যুবভারতীর জেনারেটর থেকে আইএফএ বৈঠক— স্বরূপ বিশ্বাসকে ঘিরে বিস্ফোরক অভিযোগ অনির্বাণ দত্তের

যুবভারতীর জেনারেটর থেকে আইএফএ বৈঠক! প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী Aroop Biswas-এর ভাই এবং Indian Football Association-এর সহ-সভাপতি Swarup Biswas গ্রেফতার হওয়ার পর বাংলার ফুটবল প্রশাসনে নতুন বিতর্কের সূচনা হয়েছে। আইএফএ-র সচিব Anirban…

June 6, 2026
1 min read

যুবভারতীর জেনারেটর থেকে আইএফএ বৈঠক!

প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী Aroop Biswas-এর ভাই এবং Indian Football Association-এর সহ-সভাপতি Swarup Biswas গ্রেফতার হওয়ার পর বাংলার ফুটবল প্রশাসনে নতুন বিতর্কের সূচনা হয়েছে। আইএফএ-র সচিব Anirban Dutta একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন স্বরূপ এবং তাঁর ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে।

যুবভারতীর জেনারেটর নিয়েও ‘সিন্ডিকেট’!

অনির্বাণের অভিযোগ, Vivekananda Yuba Bharati Krirangan-এ খেলা আয়োজন করতে গেলে আয়োজকদের নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর কাছ থেকেই জেনারেটর ভাড়া নিতে বাধ্য করা হত।

তাঁর দাবি, স্টেডিয়ামে সরকারের নিজস্ব চারটি জেনারেটর থাকা সত্ত্বেও সেগুলি ব্যবহার করা হতো না। পরিবর্তে একটি নির্দিষ্ট বেসরকারি উৎস থেকে জেনারেটর ভাড়া নিতে হত, এবং East Bengal FC, Mohun Bagan Super Giant ও আইএফএ— সকলকেই একই পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়েছে।

আইএফএ-তে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল স্বরূপের পদ?

অনির্বাণের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে তিনি সচিব নির্বাচিত হওয়ার সময় স্বরূপকে সহ-সভাপতি হিসেবে রাখার ক্ষেত্রে তৎকালীন ক্রীড়া দফতরের চাপ ছিল।

তাঁর কথায়, বাংলার ক্রীড়া প্রশাসন সরকারের সহযোগিতা ছাড়া পরিচালনা করা কঠিন। সেই কারণেই তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রীর “অনুরোধ” মেনে নেওয়া হয়েছিল।

বৈঠক ভেস্তে দেওয়ার চেষ্টা, চিঠি ও মামলার অভিযোগ

আইএফএ সচিব আরও অভিযোগ করেছেন যে, স্বরূপের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন গভর্নিং বডির সদস্য নিয়মিতভাবে সংস্থার কাজে বাধা সৃষ্টি করতেন। তাঁর দাবি, অপ্রয়োজনীয় চিঠি, মামলা এবং বৈঠকে অশান্তি সৃষ্টি করে প্রশাসনিক কাজ ব্যাহত করা হয়েছে।

বিশেষ করে একটি গভর্নিং বডি বৈঠকে ডিজিটাল ডেটা ব্যবস্থাপনা (CMS) নিয়ে আলোচনা চলাকালীন কয়েকজন প্রতিনিধি হট্টগোল করে আলোচনা বন্ধ করার চেষ্টা করেছিলেন বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

স্পনসর ও কোচ নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ

অনির্বাণের দাবি, আইএফএ-র সম্ভাব্য স্পনসরদের নিরুৎসাহিত করার চেষ্টা করা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, কোচ নিয়োগের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে বেছে নেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়।

তাঁর মতে, যদি আগে থেকেই নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয় কে কোচ হবেন, তাহলে কোচেস কমিটির অস্তিত্বেরই কোনও অর্থ থাকে না।

মুখ্যমন্ত্রীকে অভিযোগ জানানো হয়নি কেন?

এই প্রশ্নের উত্তরে অনির্বাণ জানান, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর বৈঠকগুলি ছিল সম্পূর্ণ আনুষ্ঠানিক। সেই মঞ্চে ক্রীড়ামন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা শোভনীয় হত না। পাশাপাশি তিনি আশঙ্কা করেছিলেন, অভিযোগের খবর প্রকাশ্যে এলে আইএফএ-র প্রশাসনিক কাজকর্ম আরও জটিল হয়ে উঠতে পারত।

স্বরূপকে পদ থেকে সরানো হবে?

বর্তমানে স্বরূপ আইএফএ-র সহ-সভাপতি পদে রয়েছেন। তবে অনির্বাণ জানিয়েছেন, তাঁকে সরানোর বিষয়ে তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। আইনি প্রক্রিয়া এবং সংবিধান অনুযায়ী পদক্ষেপ করা হবে।

তিনি জানান, নতুন All India Football Federation সংবিধানের খসড়া এসেছে এবং আইন কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

নতুন সরকারের দিকে তাকিয়ে আইএফএ

অনির্বাণ আশা প্রকাশ করেছেন যে নতুন ক্রীড়ামন্ত্রী Nisith Pramanik বাংলার ফুটবলের উন্নয়নে আরও সক্রিয় ভূমিকা নেবেন। তিনি ইতিমধ্যেই সাক্ষাতের জন্য আবেদন করেছেন এবং ভবিষ্যতে রাজ্যের ফুটবল অবকাঠামো ও প্রশাসনিক উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করতে চান।

স্বরূপ বিশ্বাসকে ঘিরে ওঠা এই অভিযোগগুলি এখনও প্রমাণিত নয়। তবে তাঁর গ্রেফতারির পর ফুটবল প্রশাসনের অন্দরে জমে থাকা বহু ক্ষোভ ও বিতর্ক প্রকাশ্যে চলে এসেছে বলেই মনে করছেন ক্রীড়া মহলের একাংশ।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *