রথযাত্রায় নতুন সরকারি উদ্যোগ!
রথযাত্রাকে আরও বড় আকারে উদ্যাপনের লক্ষ্যে একাধিক নতুন উদ্যোগের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার নবান্নে জেলাশাসক ও বিভিন্ন দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি জানান, রাজ্যের ৬০টি ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা কমিটিকে ৫ লক্ষ টাকা করে সরকারি অনুদান দেওয়া হবে। পাশাপাশি, শ্রাবণ মাসে জলযাত্রীদের জন্য বিশেষ পরিষেবার ব্যবস্থাও করবে রাজ্য সরকার। অনুকূল আবহাওয়া থাকলে প্রতি সোমবার হেলিকপ্টার থেকে পুষ্পবৃষ্টিরও পরিকল্পনা করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বহু দশক ধরে যেসব রথযাত্রা স্থানীয় মানুষের ঐতিহ্যের অংশ হয়ে রয়েছে, সেগুলিকে আরও সমৃদ্ধ করতে এই আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। তিনি স্বীকার করেন, প্রথম বছর কমিটির তালিকা তৈরিতে কিছু ত্রুটি থাকতে পারে। তবে সেই ভুলকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার আবেদন জানিয়ে তিনি আশ্বাস দেন, আগামী বছর থেকে আরও নিখুঁত তালিকা তৈরি হবে। তাঁর কথায়, এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে বৃহত্তর ঐতিহ্যে পরিণত হবে। অনুদানের অর্থ পুরনো, বিশেষ করে কাঠের তৈরি রথ সংস্কারের কাজে ব্যবহার করারও অনুরোধ জানান তিনি।
রথযাত্রা উপলক্ষে পূর্ববর্তী সরকারের ভূমিকাকেও কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, আগে সরকারি দায়িত্ব মূলত ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। বর্তমান সরকার উন্নয়ন ও ঐতিহ্য— এই দুই লক্ষ্যকে সামনে রেখে উৎসবে সরাসরি অংশগ্রহণ করতে চায়। সেই উদ্দেশ্যে রাজ্যের ৭৫টি ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রার মেলায় সরকারি সেবাকেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। সেখানে তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের তত্ত্বাবধানে পানীয় জল, বিশ্রাম, প্রাথমিক চিকিৎসা-সহ প্রয়োজনীয় পরিষেবা দেওয়া হবে। এই কাজে পুরসভা, জেলা প্রশাসন, পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট রথযাত্রা কমিটিগুলিও যুক্ত থাকবে।
শুধু রথযাত্রাই নয়, শ্রাবণ মাসে শিবভক্ত জলযাত্রীদের জন্যও বিশেষ পরিকল্পনা করেছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী জানান, শেওড়াফুলি থেকে তারকেশ্বর পর্যন্ত প্রতি পাঁচ কিলোমিটার অন্তর সেবাকেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। একই সঙ্গে জলপাইগুড়ির জল্পেশ মন্দির, ভুটান সীমান্ত সংলগ্ন জয়ন্তী এলাকার একটি মন্দির এবং তারকেশ্বরকে কেন্দ্র করে বিশেষ পরিষেবা চালু হবে। এই কেন্দ্রগুলিতে পুলিশ সহায়তা, অস্থায়ী স্বাস্থ্য শিবির, পানীয় জল, ওআরএস এবং বিশ্রামের ব্যবস্থা থাকবে।
সবচেয়ে আকর্ষণীয় ঘোষণা হল, শ্রাবণ মাসের প্রতি সোমবার জলযাত্রীদের উপর হেলিকপ্টার থেকে গোলাপের পাপড়ি বর্ষণ করা হবে। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলেই এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হবে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, তিনি নিজে ১৪ জুলাই তারকেশ্বরে গিয়ে শ্রাবণী মেলার উদ্বোধন করবেন।
এ ছাড়াও তিনি জানান, বাজেটে তীর্থক্ষেত্র সার্কিট গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। রাজ্যের প্রাচীন মঠ, মন্দির ও ঐতিহাসিক ধর্মীয় স্থানের সংরক্ষণ ও সংস্কারের জন্য ১,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি ভারত সেবাশ্রম সংঘ পরিচালিত হাসপাতালগুলিকে আয়ুষ্মান ভারতের আওতায় আনা হয়েছে এবং স্বামী বিবেকানন্দের জন্মস্থান সিমলা স্ট্রিটের উন্নয়নের জন্য ৫ কোটি টাকার কর্পাস ফান্ড দেওয়ার সিদ্ধান্তও নিয়েছে সরকার।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?