লুঙ্গি নয়, দৃষ্টিভঙ্গির সমস্যাই আসল!
‘মার্ক্স ইন কলকাতা’ নাটক দেখতে গিয়েছিলেন অভিনেতা ও নাট্যকর্মী জয়রাজ ভট্টাচার্য। কিন্তু নাট্যমঞ্চে পৌঁছেও ঢুকতে পারেননি তিনি। কারণ? তাঁর পরনে ছিল লুঙ্গি। পোশাকের উপর ভিত্তি করে নাট্যপ্রেমী একজন মানুষকে ফেরানো নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে বিতর্কের ঝড় ওঠে। বিষয়টি নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন জয়রাজ, আর পাশে দাঁড়িয়েছেন ঋদ্ধি সেনও।
লুঙ্গি পরায় নিষেধাজ্ঞা, কিন্তু কেন?
জয়রাজের কথায়, তিনি কোনও রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার জন্য লুঙ্গি পরেননি। বরং, লুঙ্গিই তাঁর কাছে স্বাভাবিক ও আরামদায়ক পোশাক। “আমি ফ্যাশন স্টেটমেন্ট দিতে যাইনি,” জানালেন তিনি। “যাঁরা আমাকে চেনেন, জানেন আমি সব সময়ই লুঙ্গি পরে স্বচ্ছন্দ থাকি।”
তবে এটাও জানান, এর আগেও তিনি সমাজমাধ্যমে লুঙ্গি পরার জন্য কটাক্ষের শিকার হয়েছেন। অনেকে মনে করেন, লুঙ্গি একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় বা জাতিগত পরিচয়ের প্রতীক। জয়রাজের প্রশ্ন, “সেই বিশেষ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব করেই কি আজকের দিনে থিয়েটারে ঢোকার অধিকার হারাতে হয়?” যদিও অনুষ্ঠান কর্তৃপক্ষ তাঁকে সম্প্রদায়গত কারণে বাধা দেননি, এমনটাই বলছেন জয়রাজ, তবু পোশাককে কেন্দ্র করে বিভাজন যে স্পষ্ট, সেটাই উঠে এসেছে তাঁর অভিজ্ঞতায়।
ঋদ্ধির মন্তব্য: ক্লাস বিভাজনই মূল কারণ
এই ঘটনায় প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন ঋদ্ধি সেন। তিনি বিশ্বাস করেন, লুঙ্গি কোনও ধর্মীয় পোশাক নয়, বরং শ্রেণি বিভাজনের চিহ্ন হিসেবে দেখা হচ্ছে। ঋদ্ধি বলেন, “এটা ঠিক ঔপনিবেশিক মানসিকতার ফল। এখনও কিছু নামী প্রতিষ্ঠান বা ক্লাব রয়েছে, যেখানে ড্রেস কোডের নামে মানুষের পোশাক নিয়ে শ্রেণি তৈরি হয়—গেঞ্জি বা চটি জুতো পরে ঢোকা মানা। প্যান্ট চলবে, কিন্তু ধুতি-লুঙ্গি নয়।”
তিনি আরও জানান, নাট্যদল স্বপ্নসন্ধানী এই ঘটনার জন্য দুঃখপ্রকাশ করেছে এবং ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনা না ঘটে, তার জন্য প্রেক্ষাগৃহ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি নেওয়া হয়েছে।
জয়রাজের প্রতিক্রিয়া শান্ত, তবু তীব্র
ঘটনার সময়ে জয়রাজ কোনও বাগ্বিতণ্ডায় না গিয়ে চুপচাপ ফিরে আসেন। “নাটক শুরু হওয়ার আগে কোনও গোলমাল চাইনি। নাট্যদলকে আমি দায়ী করতে চাই না,” বললেন তিনি। তবে ঘটনাটি সমাজের সামনে আনা জরুরি মনে করেই পরে তা সমাজমাধ্যমে তুলে ধরেন।
তাঁর মতে, এই ধরনের পোশাক-নির্ভর মানসিকতা শুধুই ব্যক্তিগত অভিরুচির প্রশ্ন নয়, বরং সমাজে গেঁথে থাকা শ্রেণি ও সাংস্কৃতিক বিভাজনের বহিঃপ্রকাশ।
নাট্যজগতের দায় কি শুধুই নাটকের?
এই ঘটনার পর নতুন করে প্রশ্ন উঠছে—একটি শহরে যেখানে ‘মার্ক্স ইন কলকাতা’র মতো সমাজবোধক নাটক হয়, সেখানে কি সত্যিই আমরা সমতা ও অন্তর্ভুক্তির মূল্যবোধে বিশ্বাস করি? জয়রাজের অভিজ্ঞতা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, পোশাক নয়, দৃষ্টিভঙ্গির সংস্কারই আজকের সবচেয়ে জরুরি চ্যালেঞ্জ।
আম খাওয়ার সেরা সময় এবং কীভাবে খেলে ওজন বা শর্করা বাড়বে না!