যৌন হেনস্থার অভিযোগে জেলে বন্দি বাবা, কটাক্ষের শিকার কন্যা, ঘর থেকে উদ্ধার ঝুলন্ত দেহ

যৌন হেনস্থার অভিযোগে জেলে বন্দি বাবা বিধাননগর কমিশনারেটের লেক টাউন থানার একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা সম্প্রতি এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। অভিযোগ, এক কিশোরীকে তার বাবার বিরুদ্ধে পকসো মামলার পর থেকে মানসিক…

December 4, 2024
0 min read

যৌন হেনস্থার অভিযোগে জেলে বন্দি বাবা

বিধাননগর কমিশনারেটের লেক টাউন থানার একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা সম্প্রতি এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। অভিযোগ, এক কিশোরীকে তার বাবার বিরুদ্ধে পকসো মামলার পর থেকে মানসিক নিগ্রহ এবং কটাক্ষের শিকার হতে হয়েছে। তার বাবাকে যৌন হেনস্থার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় এবং জেলে পাঠানো হয়। এরপর থেকেই ওই কিশোরীকে তার প্রতিবেশীরা এবং স্কুলের সহপাঠীরা নানা ধরনের টিটকিরি ও কটাক্ষ করতে থাকে। ফলে, অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়ে ওই মেয়ে, এবং গত মঙ্গলবার, বাড়ির বন্ধ ঘর থেকে উদ্ধার হয় তার ঝুলন্ত দেহ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ মনে করছে, এটি আত্মহত্যার ঘটনা।

এই ঘটনা ঘটেছে বিধাননগর কমিশনারেটের লেক টাউন থানা এলাকায়, যেখানে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। দীর্ঘ সময় ধরে মৃতার দেহ আটকিয়ে রেখে এলাকার মানুষ প্রতিবাদ জানায় এবং পুলিশের কাছে মৃতার বাবাকে জেল থেকে মুক্তির দাবি জানায়। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পুলিশ মৃতার দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

পকসো মামলায় বাবা গ্রেফতার, মেয়েটি হয়ে ওঠে কটাক্ষের শিকার

এলাকায় গুজব ছড়ায় যে কিশোরীটির বাবা পকসো মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে প্রতিবেশী ও সহপাঠীরা তাকে ‘ধর্ষকের মেয়ে’ বলে গঞ্জনা দিতে থাকে। এমনকি, রাস্তায় বেরোলেও তাকে শুনতে হতো বিভিন্ন ধরনের অশালীন মন্তব্য। কালীপুজোর পর থেকে এই মানসিক নিগ্রহ ক্রমাগত বাড়তে থাকে, যার ফলে কিশোরীটি বিষণ্ণতায় ভুগছিল। তার মায়ের দাবি, একদিন মেয়ে তাকে ফোন করে জানিয়েছিল যে সে বাড়ি ফিরে এসেছে, কিন্তু পরে বারবার ফোন করা সত্ত্বেও তার সাড়া পাওয়া যায়নি। অবশেষে প্রতিবেশী একজনের মাধ্যমে ঘরের দরজা ভেঙে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং মৃতদেহ উদ্ধার করে।

বিক্ষোভের মুখে প্রশাসন

ঘটনার পরেই এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশকে ঘিরে বিক্ষোভ শুরু করে। তারা দাবি করে, মৃতার বাবা যদি জেলে বন্দি থাকে, তবে তাকে মুক্তি দেওয়া উচিত। তারা এও অভিযোগ করে যে, সোমবার মেয়ে তার বাবার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিল জেলে, সেখান থেকে ফেরার পর তার সহপাঠীরা তাকে আবার ‘ধর্ষকের মেয়ে’ বলে কটাক্ষ করেছিল। মৃতার মা জানান, “আমার স্বামী জেলে বন্দি, আমি একা সংসার চালাচ্ছি। তার মধ্যে আমার বড় মেয়ে চলে গেল।”

প্রতিবেশীদের মারধর

এদিন সন্ধ্যার পর, মামলাকারী পরিবারের সদস্যদের দিকে প্রতিবেশী মহিলারা আক্রমণ করে এবং প্রকাশ্যে তাদের মারধর শুরু করে। সেই সময়, মৃতার মা এবং তার সহায়কদেরও মারধর করা হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্তদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

পুলিশি তদন্ত ও সামগ্রিক পরিস্থিতি

পুলিশ জানিয়েছে, কিশোরীটির বাবার বিরুদ্ধে পকসো মামলায় অভিযোগ দায়ের হয়েছিল, যার পরিপ্রেক্ষিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তবে, মৃতার পরিবার এবং প্রতিবেশীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, পকসো মামলার অভিযোগকারিণী এবং তার পরিবার, এমনকি প্রতিবেশীও কিশোরীটিকে মানসিকভাবে চাপে রেখেছিল এবং তাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করেছে। এর ফলে মেয়েটি মানসিক অবসাদে ভুগতে থাকে, যা সম্ভবত তার মৃত্যুর কারণ হতে পারে।

এখন, পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতে আরও তথ্য সংগ্রহ করার চেষ্টা করছে। পুলিশ এবং প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, কিন্তু এলাকার মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা এখনও বিদ্যমান।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *