শাড়ি-ধুতি, প্রেম আর পাঁঠার মাংস!
জামাই ষষ্ঠী মানেই এক অন্য রকম বাঙালিয়ানা। আর সেই উৎসব যদি হয় অভিনেতা গৌরব চট্টোপাধ্যায় আর অভিনেত্রী দেবলীনা কুমারের ঘরে, তা হলে তো বাঙালি সংস্কৃতির রঙ আরও গাঢ় হয়ে ওঠে! আনন্দ, রীতিনীতি আর খাওয়াদাওয়ার এক দারুণ মেলবন্ধন দেখা গেল তাঁদের এই বছরকার জামাই ষষ্ঠীর উদযাপনে।
জামাইয়ের দিন, বৌয়ের ‘ফাউ’ হওয়া!
শাশুড়ি দেবযানী কুমার যখন গৌরবকে পঞ্চব্যঞ্জনে ভূরিভোজ করাতে ব্যস্ত, তখন পাশে দাঁড়িয়ে দেবলীনা খানিক হালকা হাসিতে বলেই ফেললেন, “এই দিন তো আমার কোনও প্রয়োজনই নেই। আমি হলাম ফাউ!” অবশ্য মজা করেই কথাটা বললেন অভিনেত্রী। শাশুড়ি আর জামাইয়ের একই রঙের জামদানি ও পাঞ্জাবি—আর পাশে দাঁড়িয়ে দেবলীনার রঙ আলাদা, এমন দৃশ্য তো এমনিতেই ছবি তোলার আদর্শ মুহূর্ত!
রীতিমাফিক সাজ, আধুনিক ছোঁয়া
পোশাকশিল্পী অভিষেক রায়ের ডিজাইন করা বাদামি ও পাউডার গোলাপি পাঞ্জাবি-ধুতি পরে এসেছিলেন গৌরব। সেলাই করা ধুতি না পছন্দ তাঁর, এ নিয়ে নাকি শ্বশুরমশাইও পরামর্শ নেন জামাইয়ের কাছ থেকে! দেবলীনার পরনে ছিল হালকা পিচ রঙের অর্গ্যানজা শাড়ি, পরে আরও এক সেটে বেগুনি ক্রেপ শিফন শাড়ি। হালকা সাজ, মাপে মেকআপ, আর তার সঙ্গে মানানসই ব্লাউজ়—গ্রীষ্মের গরমেও ঠান্ডা লুক।
পাঁঠার মাংস, ইলিশ আর পাঁচ রকম ভাজা
খাবারের আয়োজন ছিল একেবারে রাজকীয়—লুচি, কষা মাংস, ফিশ ফ্রাই, গলদা চিংড়ি, ইলিশ, পাঁচ রকম ভাজা, মিষ্টি—যার প্রতিটা পদই সাজানো ‘ওয়েস্টইন’ থালিতে। গৌরব বললেন, “এই দিন ডায়েট নিয়ে ভাবি না। কব্জি ডুবিয়ে খাই।” দেবলীনা একমত—“একটা দিন তো খাওয়া যেতেই পারে!”
নারীবাদ বনাম সাবেকি বাঙালিয়ানা
জামাই ষষ্ঠীর রীতি নিয়ে প্রশ্ন করলে দেবলীনার জবাব একেবারে স্পষ্ট—“আমি নকল নারীবাদে বিশ্বাস করি না। আমার কাছে নারীবাদ মানে নিজেকে বোঝা, সংস্কৃতিকে সম্মান করা।” তিনি বলেন, শাশুড়ি তাঁর জন্মদিনেও রান্না করে খাওয়ান, তাই জামাইয়ের জন্য আলাদা আয়োজন তাঁর কাছে সমস্যা নয়।
প্রেম, শরীরচর্চা আর পুরনো ঐতিহ্য
গৌরব অন্তর্মুখী, দেবলীনা বহির্মুখী—তাঁদের সম্পর্কের রসায়ন তৈরি হয়েছে বন্ধুত্ব আর বোঝাপড়া থেকে। শরীরচর্চাও তাঁদের জীবনের অংশ। গৌরবের সঙ্গে বিয়ের পর নিজের রুটিন অনেক বেশি সচেতনভাবে মেনে চলেন দেবলীনা—বলেন শাশুড়ি দেবযানী।
পুরনো রীতির টানেই এই আয়োজন
এই উদযাপন শুধুই রীতিনীতির খাতিরে নয়। দেবযানী কুমার বলেন, “আসলে আমরা জামাইষষ্ঠী পালন করি পুরনো রীতিগুলো ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই। নিয়ম নয়, ঐতিহ্য ধরে রাখার ইচ্ছে আমাদের আসল কারণ।”
এই ছিল গৌরব-দেবলীনার জামাই ষষ্ঠীর গল্প—ভূরিভোজ, ধুতি-শাড়ির ছোঁয়া, প্রেম আর পুরনো রীতির এক মিষ্টি জগৎ।
বেলের পানা: মোগল দরবার থেকে ওড়িশার পুজোর প্রসাদ—ভারতের প্রাচীন শরবতের আশ্চর্য যাত্রা