ব্রায়ান জনসন
বয়সের চাকা উল্টো দিকে ঘোরানো এবং বার্ধক্যকে হারানোর আকাঙ্ক্ষা আমাদের সকলের মনেই আছে। বিশেষত, আমেরিকার কোটিপতি ব্রায়ান জনসনের ক্ষেত্রে এই ইচ্ছা যেন নতুন এক মাত্রা পেয়েছে। তিনি জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত যুবক হিসেবে থাকতে চান। এই লক্ষ্য পূরণের জন্য তিনি যা করছেন, তা সত্যিই অবাক করা।
জনসন, যিনি ৪৬ বছর বয়সী, বছর প্রতি ১৬ কোটি টাকা খরচ করে চলছেন একটি বিশেষ চিকিৎসা পদ্ধতির উপর। তিনি বার্ধক্য রোধ করতে এবং শরীরের বিভিন্ন অংশের কার্যক্ষমতা বাড়াতে প্লাজ়মা থেরাপির উপর নির্ভরশীল। এই থেরাপিতে মূলত “টোটাল প্লাজ়মা এক্সচেঞ্জ” নামক একটি পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে।
এই প্রক্রিয়ায়, তাঁর শরীরের পুরনো প্লাজ়মা পুরোপুরি বের করে দেওয়া হয় এবং তার পরিবর্তে দাতার প্লাজ়মা অথবা বিকল্প তরল দিয়ে সেই অভাব পূরণ করা হয়। প্রথমে, তিনি তাঁর ১৭ বছর বয়সী ছেলের প্লাজ়মা গ্রহণ করেছিলেন। এরপর থেকে তাঁর চিকিৎসকের একটি বিশেষ দল সহায়তা করছে।
জনসন এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, বয়স কমাতে তিনি দৈনিক একশোর বেশি ট্যাবলেট খান। তাঁর শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে যন্ত্র স্থাপন করা হয়েছে যা প্রতিনিয়ত তাঁর শারীরিক কার্যকলাপের নজরদারি করে। তিনি আশা করেন, তাঁর চেহারা হবে ১৮ বছরের তরুণের মতো।
সামাজিক মাধ্যমের মাধ্যমে, জনসন সম্প্রতি একটি ছবি পোস্ট করেছেন যেখানে তিনি নিজের প্লাজ়মা হাতে ধরেছেন। এই প্লাজ়মাকে তিনি ‘তরল সোনা’ বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর চিকিৎসকেরা বলেছেন, এত বিশুদ্ধ প্লাজ়মা তাঁরা আগে কখনো দেখেননি। এই থেরাপির উদ্দেশ্যই হল শরীর থেকে দূষিত পদার্থ বের করে আনা।
ব্রায়ান বলেন, “আমার শরীরে টক্সিন থাকার কথা নয় কারণ আমি অত্যন্ত কঠোর ডায়েট অনুসরণ করি।” এর ফলে, তাঁর প্লাজ়মা এতটাই বিশুদ্ধ ছিল যে চিকিৎসক সেই প্লাজ়মা ফেলে দিতে রাজি হননি। তিনি এমনকি নিজের বাবাকেও এক লিটার প্লাজ়মা দান করেছেন, যার ফলে তাঁর বাবার বয়স ২৫ বছর কমে গিয়েছিল বলে জনসন দাবি করেছেন।
ওষুধের পাশাপাশি ব্রায়ান স্বাস্থ্যকর খাবারেও নজর রাখেন। প্রাতরাশে তিনি খান গ্রিন জায়েন্ট স্মুদি, যা কোলাজেনের মতো উপাদানে ভরা থাকে। এই সব কিছুর মধ্য দিয়ে, তিনি বার্ধক্যকে রুখতে এবং যুবত্বকে ধরে রাখতে চেষ্টা করছেন।
জনসনের এই উদ্ভট অভিযান প্রকৃতপক্ষে বার্ধক্য রোধে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সম্ভাবনার একটি উদাহরণ। তবে প্রশ্ন остается, আসলে কি এ ধরনের চিকিৎসা কার্যকরী হবে? অথবা এটি একটি বিলাসিতা ছাড়া কিছুই নয়? এ নিয়ে বিজ্ঞানীদের মতামত ও গবেষণা চলমান রয়েছে।