্ট করেন। তিনি লেখেন, “আমার ককরোচদের শুভেচ্ছা, সোনম স্যারকে শুভেচ্ছা, এবং যাঁরা এই আন্দোলনের পাশে ছিলেন তাঁদের সকলকে অভিনন্দন। আবারও প্রমাণ হল, মানুষের ইচ্ছাশক্তির সামনে ক্ষমতাও মাথা নত করতে বাধ্য।”
অন্য দিকে, প্রবীণ অভিনেতা অমোল পালেকর আন্দোলনকে গণতান্ত্রিক অধিকারের লড়াই হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তরুণ প্রজন্ম শান্তিপূর্ণ ভাবে যে বার্তা দিয়েছে, তা দেশের গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, এই ঘটনাকে শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক সাফল্য হিসেবে নয়, নাগরিকদের সম্মিলিত কণ্ঠস্বরের শক্তি হিসেবেও দেখা উচিত।
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর আন্দোলনকারীদের মধ্যে যেমন উদ্যাপনের আবহ তৈরি হয়েছে, তেমনই অনেকের মতে, প্রকৃত পরিবর্তন নির্ভর করবে সরকারের প্রতিশ্রুতি কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয় তার উপর।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?