লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অভিযান!
ভারতীয় গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইয়ের অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে বড়সড় আন্তর্জাতিক অভিযান চালিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। ‘অপারেশন হার্ড বল’ নামে এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং ইউরোপের একাধিক দেশে একযোগে তল্লাশি চালানো হয়। তদন্তকারীদের দাবি, খুন, তোলাবাজি, অপহরণ, মাদক পাচার, অস্ত্র পাচার এবং সংগঠিত অপরাধের সঙ্গে জড়িত একটি বিস্তৃত আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ককে লক্ষ্য করেই এই পদক্ষেপ।
মার্কিন বিচার বিভাগ সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিনের তদন্তের ভিত্তিতে ক্যালিফোর্নিয়া, ইন্ডিয়ানা, জর্জিয়া, কানাডা, স্পেন-সহ মোট ৫০টি ঠিকানায় অভিযান চালানো হয়। তদন্তে মোট ৩৭ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। এর মধ্যে ২৪ জনকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। বাকিদের খোঁজে এখনও তল্লাশি চলছে।
তদন্তকারীদের অভিযোগ, লরেন্স বিষ্ণোই ভারতের কারাগারে বন্দি থাকলেও সেখান থেকেই আন্তর্জাতিক অপরাধচক্র পরিচালনা করছেন। মার্কিন চার্জশিটে দাবি করা হয়েছে, তাঁর গ্যাং উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড, তোলাবাজি, অপহরণ, মাদক ও অস্ত্র পাচারের মতো অপরাধে জড়িত। বিভিন্ন দেশে থাকা সহযোগীরা তাঁর নির্দেশেই এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছিল বলে অভিযোগ।
গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ১৩ জনকে আমেরিকা থেকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১১ জন ক্যালিফোর্নিয়া, একজন ইন্ডিয়ানা এবং একজন জর্জিয়া থেকে ধরা পড়েছেন। এছাড়া কানাডা থেকে তিন জন, স্পেন থেকে একজন এবং ইউরোপের অন্যান্য দেশ থেকে সাত জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, শুধু বিষ্ণোই গ্যাং নয়, তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী গোল্ডি ব্রার গ্যাং এবং রোহিত গোদারা গ্যাংয়ের বিরুদ্ধেও একইসঙ্গে অভিযান চালানো হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, গোল্ডি ব্রারের নেটওয়ার্ক মূলত উত্তর আমেরিকায় সক্রিয়, আর রোহিত গোদারা গ্যাং ইউরোপে তাদের অপরাধচক্র পরিচালনা করে।
এই অভিযানে ধৃতদের কাছ থেকে প্রায় ১,০০০ কেজি কোকেন, ১ কেজি হেরোইন, ১২টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং প্রায় ৪০ হাজার মার্কিন ডলার নগদ উদ্ধার হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। তদন্ত এখনও চলছে এবং পলাতক অভিযুক্তদের ধরতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?