‘রাখালদার ক্যান্টিন’ ফিরছে নতুন সাজে!
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ স্ট্রিট ক্যাম্পাসে বৃহস্পতিবার ফের খুলছে বহু পুরনো ‘রাখালদার ক্যান্টিন’। তবে এ বার শুধু পুরনো স্মৃতির পুনরাবৃত্তি নয়, ক্যান্টিনের নতুন পথচলার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে সামাজিক অন্তর্ভুক্তির এক অভিনব উদ্যোগ। ডাউন সিনড্রোম ও অটিজ়মযুক্ত তরুণ-তরুণীদের হাত ধরে নতুন রূপে শুরু হবে খাবার পরিবেশন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন ক্যান্টিনটির নাম রাখা হচ্ছে ‘রাখালদার কেপেবল’। একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে ক্যান্টিনটি পরিচালিত হবে। উদ্যোগটির নেপথ্যে রয়েছেন প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক এবং ডাউন সিনড্রোম ও অটিজ়ম নিয়ে গবেষণার সঙ্গে যুক্ত সুজয় ঘোষ।
এক ক্যান্টিন, বহু প্রজন্মের স্মৃতি
পঞ্চাশ ও ষাটের দশক থেকে শুরু করে একবিংশ শতকের প্রথম দিক পর্যন্ত কলেজ স্ট্রিট ক্যাম্পাসে ‘রাখালদার ক্যান্টিন’ ছিল পড়ুয়াদের আড্ডা ও খাওয়াদাওয়ার অন্যতম ঠিকানা। ২০০৭ সালে রাখালদার মৃত্যুর পর ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যায় সেই ক্যান্টিন।
১৯৫৯ থেকে ১৯৬১ সাল পর্যন্ত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন শিক্ষাবিদ পবিত্র সরকার। তাঁর কাছে রাখালদার ক্যান্টিন মানেই ছাত্রজীবনের আড্ডা, রাজনীতি এবং আন্তরিকতার স্মৃতি। তাঁর কথায়, দুপুরে ক্যান্টিন ফাঁকা হলে সেখানেই বসত আড্ডা। রাখালদার স্নেহ ও হাসিমুখের ব্যবহার আজও তাঁর মনে দাগ কেটে রয়েছে।
অভিনেতা ও নাট্যপরিচালক রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্তও ১৯৫৮ থেকে ১৯৬০ সাল পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। তাঁর স্মৃতিতে রয়েছে রাখালদার পরিচিত ‘তুই-তোকারি’ সম্বোধন, যার মধ্যেও ছিল গভীর স্নেহ।
নস্টালজিয়ার সঙ্গে সামাজিক বার্তা
এই ক্যান্টিনকে নতুন ভাবে চালু করার ভাবনা প্রথম আসে অধ্যাপক সুজয় ঘোষের মাথায়। তাঁর প্রস্তাব ছিল, ডাউন সিনড্রোম ও অটিজ়মযুক্ত তরুণ-তরুণীদের দিয়েই ক্যান্টিন পরিচালনা করা হোক। পরে ‘এবেল ফেবল ফাউন্ডেশন’-এর সঙ্গে চুক্তি হয়।
সুজয় ঘোষের মতে, রাখালদার নামের সঙ্গে এই উদ্যোগকে যুক্ত করে বিশেষ ভাবে সক্ষম তরুণ-তরুণীদের সমাজের মূলস্রোতে আরও বেশি করে যুক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দেবাশিস দাসও জানিয়েছেন, ক্যান্টিনটির সঙ্গে বহু মানুষের আবেগ জড়িয়ে রয়েছে। নতুন রূপে তার প্রত্যাবর্তন সকলের ভাল লাগবে বলেই তাঁর আশা।
অর্থাৎ, বৃহস্পতিবার থেকে ‘রাখালদার কেপেবল’-এ শুধু খাবার নয়, পুরনো কলকাতার স্মৃতি আর নতুন প্রজন্মের অন্তর্ভুক্তির বার্তাও একসঙ্গে পরিবেশিত হবে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।