অনীক দত্তের মৃত্যু ঘিরে উঠছে একের পর এক প্রশ্ন!
বাংলা সিনেমার পরিচিত মুখ, পরিচালক অনীক দত্ত আর নেই— এই খবর এখনও যেন বিশ্বাস করতে পারছেন না টলিউডের অনেকেই। বুধবার দক্ষিণ কলকাতার হিন্দুস্তান পার্কের একটি বহুতলের ছাদ থেকে পড়ে গুরুতর জখম হন তিনি। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে তাঁর মৃত্যু ঘিরে তৈরি হয়েছে একাধিক প্রশ্ন ও ধোঁয়াশা।
৬৬ বছরের অনীক দত্ত শুধু পরিচালক নন, তিনি ছিলেন এক অন্যধারার গল্পকার। সিনেমায় আসার আগে প্রায় দু’দশক বিজ্ঞাপনের জগতে কাজ করেছেন। সেই অভিজ্ঞতাই পরে তাঁর ছবির ভাষাকে আলাদা মাত্রা দেয়। ২০১২ সালে মুক্তি পাওয়া ভূতের ভবিষ্যৎ তাঁকে রাতারাতি জনপ্রিয়তার শিখরে পৌঁছে দেয়। ব্যঙ্গ, রসবোধ আর সমাজচেতনার মিশেলে তৈরি সেই ছবি এখনও বাংলা সিনেমার অন্যতম কাল্ট ক্লাসিক বলে মনে করা হয়।
এর পর একে একে আসে আশ্চর্য প্রদীপ, মেঘনাদ বধ রহস্য, ভবিষ্যতের ভূত এবং অপরাজিত। কিন্তু তাঁর সিনেমা যত প্রশংসা কুড়িয়েছে, ততই জড়িয়েছে বিতর্কেও। বিশেষ করে ‘ভবিষ্যতের ভূত’ মুক্তির সময় একাধিক হলে ছবির প্রদর্শন হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সে সময় প্রকাশ্যেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন অনীক। তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন, কার নির্দেশে সিনেমা বন্ধ করা হচ্ছে।
আবার সত্যজিৎ রায়ের জীবন অবলম্বনে তৈরি ‘অপরাজিত’ নিয়েও বিস্তর আলোচনা হয়েছিল। অনেকেই ছবির প্রশংসা করলেও, কেউ কেউ তুলেছিলেন ঐতিহাসিক উপস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন। কিন্তু অনীক বরাবরই নিজের মত ও শিল্পীসত্তার পাশে দৃঢ় ভাবে দাঁড়িয়েছেন।
তাঁর মৃত্যু নিয়েও এখন উঠছে নানা প্রশ্ন। পুলিশ সূত্রে খবর, হিন্দুস্তান পার্কে প্রাক্তন স্ত্রীর বাড়ির ছাদ থেকে পড়ে যান পরিচালক। ঘটনাস্থল থেকে একটি চটি এবং একটি তথাকথিত সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়েছে বলে জানা গিয়েছে, যেখানে লেখা— “আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়।” যদিও এই বিষয়ে এখনও সরকারি ভাবে বিস্তারিত কিছু জানায়নি পুলিশ।
ঘনিষ্ঠদের দাবি, দীর্ঘ দিন ধরেই শারীরিক সমস্যার পাশাপাশি মানসিক অবসাদেও ভুগছিলেন অনীক। কয়েক মাস ধরে নাকি একাই থাকছিলেন তিনি। তাঁর মেয়ে মুম্বইয়ে থাকেন। মৃত্যুর খবর ছড়াতেই হাসপাতালে ভিড় করেন টলিউডের বহু পরিচিত মুখ। হাজির ছিলেন সৃজিত মুখোপাধ্যায়, অরিন্দম শীল, শ্রীলেখা মিত্র-সহ অনেকে। শোকপ্রকাশ করেন রাজনৈতিক মহলের প্রতিনিধিরাও।
মাত্র পাঁচ দিন আগেই ছিল তাঁর জন্মদিন। সেই দিনই সমাজমাধ্যমে পুরনো স্মৃতি ভাগ করে নিয়েছিলেন তিনি। আর তার কয়েক দিনের মধ্যেই এমন পরিণতি— যা এখনও মেনে নিতে পারছেন না তাঁর অনুরাগী থেকে সহকর্মীরা। বাংলা সিনেমা হারাল এক সাহসী, ব্যতিক্রমী এবং স্পষ্টভাষী নির্মাতাকে।
স্ট্রোকের পর কেমন আছেন রাহুল রায়? পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে গুজবে মুখ খুললেন অভিনেতা