যুদ্ধের আবহ কাটিয়ে বিশ্বকাপ মঞ্চে ইরান!
রাজনৈতিক উত্তেজনা, ভিসা জটিলতা, সমর্থকদের বিক্ষোভের পরিকল্পনা— সব মিলিয়ে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেই বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করতে চলেছে ইরান। আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের সংঘাত প্রশমিত হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে, আর সেই আবহেই আমেরিকার মাটিতে পা রেখেছে ইরানের ফুটবল দল।
বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে নিউ জিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে এশিয়ার দেশটি। তবে মাঠে নামার আগেই একাধিক সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাদের। ইরানের প্রধান কোচ আমির ঘালেনোয়েই স্বীকার করেছেন, প্রস্তুতির ক্ষেত্রে নানা বাধার কারণে দলের উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।
আমেরিকায় পৌঁছে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, ভিসা পেতে দেরি হওয়ায় অন্য দলগুলোর তুলনায় অনেক পরে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি শুরু করতে হয়েছে তাঁদের। শুধু তাই নয়, নির্ধারিত শিবিরও বদলাতে হয়েছে, যা ফুটবলারদের প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলেছে।
আমির বলেন, “ভিসা সংক্রান্ত সমস্যার কারণে আমরা অনেকটা পিছিয়ে পড়েছি। শিবির বদলানোর ফলে পরিকল্পনাতেও পরিবর্তন আনতে হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই এতে খেলোয়াড়দের উপর চাপ তৈরি হয়েছে। তবে আমরা এখানে ফুটবল খেলতে এসেছি। মাঠের বাইরের বিষয় নিয়ে মাথা ঘামাতে চাই না।”
বিশ্বকাপের আগে থেকেই আমেরিকার সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক নিয়ে নানা বিতর্ক দেখা গিয়েছে। প্রথমে ইরানের প্রস্তুতি শিবির আমেরিকায় হওয়ার কথা থাকলেও পরে তা সরিয়ে নেওয়া হয় মেক্সিকোতে। পাশাপাশি ইরানি সমর্থকদের জন্য বরাদ্দ কিছু টিকিট বাতিল হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই নিউ জিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচ চলাকালীন স্টেডিয়ামের বাইরে বিক্ষোভের পরিকল্পনা করেছেন কিছু ইরানি সমর্থক। ফলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করা হয়েছে। আয়োজকদের তরফে পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে।
তবে কোচ আমির স্পষ্ট জানিয়েছেন, ফুটবলকে রাজনীতির সঙ্গে মেশাতে চান না তিনি। তাঁর কথায়, “আমরা রাজনীতিবিদ নই। ফুটবল এবং রাজনীতি আলাদা বিষয়। আমাদের কাজ মাঠে নিজেদের সেরাটা দেওয়া।”
ইরানের তারকা ফরোয়ার্ড মেহদি তারেমিও একই সুরে কথা বলেছেন। তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, শুধু ইরান নয়, আরও অনেক দেশই এবারের বিশ্বকাপে নানা প্রশাসনিক সমস্যার মুখে পড়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি সোমালিয়ার এক রেফারির আমেরিকায় প্রবেশাধিকার না পাওয়ার ঘটনাও উল্লেখ করেন।
তারেমি বলেন, “চাপ অবশ্যই আছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে খেলতে এলে সেই চাপ সামলানোর মানসিকতা থাকতেই হয়। আমরা এখন শুধু ম্যাচের দিকেই মনোযোগ দিতে চাই।”
সব প্রতিকূলতার মধ্যেও ইরান শিবিরে আত্মবিশ্বাসের অভাব নেই। কোচের বিশ্বাস, সময় কম পেলেও তাঁর দল কঠিন পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে জানে। বিশ্বকাপের মঞ্চে জয় দিয়েই অভিযান শুরু করার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে ইরান।
রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থেকেও ফুটবলেই মন রাখতে চাইছে দলটি। এখন দেখার, মাঠের লড়াইয়ে তারা কতটা সফল হয়।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?