মোদীর উপস্থিতিতে ভারত-অস্ট্রেলিয়ার ঐতিহাসিক চুক্তি!
ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার সম্পর্ক আরও এক ধাপ এগোল। জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সরবরাহ, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং উন্নত প্রযুক্তি বিনিময়— একাধিক ক্ষেত্রে বৃহস্পতিবার গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষর করল দুই দেশ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজের উপস্থিতিতে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এই সমঝোতাগুলি চূড়ান্ত হয়।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ঘোষণা হল, অস্ট্রেলিয়া এবার ভারতকে ইউরেনিয়াম সরবরাহ করবে। অস্ট্রেলিয়া সরকারের দাবি, ভারতের বেসামরিক পরমাণু বিদ্যুৎ কর্মসূচিকে আরও শক্তিশালী করাই এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য। প্রধানমন্ত্রী মোদীও জানিয়েছেন, এই চুক্তির ফলে অস্ট্রেলিয়া থেকে ভারতে ইউরেনিয়াম আমদানির পথ আরও সহজ হবে এবং দেশের পরিচ্ছন্ন জ্বালানি কর্মসূচি নতুন গতি পাবে।
দুই দেশের মধ্যে শুধু জ্বালানি নয়, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেও সহযোগিতা আরও গভীর করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। কৌশলগত সামরিক সমন্বয়, সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার, অত্যাবশ্যকীয় খনিজের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই সফরের অন্যতম কৌশলগত লক্ষ্য হল ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চিনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের মোকাবিলা করা। ভারত, অস্ট্রেলিয়া, আমেরিকা এবং জাপানকে নিয়ে গঠিত ‘কোয়াড’ জোট ইতিমধ্যেই এই অঞ্চলে নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ২০২০ সালে লাদাখ সংঘর্ষের পর ভারত মহাসাগরে অনুষ্ঠিত ‘মালাবার’ নৌ-মহড়ায় অস্ট্রেলিয়ার অংশগ্রহণও দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দিয়েছিল।
সম্প্রতি দুই দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে ‘জয়েন্ট মেরিটাইম সিকিউরিটি কোলাবরেশন রোডম্যাপ’ চূড়ান্ত হয়েছে, যার লক্ষ্য ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
বিশ্বের প্রায় অর্ধেক সামুদ্রিক বাণিজ্য এই ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল দিয়ে সম্পন্ন হয়। ফলে এই অঞ্চলের নিরাপত্তা শুধু ভারত বা অস্ট্রেলিয়ার নয়, আন্তর্জাতিক অর্থনীতির কাছেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষিণ ও পূর্ব চিন সাগরে চিনের সামরিক উপস্থিতি এবং আঞ্চলিক দাবি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ প্রকাশ করছে কোয়াডভুক্ত দেশগুলি।
বিশ্লেষকদের মতে, চিনের ‘স্ট্রিং অব পার্লস’ কৌশলের মাধ্যমে ভারত মহাসাগর ঘিরে বিভিন্ন বন্দরে তাদের প্রভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় ভারত ও অস্ট্রেলিয়া উভয়েরই কৌশলগত উদ্বেগ বেড়েছে। জিবুতি, পাকিস্তানের গ্বদর, শ্রীলঙ্কার হাম্বানটোটা এবং মায়ানমারের কিয়াউকপিউ-সহ একাধিক বন্দরে চিনের উপস্থিতি ভবিষ্যতের নিরাপত্তা সমীকরণকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।
এই প্রেক্ষাপটে ভারত-অস্ট্রেলিয়ার নতুন চুক্তিগুলি শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেই নয়, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষেত্রেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?