লাল বাঁধনির পাগড়িতে সাদা-হলুদ-সবুজ নকশা!
স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পোশাক বরাবরই নজর কাড়ে। লালকেল্লা থেকে তাঁর ভাষণের পাশাপাশি প্রতি বছরই তাঁর পাগড়ি, পোশাকের রং ও নকশা নিয়ে শুরু হয় আলোচনা। এ বারও তার ব্যতিক্রম হল না। শনিবার ৮০তম স্বাধীনতা দিবসে মোদীর মাথায় দেখা গেল লাল ও মেরুন রঙের বাঁধনি পাগড়ি, যার উপর ছিল সাদা, হলুদ ও সবুজ বিন্দুর নকশা।
এ দিনের সাজে ছিল ঐতিহ্য ও আঞ্চলিক শিল্পের ছোঁয়া। মোদীর পরনে ছিল দুধসাদা কুর্তা-পায়জামা এবং তার উপর বাদামি রঙের হাতকাটা জ্যাকেট। জ্যাকেটের পকেটে ছিল জাতীয় পতাকার তিন রঙের পকেট স্কয়ার। আর পুরো সাজের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছিল বাঁধনি কাপড়ের পাগড়িটি।
স্বাধীনতা দিবসে পাগড়ির বিশেষ গুরুত্ব
২০১৪ সালে প্রথম বার প্রধানমন্ত্রী হিসাবে স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লা থেকে ভাষণ দেওয়ার সময় মোদীর মাথায় ছিল উজ্জ্বল লাল পাগড়ি। তার উপর সোনালি বিন্দুর নকশা ছিল। পরের বছর পাগড়িতে দেখা যায় হলুদ রঙের ছোঁয়া এবং আড়াআড়ি ডোরা। সময়ের সঙ্গে পাগড়ির রং, নকশা ও আকারেও এসেছে নানা পরিবর্তন।
তবে একটি বিষয় প্রায় একই থেকেছে—স্বাধীনতা দিবসের মঞ্চে তাঁর শিরোসজ্জায় ভারতীয় ঐতিহ্যের ছাপ।
কী এই বাঁধনি শিল্প?
‘বাঁধনি’ নামটির উৎস সংস্কৃত শব্দ ‘বান্ধি’, যার অর্থ বাঁধা বা একত্রিত করা। এই বিশেষ টাই-অ্যান্ড-ডাই পদ্ধতিতে কাপড়ের ছোট ছোট অংশ টেনে তুলে সুতো দিয়ে শক্ত করে বেঁধে দেওয়া হয়। পরে কাপড়টি বিভিন্ন রঙের জলে ডোবানো হয়। বাঁধা অংশে রং পৌঁছয় না। সুতো খুলে ফেললে কাপড়ের উপর ফুটে ওঠে সাদা, হলুদ কিংবা অন্য রঙের ছোট ছোট বিন্দু ও জ্যামিতিক নকশা।
রাজস্থান ও গুজরাতের ঐতিহ্যবাহী বস্ত্রশিল্পে বাঁধনির ব্যবহার বিশেষ ভাবে পরিচিত। ফলে এ বারের পাগড়িতে সেই নকশা বেছে নেওয়াকে শুধু সাজসজ্জার বিষয় হিসেবে দেখছেন না অনেকে।
আঞ্চলিক শিল্পকে সামনে আনার বার্তা?
মোদীর পোশাকে বিভিন্ন সময়ে দেশের নানা প্রান্তের সংস্কৃতি ও হস্তশিল্পের উপস্থিতি দেখা গিয়েছে। এ বার বাঁধনি পাগড়ির মাধ্যমে রাজস্থান ও গুজরাতের ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্পের প্রতি সম্মান জানানোর একটি বার্তা রয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
একই সঙ্গে দেশের নিজস্ব তাঁত ও হস্তশিল্পকে বৃহত্তর মঞ্চে তুলে ধরার ভাবনাটিও এতে প্রতিফলিত হতে পারে। স্বাধীনতা দিবসের মতো জাতীয় অনুষ্ঠানে এমন আঞ্চলিক শিল্পকে সামনে আনা তাই নিছক ফ্যাশনের বিষয় না হয়ে ভারতের বৈচিত্র্য, ঐতিহ্য এবং কারিগরি দক্ষতার প্রতীকী উপস্থিতি হিসাবেও দেখা যেতে পারে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।