রোনাল্ডো কি পর্তুগালের শক্তি!
বিশ্বকাপের শুরুটা একেবারেই প্রত্যাশামতো হল না পর্তুগালের। তুলনামূলকভাবে কম শক্তিশালী বলে বিবেচিত ডিআর কঙ্গোর বিরুদ্ধে জয়ের আশা নিয়ে মাঠে নেমেছিল দলটি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ১-১ ড্র করেই সন্তুষ্ট থাকতে হল। আর সেই সঙ্গে শুরু হয়ে গেল নতুন বিতর্ক— ৪১ বছর বয়সী Cristiano Ronaldo এখনও কি পর্তুগালের অপরিহার্য অস্ত্র, নাকি দলের অগ্রগতির পথে বাধা?
শুরুটা ভালো, শেষটা হতাশার
ম্যাচের মাত্র ছয় মিনিটেই পর্তুগালকে এগিয়ে দেন Joao Neves। Pedro Neto-র নিখুঁত ক্রসে দুর্দান্ত হেডে গোল করে দলকে স্বপ্নের সূচনা এনে দেন তিনি।
কিন্তু সেই লিড বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি পর্তুগাল। ধীরে ধীরে ম্যাচে ফিরে আসে ডিআর কঙ্গো। দ্বিতীয়ার্ধে একটি ক্রস থেকে হেডে সমতা ফেরান Yoane Wissa। গোলের সময় পর্তুগালের রক্ষণভাগের দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। উইসাকে আটকানোর মতো কোনও কার্যকর প্রতিরোধই দেখা যায়নি।
রোনাল্ডোর উপস্থিতি, কিন্তু প্রভাব কোথায়?
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে যখন Lionel Messi, Kylian Mbappe কিংবা Erling Haaland নিজেদের ছাপ রেখে গিয়েছেন, তখন রোনাল্ডোর পারফরম্যান্স ছিল একেবারেই নিষ্প্রভ।
পুরো ৯০ মিনিট মাঠে থাকলেও তাঁকে খুব কমই বলের সংস্পর্শে দেখা গেছে। কয়েকটি সম্ভাবনাময় আক্রমণে সুযোগ পেলেও তা কাজে লাগাতে পারেননি। বিশেষ করে Francisco Conceicao-র তৈরি করা দুটি সুযোগ থেকে গোল না হওয়া সমর্থকদের হতাশ করেছে।
শুধু গোল না পাওয়াই নয়, অফ দ্য বল মুভমেন্ট, প্রেসিং কিংবা প্রতিপক্ষের উপর চাপ তৈরির ক্ষেত্রেও রোনাল্ডোকে খুব একটা সক্রিয় দেখা যায়নি। ফলে অনেক সময় পর্তুগালকে কার্যত ১০ জনের দল বলেই মনে হচ্ছিল।
মাঝমাঠের তারকারা ছন্দ খুঁজে পেলেন না
পর্তুগালের অন্যতম শক্তি তাদের মিডফিল্ড। Bruno Fernandes, Vitinha এবং Bernardo Silva-র মতো তারকাদের নিয়ে গড়া এই বিভাগ ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করলেও কাঙ্ক্ষিত বোঝাপড়া দেখা যায়নি।
বিশেষ করে ভিটিনহা সবচেয়ে বেশি পরিশ্রম করলেও ম্যাচের শেষ দিকে তাঁকেই তুলে নেওয়া হয়। অথচ রোনাল্ডো পুরো ম্যাচ খেলেন। এই সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
কোচের কৌশলও বিতর্কে
পর্তুগালের কোচ Roberto Martinez দীর্ঘদিন ধরেই রোনাল্ডোকেন্দ্রিক পরিকল্পনায় আস্থা রেখেছেন। কিন্তু এই ম্যাচের পর তাঁর দল নির্বাচন এবং বদলি কৌশল নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে।
বিশ্বকাপে অতীতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা Goncalo Ramos-কে অনেক দেরিতে নামানো হয়। অন্যদিকে সৃষ্টিশীল মিডফিল্ডার Joao Felix-কে মাঠেই নামানো হয়নি।
সামনে কঠিন পরীক্ষা
একটি ড্র-ই কোনও দলের বিশ্বকাপ শেষ করে দেয় না। কিন্তু ম্যাচটি দেখিয়ে দিল, শুধু অতীতের সাফল্যের উপর নির্ভর করে এগোনো সম্ভব নয়। রোনাল্ডোর অভিজ্ঞতা এখনও পর্তুগালের সম্পদ হতে পারে, কিন্তু তাঁকে ঘিরে তৈরি কৌশল আদৌ কার্যকর কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন জোরালো হচ্ছে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?