মেয়াদ উত্তীর্ণ স্যালাইন!
৬২ বছরের মানসী দে-কে ডেক্সট্রোস স্যালাইন দেওয়ার পর বুকে জ্বালা অনুভব হয় বলে অভিযোগ। তাঁর ছেলে বিশ্বজিৎ দে স্যালাইনের মেয়াদ পরীক্ষা করে সেটি মেয়াদোত্তীর্ণ বলে দাবি করেন।
তদন্তে যা যা দেখা হচ্ছে
- স্যালাইন স্টকের রেজিস্টার ও সরবরাহের নথি
- মেয়াদোত্তীর্ণ বোতল স্টোরে কী ভাবে রইল
- ওয়ার্ডে থাকা অন্যান্য স্যালাইনের অবস্থা
- চিকিৎসক, নার্স ও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বক্তব্য
- রোগিণী ও তাঁর পরিবারের অভিযোগ
এখন কী হবে?
- প্রাথমিক রিপোর্ট বৃহস্পতিবারের মধ্যেই জমা পড়তে পারে।
- দোষ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
- স্টোর ব্যবস্থাপনা ও মেয়াদ যাচাই প্রক্রিয়াও খতিয়ে দেখা হবে।
উপরের সারাংশে স্বাস্থ্য ভবনের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ, অভিযোগের কেন্দ্রীয় বিষয় এবং তদন্তের পরবর্তী ধাপ একসঙ্গে দেখানো হয়েছে।
ঘটনার সংক্ষিপ্তসার
মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে এক রোগিণীকে মেয়াদ উত্তীর্ণ স্যালাইন দেওয়ার অভিযোগ সামনে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে স্বাস্থ্য ভবন। বৃহস্পতিবারই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট তলব করা হয়েছে এবং স্টোররুম ও স্যালাইন মজুত ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে একটি বিশেষ প্রতিনিধি দল পাঠানো হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ৬২ বছরের মানসী দে সিসিইউ-তে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তাঁর ছেলে বিশ্বজিৎ দে দাবি করেছেন, মাকে ডেক্সট্রোস স্যালাইন দেওয়ার পর বুকে জ্বালা অনুভব হয়। পরে তিনি স্যালাইন বোতলের মেয়াদ পরীক্ষা করে দেখেন সেটি মেয়াদোত্তীর্ণ। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ওয়ার্ডে এমন আরও কয়েকটি মেয়াদোত্তীর্ণ স্যালাইনের বোতল ছিল।
স্বাস্থ্য ভবনের পদক্ষেপ
- হাসপাতালের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে।
- স্টোররুম পরিদর্শনে পাঠানো হয়েছে প্রতিনিধি দল।
- দলটি চিকিৎসক, নার্স ও কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেছে।
- রোগিণী ও তাঁর পরিবারের বক্তব্যও নেওয়া হয়েছে।
- প্রাথমিক রিপোর্ট বৃহস্পতিবারের মধ্যেই জমা পড়তে পারে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্য
“মেয়াদ উত্তীর্ণ জিনিস বাতিল করতে হবে। স্বাস্থ্য আধিকারিক তা না করলে স্বাস্থ্য দফতর ব্যবস্থা নেবে।”
তিনি আরও জানান, গত বছরের স্যালাইন-সংক্রান্ত ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের আরও সতর্ক থাকার প্রয়োজন ছিল।
তদন্তে কী কী দেখা হচ্ছে
- স্যালাইন স্টকের খাতা ও রেজিস্টার
- সরবরাহ ও মেয়াদ যাচাইয়ের প্রক্রিয়া
- ওয়ার্ডে থাকা অন্যান্য স্যালাইনের অবস্থা
- দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ও নার্সদের ভূমিকা
কেন বিষয়টি এত গুরুত্বপূর্ণ?
মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতেও স্যালাইন-কাণ্ডে একাধিক প্রসূতি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন এবং মৃত্যু নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সেই ঘটনার পর সিআইডি তদন্ত, সাসপেনশন এবং স্বাস্থ্য ভবনের বিশেষ নজরদারি হয়েছিল। ফলে নতুন এই অভিযোগকে প্রশাসন অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।
মূল কথা
এখনও তদন্ত শেষ হয়নি এবং স্যালাইনটি সত্যিই মেয়াদোত্তীর্ণ ছিল কি না, তা সরকারি রিপোর্টেই স্পষ্ট হবে। তবে অভিযোগ সামনে আসার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই স্বাস্থ্য ভবনের তদন্ত ও স্টোর পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত থেকে বোঝা যাচ্ছে, প্রশাসন বিষয়টিকে অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবেই দেখছে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?