শরণার্থী শিবির থেকে বিশ্বকাপের মঞ্চে, ২০ বছরের ইরানকুন্ডার গোলেই মুগ্ধ ফুটবলবিশ্ব

শরণার্থী শিবির থেকে বিশ্বকাপের মঞ্চে! বিশ্বকাপের মঞ্চে নতুন নক্ষত্রের আবির্ভাব ঘটল অস্ট্রেলিয়ার জার্সিতে। মাত্র ২০ বছর বয়সেই ইতিহাস গড়লেন নেস্টোরি ইরানকুন্ডা। তুরস্কের বিরুদ্ধে গোল করে তিনি হয়ে উঠেছেন বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার…

June 15, 2026
1 min read

শরণার্থী শিবির থেকে বিশ্বকাপের মঞ্চে!

বিশ্বকাপের মঞ্চে নতুন নক্ষত্রের আবির্ভাব ঘটল অস্ট্রেলিয়ার জার্সিতে। মাত্র ২০ বছর বয়সেই ইতিহাস গড়লেন নেস্টোরি ইরানকুন্ডা। তুরস্কের বিরুদ্ধে গোল করে তিনি হয়ে উঠেছেন বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা। তবে তাঁর এই সাফল্যের গল্প শুধুই ফুটবলের নয়, বরং সংগ্রাম, স্বপ্ন আর অদম্য ইচ্ছাশক্তির এক অনুপ্রেরণামূলক কাহিনি।

তুরস্কের বিরুদ্ধে ম্যাচে প্রায় মাঝমাঠ থেকে বল পেয়ে একাই প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে গোল করেন ইরানকুন্ডা। তাঁর দুরন্ত গতি, আত্মবিশ্বাসী ড্রিবলিং এবং নিখুঁত ফিনিশিং মুহূর্তের মধ্যেই ফুটবলপ্রেমীদের নজর কেড়ে নেয়। ম্যাচে আরও কয়েকটি সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। সেগুলি কাজে লাগাতে পারলে গোলসংখ্যা আরও বাড়তে পারত।

আজ তিনি বিশ্বকাপের আলোচিত ফুটবলারদের একজন। কিন্তু তাঁর শৈশব মোটেই সহজ ছিল না। ২০০৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তানজানিয়ার কিগোমা অঞ্চলের একটি শরণার্থী শিবিরে জন্ম হয়েছিল তাঁর। বুরুন্ডির গৃহযুদ্ধের কারণে প্রাণ বাঁচাতে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন তাঁর বাবা-মা। সেই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেই শুরু হয়েছিল নেস্টোরির জীবনযাত্রা।

কয়েক বছর পর পরিবার নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় চলে আসেন তাঁরা। প্রথমে পার্থে কিছুদিন কাটালেও পরে অ্যাডিলেডে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে পরিবার। সেখানেই ফুটবলের প্রতি ভালবাসা জন্ম নেয় ছোট্ট নেস্টোরির। স্থানীয় ক্লাব এবং অ্যাকাডেমিতে খেলার মাধ্যমে ধীরে ধীরে নিজের প্রতিভার পরিচয় দিতে শুরু করেন তিনি।

অ্যাডিলেড ইউনাইটেড অ্যাকাডেমিতেই তাঁর ফুটবল শিক্ষা। ২০২২ সালে মাত্র ১৬ বছর বয়সে অস্ট্রেলিয়ার এ-লিগে অভিষেক হয় তাঁর। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই নিজের গতি, শক্তি এবং আক্রমণাত্মক ফুটবলের জন্য আলোচনায় চলে আসেন। একই বছর সুযোগ পান অস্ট্রেলিয়ার অনূর্ধ্ব-১৭ দলে।

তাঁর প্রতিভা নজর এড়ায়নি ইউরোপের বড় ক্লাবগুলিরও। ২০২৪ সালে জার্মানির শক্তিশালী ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখ তাঁকে দলে নেয়। যদিও প্রথম দলে সুযোগ না পেয়ে পরে লোনে সুইস ক্লাব গ্রাসহপারসে খেলেন। এরপর ২০২৫ সালে ইংল্যান্ডের ক্লাব ওয়াটফোর্ডে যোগ দেন তিনি। মূলত উইঙ্গার হলেও স্ট্রাইকার হিসেবেও সমান দক্ষ ইরানকুন্ডা।

অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যমগুলি দীর্ঘদিন ধরেই তাঁকে দেশের অন্যতম বড় ফুটবল প্রতিভা হিসেবে তুলে ধরছে। বিশেষ করে তাঁর বিস্ফোরক গতি এবং শক্তিশালী ডান পায়ের প্রশংসা বারবার শোনা গেছে। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, অস্ট্রেলিয়ান ফুটবলে এমন স্বাভাবিক আক্রমণাত্মক প্রতিভা খুব কমই দেখা যায়।

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই সেই প্রতিভার ঝলক দেখালেন নেস্টোরি ইরানকুন্ডা। শরণার্থী শিবিরে জন্ম নেওয়া এক শিশুর বিশ্বকাপের ইতিহাসে নাম লেখানোর গল্প ইতিমধ্যেই লক্ষ লক্ষ মানুষকে অনুপ্রাণিত করছে। বয়স মাত্র ২০। সামনে পড়ে রয়েছে দীর্ঘ পথ। তবে এই শুরু দেখে অনেকেই বিশ্বাস করছেন, আগামী দিনে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম বড় তারকা হয়ে উঠতে পারেন ইরানকুন্ডা।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow
Explore More on These Topics

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *