লেবাননে ইজ়রায়েলের হামলা অব্যাহত!
মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির আশা জাগিয়েছিল আমেরিকা ও ইরানের সম্ভাব্য চুক্তি। কিন্তু সেই আশার মাঝেই নতুন করে উত্তেজনা ছড়াল লেবাননে। দক্ষিণ লেবাননে একাধিক ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইজ়রায়েলি বাহিনী, যাতে অন্তত চার জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম। এই হামলার পরই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে— ইরান-আমেরিকা শান্তিচুক্তির ভবিষ্যৎ কি অনিশ্চিত হয়ে পড়ল?
লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদসংস্থার দাবি, মঙ্গলবার দক্ষিণাঞ্চলের নাবাতিয়ে প্রদেশের মায়ফাজুন এলাকায় পরপর ড্রোন হামলা চালানো হয়। দুটি পৃথক হামলায় দু’টি গাড়ি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয় এবং চার জন নিহত হন। হামলার ফলে এলাকায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
এই পরিস্থিতি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ কারণ, আগামী শুক্রবার সুইৎজ়ারল্যান্ডে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে। জি৭ সম্মেলনে যোগ দিতে বর্তমানে ফ্রান্সে রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump। সম্মেলনের আগেই তিনি ইরানের সঙ্গে সমঝোতার কথা প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছিলেন।
তবে শান্তিচুক্তির অন্যতম স্পর্শকাতর বিষয় হয়ে উঠেছে লেবানন। কূটনৈতিক সূত্রের দাবি, ইরান দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছে যে লেবানন থেকে ইজ়রায়েলি সেনা প্রত্যাহার করতে হবে। অন্য দিকে ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu স্পষ্ট জানিয়েছেন, হিজ়বুল্লার বিরুদ্ধে অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেনা সরানোর কোনও প্রশ্ন নেই।
লেবাননে ইরান-সমর্থিত সংগঠন Hezbollah-এর উপস্থিতিকে নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখছে ইজ়রায়েল। সেই কারণেই সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে সওয়াল করছে তেল আভিভ।
অন্য দিকে ট্রাম্প বারবার সংযমের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি মনে করেন, লেবাননের পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে সিরিয়ার ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। জি৭ সম্মেলনের ফাঁকে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন যে, ইজ়রায়েলের সামরিক পদক্ষেপই ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
ইরানও ইতিমধ্যে কড়া অবস্থান নিয়েছে। দেশটির বিদেশমন্ত্রী Abbas Araghchi জানিয়েছেন, ইজ়রায়েল যদি লেবাননে হামলা অব্যাহত রাখে, তবে তা শান্তিচুক্তির পরিবেশ নষ্ট করবে। তাঁর বক্তব্য, দখলকৃত অঞ্চল মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত সংঘাতের অবসান ঘটেনি।
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীও সতর্কবার্তা দিয়েছে। তাদের দাবি, লেবাননে হামলা চলতে থাকলে তার উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।
ফলে শুক্রবারের সম্ভাব্য চুক্তিকে ঘিরে যে আশাবাদ তৈরি হয়েছিল, তা এখন নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে। কূটনৈতিক মহলের মতে, লেবানন প্রশ্নে সমাধান না মিললে আমেরিকা-ইরান সম্পর্কের নতুন অধ্যায় শুরু হওয়ার আগেই তা বড় ধাক্কা খেতে পারে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?