মেক্সিকোকে হারিয়ে আবেগে ভাসলেন কেন-বেলিংহ্যাম!
আজ়তেকা স্টেডিয়ামে ইতিহাস গড়েছে ইংল্যান্ড। টানটান উত্তেজনায় ভরা ম্যাচে ৩-২ গোলে মেক্সিকোকে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে থমাস টুখেলের দল। ম্যাচের নায়ক জুড বেলিংহ্যাম ও হ্যারি কেন। তবে জয়ের পর সংবাদমাধ্যমের সামনে এসে দু’জনেরই একই অনুভূতি— এতটা লড়াইয়ের পর যেন ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন তাঁরা।
ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেন বলেন, মাঠে এত চিৎকার করেছেন এবং সতীর্থদের এত উৎসাহ দিয়েছেন যে এখন তাঁর গলা দিয়েই আর ঠিকমতো আওয়াজ বেরোচ্ছে না। কেনের কথায়, পুরো ম্যাচটাই ছিল রুদ্ধশ্বাস। শেষ বাঁশি বাজার পর উদ্যাপন করতে করতে গান গেয়েছেন দলের সবাই। সেই আবেগ আর পরিশ্রমের ফলেই এখন তিনি প্রায় কথা বলতে পারছেন না।
পরে আরও একটি সাক্ষাৎকারে কেন জানান, শারীরিকভাবেও তিনি সম্পূর্ণ ক্লান্ত। তাঁর ভাষায়, “কথা বলার শক্তিও নেই। শরীরে আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। এই জয় পেতে আমাদের সবটুকু উজাড় করে দিতে হয়েছে।”
একই রকম আবেগ ধরা পড়েছে জুড বেলিংহ্যামের গলাতেও। ম্যাচে জোড়া গোল করে ইংল্যান্ডকে জয়ের ভিত গড়ে দেওয়া এই তরুণ মিডফিল্ডার বলেন, ব্যক্তিগত সাফল্যের চেয়ে দলের লড়াইটাই তাঁর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কঠিন পরিস্থিতিতে সবাই যেভাবে একে অপরের পাশে দাঁড়িয়েছে, সেটাই এই জয়ের আসল কারণ।
বেলিংহ্যামের কথায়, “এই মুহূর্তে ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না। প্রত্যেক ফুটবলারের অবদান ছিল অসাধারণ। আমরা একসঙ্গে রক্ষণ সামলেছি, সুযোগ তৈরি করেছি, গোল করেছি এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দল হিসেবে লড়াই চালিয়ে গেছি। এই ঐক্যই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।”
ইংল্যান্ডের সামনে চ্যালেঞ্জটা মোটেও সহজ ছিল না। বিশ্বকাপে আজ়তেকা স্টেডিয়ামে এর আগে কখনও হারেনি মেক্সিকো। ঘরের মাঠে হাজার হাজার সমর্থকের সমর্থনও ছিল তাদের সঙ্গে। শুরু থেকেই হ্যারি কেনকে কার্যত ঘিরে রেখেছিলেন মেক্সিকোর ডিফেন্ডারেরা। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আক্রমণের দায়িত্ব তুলে নেন বেলিংহ্যাম।
প্রথমার্ধেই মাত্র ৯৮ সেকেন্ডের ব্যবধানে দুটি গোল করে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন তিনি। বিরতির আগে একটি গোল শোধ করে মেক্সিকো। দ্বিতীয়ার্ধে ইংল্যান্ড ১০ জনে নেমে এলেও লড়াই থামায়নি। পরে পেনাল্টি থেকে গোল করেন কেন। যদিও মেক্সিকোও পেনাল্টি থেকে আরও একটি গোল শোধ করে, শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডের রক্ষণ ভাঙতে পারেনি।
শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই ইংল্যান্ড শিবিরে শুরু হয় উল্লাস। এই কঠিন লড়াইয়ের জয় শুধু কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার টিকিটই দেয়নি, দলের আত্মবিশ্বাসও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। শেষ আটে এবার ইংল্যান্ডের সামনে আরও কঠিন পরীক্ষা— প্রতিপক্ষ আর্লিং হালান্ডের নরওয়ে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?