মেডিক্যালে ছাত্র ভোটে গণতন্ত্রের জয়গান গাইলেন দেবাশিস-অনিকেত!
কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ফল ঘোষণা হয়ে গিয়েছে। ফলাফলে একচেটিয়া জয় পেল মেডিক্যাল কলেজ ডেমোক্রেটিক স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (MCDSA)। ১৭টি আসনে জয় তাদের। একটি আসন পেল ডিএসও, দুটি পায় নির্দল প্রার্থী। তবে এই নির্বাচনে ফলের থেকেও বেশি আলোচনায় উঠে এল দুই প্রাক্তন আন্দোলনকর্মী দেবাশিস হালদার এবং অনিকেত মাহাতোর বন্ধুত্ব ও গণতান্ত্রিক চেতনার উদযাপন।
দু’বছর আগেও তারা একসঙ্গে রাজপথে হাঁটছিলেন আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের এক মহিলা চিকিৎসকের ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদে। তখন রাজনীতির ব্যানার ভুলে তারা একসাথে গড়ে তুলেছিলেন ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্ট’ (WBJDF)। আজ, দেবাশিস প্রাক্তন, অনিকেত আরজি করের ছাত্র হলেও, তাদের বন্ধুত্বের সমীকরণ অটুট রইল ভোটের ফলের দিনেও।
দেবাশিস এই কলেজের প্রাক্তনী, এবং MCDSA-র সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত। অনিকেত ছিলেন SUCI-এর ছাত্র সংগঠন ডিএসও-র সদস্য। এবার এই দুই সংগঠনই মুখোমুখি লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছিল ছাত্র সংসদ নির্বাচনে। তবে ব্যক্তিগত রাজনীতির রং ছাপিয়ে দু’জনেই আজ বলছেন—জিতেছে গণতন্ত্র, জিতেছে ছাত্রস্বার্থ।
দেবাশিস বললেন, “আরজি কর আন্দোলনে আমরা রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে এক হয়েছি। আজও সেই জায়গায় একই রকম আছি। কে জিতল, কে হারল—তা বড় কথা নয়। ৮০ শতাংশ ছাত্রছাত্রী ভোট দিয়েছে, সেটাই গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় জয়।”
তাঁর কথায়, ছাত্র ভোটে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ (TMCP)-এর অনুপস্থিতি এই প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ করেছে। “থ্রেট কালচারের বিরুদ্ধে এই রায় স্পষ্ট বার্তা দেয়—ছাত্রছাত্রীরা ভয় নয়, গণতন্ত্র বেছে নিয়েছে।”
অনুরূপ সুরে অনিকেত বললেন, “ছাত্র সংসদের এই নির্বাচন ছিল হুমকি আর দাদাগিরির বিরুদ্ধে এক প্রতিবাদ। সেখানে গণতন্ত্রের জয় মানে ছাত্রসমাজের জয়। আমরা যে পথে লড়েছি, তা আজ মর্যাদা পেল। তৃণমূলের গোঁজামিল রাজনীতির জায়গা নেই এখানে।”
তৃণমূল ছাত্র পরিষদের অনুপস্থিতির কারণ হিসাবে উঠে এসেছে আরজি কর-কাণ্ডের পর তাদের ইউনিট কার্যত বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া। এমনকি এসএফআই-ও এই কলেজে নেই। ফলে মূল লড়াই হয়েছিল MCDSA বনাম DSO-র মধ্যে।
দু’জনেই আবার স্মরণ করলেন তাঁদের পথ চলা। আন্দোলন, দাবি, অনশন—সেই সময় থেকেই কলেজে ছাত্র সংসদের নির্বাচন চেয়ে আন্দোলন করে আসছেন তাঁরা। ২০২২ সালের ১২ দিনের অনশন, বিশিষ্ট সমাজকর্মীদের মাধ্যমে ভোটের তত্ত্বাবধান, কলেজ কর্তৃপক্ষের স্বীকৃতি—সব মিলিয়ে এই ভোট আজ এক দীর্ঘ সংগ্রামের ফসল।
তাঁরা মনে করিয়ে দিলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মার্চের মধ্যে রাজ্যের সব মেডিক্যাল কলেজে নির্বাচন করার প্রতিশ্রুতি দিলেও জুন পেরিয়ে গেলেও তা বাস্তব হয়নি। তাঁদের দাবি, প্রতিটি মেডিক্যাল কলেজেই এই ধরনের স্বচ্ছ ভোটপ্রক্রিয়া চালু হোক।
এই নির্বাচনে ফলাফলের চেয়েও বেশি গৌরবের হল এই বার্তাটি—গণতন্ত্র আর ছাত্র অধিকার যখন সামনে থাকে, তখন ব্যক্তিগত মতাদর্শ বা সংগঠনের পরিচয় ম্লান হয়ে যায়। সামনে আসে একটাই পরিচয়—ছাত্র।
সারা দিন “স্নান করে বেরোলাম” লুক—কীভাবে পাবেন তরতাজা ও সতেজ চুলের জাদু?